ইরানে সামরিক হামলা, অর্থনৈতিক চাপ কিংবা অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে দ্রুত বদলে দেবে বলে যারা আশা করেছিলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ তাদের সেই ধারণাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলের কেন্দ্রে ছিল একটি ধারণা। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ, সামরিক চাপ এবং ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ একসময় ইরানিদের রাজপথে নামাবে এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার পতন ঘটাবে।
কিন্তু কয়েক মাসের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, বাস্তবতা এত সরল নয়। বরং প্রতিটি নতুন হামলা ইরানের শাসকদের হাতে দমন-পীড়ন বাড়ানোর নতুন যুক্তি তুলে দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিরোধিতা, প্রতিবাদ এবং সরকারবিরোধী তৎপরতাকে জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করে গ্রেপ্তার, মৃত্যুদণ্ড ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা হচ্ছে। নিবন্ধটির মূল বক্তব্য হলো, ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যেই এমন একটি মতবাদ গেঁথে আছে, যা শাসনব্যবস্থা রক্ষার জন্য জনগণের ওপর চূড়ান্ত দমন এবং রাষ্ট্রের সব সম্পদ ব্যবহারের অনুমতি দেয়।
শেষকৃত্যের মাঝেও থামেনি ফাঁসির মঞ্চ
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রথম দফার বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তাঁর শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা যখন শেষের দিকে, তখন ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে আবারও বোমাবর্ষণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল।
একদিকে শোকানুষ্ঠান, অন্যদিকে নতুন হামলা। কিন্তু এই দুই ঘটনার মধ্যেও যে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম থামেনি, সেটি হলো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা। সম্প্রতি রাজপথ থেকে আটক বিক্ষোভকারী এবং বহু বছর ধরে কারাবন্দী রাজনৈতিক বন্দীদের দ্রুত মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আনে। ইরানের শাসনব্যবস্থা বহিরাগত হামলাকে দুর্বলতা হিসেবে না দেখে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে। যুদ্ধের সময় সাধারণত কোনো রাষ্ট্র তার ভেতরের বিভাজন সাময়িকভাবে আড়াল করে জাতীয় ঐক্যের কথা বলে। ইরানেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে সেখানে জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বহু দশকের পুরোনো কঠোর রাষ্ট্রীয় মতবাদ।
যে মতবাদ শাসনব্যবস্থাকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রেখেছে
ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি হিসেবে এমন একটি নীতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যেখানে শাসনব্যবস্থা বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপের কঠোরতম শাস্তি দেওয়ার কথা বলা হয়। ক্ষমতা রক্ষার ক্ষেত্রে নমনীয়তার সুযোগ খুবই সীমিত।
এই নীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, রাষ্ট্রব্যবস্থা রক্ষার প্রয়োজন দেখা দিলে শাসকেরা প্রায় যেকোনো ব্যবস্থা নিতে পারেন। এমনকি সেই ব্যবস্থা ধর্মীয় নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলেও রাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব।
১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের অনেক আগে থেকেই খোমেনি ধর্মীয় আইনজ্ঞের অভিভাবকত্বের ধারণা প্রচার করছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর এই মতবাদের প্রকৃত বিস্তার স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
জানুয়ারি ১৯৮৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খামেনিকে লেখা এক চিঠিতে খোমেনি বলেন, ইসলামী রাষ্ট্রের স্বার্থ ইসলামের বিভিন্ন গৌণ বিধানের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিধানের মধ্যে নামাজ, রোজা এবং মক্কায় হজযাত্রাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তী সময়ে এই বিস্তৃত ধারণা ধর্মীয় আইনজ্ঞের নিরঙ্কুশ অভিভাবকত্ব হিসেবে পরিচিতি পায়।
এর অর্থ দাঁড়ায়, রাষ্ট্রব্যবস্থা রক্ষার নামে জনগণের ওপর সর্বাত্মক দমন চালানো এবং রাষ্ট্রের সব সম্পদ ব্যবহার করার একটি মতাদর্শিক ভিত্তি ইরানের কাঠামোর মধ্যেই রয়েছে। কে সর্বোচ্চ নেতা হচ্ছেন কিংবা তাঁর আশপাশে কারা থাকছেন, সেটি বদলালেও মৌলিক নীতিটি অপরিবর্তিত থাকে।
নেতৃত্ব বদলালেও নীতি বদলায় না
ইরানে নতুন প্রজন্মের নেতারা ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে এলেও তাদের আচরণ আগের নেতৃত্বের তুলনায় খুব বেশি আলাদা হবে না বলে বিশ্লেষণে তুলে ধরা হয়েছে। কারণ রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন ব্যক্তি বা প্রজন্মের ওপর নির্ভরশীল নয়। এটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত।
এর একটি বড় উদাহরণ বিপ্লবী আদালত। এসব আদালত মূলত গুপ্তচরবৃত্তির মতো বিশেষ অভিযোগ বিচারের জন্য তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগুলো সরকারবিরোধী মত প্রকাশকারীদের বিচার ও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা স্বাধীন আইনজীবীর সহায়তা পান না। ফলে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং আদালতের স্বাধীনতা নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকে যায়।
রাষ্ট্র যখন সমালোচনাকে অপরাধ এবং বিরোধিতাকে নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে, তখন রাজনৈতিক পরিবর্তনের স্বাভাবিক পথগুলো সংকুচিত হয়ে পড়ে। নির্বাচন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, সংবাদমাধ্যম কিংবা আদালতের মাধ্যমে পরিবর্তনের সুযোগ কমে গেলে জনগণের ক্ষোভ জমতে থাকে। কিন্তু একই সঙ্গে ভয়ও বাড়ে।
যুদ্ধের আগেই বেড়েছিল মৃত্যুদণ্ড
ইরানে মৃত্যুদণ্ডের হার যুদ্ধ শুরুর আগেই দ্রুত বাড়ছিল। মানবাধিকার সংগঠন আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হিসাবে, ২০২৫ সালে দেশটিতে অন্তত ২,১৫৯টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এই সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে অন্তত ৪০টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বিমান হামলা, যুদ্ধ পরিস্থিতি কিংবা পারস্য নববর্ষের সময়ও এই কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।
২৭ মার্চের যুদ্ধবিরতির পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। ইরানবিষয়ক একটি মানবাধিকার সংগঠনের হিসাবে, শুধু জুন মাসেই অন্তত ১০১টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। চলতি বছরে মোট মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা অন্তত ৪১৩।
ইসফাহানের একটি কারাগারেই ৭০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় আছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে অন্তত ২৬ জনকে সম্ভাব্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে নির্জন কারাবাসে নেওয়া হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, সারা দেশে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ব্যক্তির প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশিত হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।
এই পরিসংখ্যানগুলো দেখায়, যুদ্ধ ইরানের দমনব্যবস্থাকে থামাতে পারেনি। বরং যুদ্ধের অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা-ভীতি রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবেশ তৈরি করেছে।
বিক্ষোভ কেন বিপ্লবে পরিণত হলো না
চরম দমন সাধারণত মানুষের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করে। তবে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক চাপ এবং রাজনৈতিক হতাশার সঙ্গে এই দমন যুক্ত হলে তা কখনো কখনো বৃহত্তর প্রতিরোধও সৃষ্টি করতে পারে।
ইরানের বহু নাগরিক সম্পূর্ণ শাসনব্যবস্থা ভেঙে ফেলার পরিবর্তে ব্যবস্থার ভেতরে অর্থবহ সংস্কার চেয়েছিলেন। কিন্তু বছরের পর বছর তাঁদের সেই আশা ভেঙেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর আগে কয়েক হাজার নয়, কয়েক দশ হাজার মানুষ রাজপথে নেমেছিলেন। সরকারের প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত কঠোর।
ইরান সরকার ৩,১১৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে। ইরানি মানবাধিকারকর্মীদের প্রতিষ্ঠিত একটি সংবাদ সংস্থার হিসাবে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৬,০০০-এর বেশি। অন্য কিছু হিসাবে সংখ্যাটি ১৭,০০০ কিংবা ৩৬,৫০০ পর্যন্ত হতে পারে।
এত বড় দমন-পীড়নের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলা শুরু হয়। ধারণা করা হয়েছিল, এই হামলা জনগণের ক্ষোভকে বিপ্লবে রূপ দেবে। কিন্তু বাস্তবে বড় অংশের মানুষ ঘরে থেকে যায়।
এর পেছনে শুধু ভয় কাজ করেনি। ইরান ভেঙে যেতে পারে, দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল বিচ্ছিন্ন হতে পারে এবং দীর্ঘস্থায়ী গৃহসংঘাত শুরু হতে পারে, এমন আশঙ্কাও জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে শাসন পরিবর্তনের দাবির জায়গায় দেশের অখণ্ডতা নিয়ে উদ্বেগ সামনে চলে আসে।
দেশের ভেতরে এবং বাইরে থাকা ইরানিদের মধ্যেও গভীর মতবিরোধ দেখা দেয়। কেউ ক্ষমতার পরিবর্তন চাইলেও বিদেশি সামরিক হামলার মাধ্যমে সেই পরিবর্তনকে সমর্থন করতে পারেননি। আবার কেউ বর্তমান শাসনের বিরোধিতা করেও রাষ্ট্রের ভাঙনের আশঙ্কায় আগের অবস্থান থেকে সরে যান।
ফলে যে মানুষগুলো একসময় শাসনব্যবস্থার অবসান চাইছিলেন, তাঁদের একটি অংশ অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামোর প্রতিই আবার নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।
খারাপ ও আরও খারাপের মধ্যে নির্বাচন
ইরানিদের এই মনোভাবকে দুর্বলতা হিসেবে দেখলে পরিস্থিতির প্রকৃত ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে না। এটি বরং খারাপ এবং আরও খারাপের মধ্যে একটি হিসাবভিত্তিক নির্বাচন।
বর্তমান শাসনের অধীনে দমন, অর্থনৈতিক সংকট, মতপ্রকাশের সীমাবদ্ধতা এবং মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর বাস্তবতা রয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্র ভেঙে পড়লে গৃহযুদ্ধ, আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতা, বিদেশি হস্তক্ষেপ এবং দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা ইরানের জনগণের সামনে রয়েছে। ফলে অনেকেই মনে করতে পারেন, বর্তমান পরিস্থিতির মূল্য অনেক বেশি হলেও রাষ্ট্রীয় পতনের মূল্য আরও বেশি হতে পারে।
এই ভয়ই ইরানের শাসনব্যবস্থার জন্য একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষাবলয় তৈরি করছে। সরকার নিজেকে শুধু একটি রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে নয়, রাষ্ট্রীয় ঐক্য ও ভূখণ্ড রক্ষার শেষ আশ্রয় হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ পাচ্ছে।
সামরিক হামলা কার লাভ করছে
ইরানের শাসনব্যবস্থা দুর্বল করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ উল্টো ফল দিতে পারে। প্রতিটি বিমান হামলা সরকারকে নতুন গ্রেপ্তার, নতুন মামলা এবং নতুন মৃত্যুদণ্ডের যুক্তি দিচ্ছে।
বিদেশি হামলার সময় সরকারবিরোধী যেকোনো তৎপরতাকে শত্রুর সহযোগিতা হিসেবে তুলে ধরা সহজ হয়। সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি হয়, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশটি অক্ষত থাকবে কি না।
এ কারণে সামরিক চাপ ইরানের নেতাদের সবচেয়ে কঠোর দমনব্যবস্থা পরিত্যাগে বাধ্য করছে না। বরং সেই দমনব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা প্রমাণের সুযোগ করে দিচ্ছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধ ইরানের শাসনের পতন ঘটানোর পরিবর্তে তার টিকে থাকার সম্ভাবনাই বাড়িয়ে দিচ্ছে।
পরিবর্তনের পথ কোথায়
ইরানের রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে আলোচনায় একটি বিষয় স্পষ্ট। শুধু নেতৃত্ব বদলালেই রাষ্ট্রের চরিত্র বদলাবে না। যে মতবাদ, আদালত, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক কাঠামো দমননীতিকে টিকিয়ে রেখেছে, সেগুলোর পরিবর্তন ছাড়া বাস্তব সংস্কার সম্ভব নয়।
একইভাবে বিদেশি হামলাকে পরিবর্তনের প্রধান উপায় হিসেবে দেখাও বাস্তবসম্মত নয়। হামলা মানুষের ক্ষোভ বাড়াতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার ভয়, রাষ্ট্রভাঙনের আশঙ্কা এবং বিদেশি নিয়ন্ত্রণের সন্দেহও তৈরি করে।
ইরানে পরিবর্তন আসতে হলে জনগণকে এমন একটি বিশ্বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ দেখাতে হবে, যেখানে শাসন পরিবর্তনের অর্থ রাষ্ট্রের পতন নয়, দেশের অখণ্ডতা বিনষ্ট হওয়া নয় এবং দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলাও নয়।
যত দিন পর্যন্ত জনগণের সামনে বিকল্প হিসেবে শুধু বর্তমান দমনমূলক ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় বিপর্যয় থাকবে, তত দিন বড় একটি অংশ নিরাপদ মনে করে পরিচিত ব্যবস্থার কাছেই ফিরে যেতে পারে। আর সেই বাস্তবতাই ব্যাখ্যা করে, প্রচণ্ড চাপ, যুদ্ধ এবং গভীর জনঅসন্তোষের মধ্যেও ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো কেন এখনো টিকে আছে।

