ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনো সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র যদি যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে, তাহলে সেই ঘাঁটিকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেওয়া এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে বি-১ বোমারু বিমান ব্যবহার করেছে। ইরানের দাবি, অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ড বা সামরিক স্থাপনা থেকে যদি তাদের বিরুদ্ধে হামলা পরিচালিত হয়, তাহলে সেই স্থাপনাও সরাসরি সংঘাতের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগেই স্পষ্ট করেছিল যে, দেশের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনে ব্যবহৃত যেকোনো ঘাঁটি তেহরানের দৃষ্টিতে বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। আইআরজিসি সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে যুক্তরাজ্যকে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে সহযোগিতা না করার আহ্বান জানিয়েছে।
ব্রিটেনের সমালোচনা করে আইআরজিসি দাবি করেছে, পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘদিনের অস্থিতিশীলতার পেছনে যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। বিবৃতিতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক নীতি, বিভিন্ন মুসলিম দেশে হস্তক্ষেপ, স্বৈরশাসনকে সমর্থন এবং ফিলিস্তিন সংকটের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রেও যুক্তরাজ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তবে বিবৃতিতে সম্ভাব্য পাল্টা জবাব কীভাবে দেওয়া হবে বা কোন নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি যুক্তরাজ্য সরকারও আইআরজিসির এই বক্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের প্রকাশ্য সতর্কবার্তা শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনাই নয়, বরং যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা মিত্রদেরও সরাসরি নিরাপত্তা হিসাব-নিকাশের মধ্যে নিয়ে আসছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

