ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের রাজধানী এরবিলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে ওই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামোর প্রায় পুরো অংশই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য আরও আধুনিক, দূরপাল্লার এবং অধিক ধ্বংসক্ষম ড্রোন প্রস্তুত রাখার কথাও জানিয়েছে তেহরান।
রোববার (২৬ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা আকরামিনিয়া এসব দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার ফলে এরবিলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং সেগুলোর অনেকগুলো আগের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না।
মুখপাত্রের দাবি, এরবিলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামোর ‘প্রায় পুরোটাই’ ধ্বংস হয়ে গেছে। তাঁর মতে, এই ক্ষয়ক্ষতির ফলে সেখানে অবস্থানরত ইরানবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠীর কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ফলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আকরামিনিয়া আরও বলেন, এরবিলে সীমাবদ্ধ না থেকে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইউরোপ ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলজুড়েও বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতে হওয়া ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে যুক্তরাষ্ট্র এখন বিভিন্ন সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন, যদি আবারও সংঘাত শুরু হয়, তাহলে ইরান তার সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের অবস্থান পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত নেই এবং প্রয়োজন হলে আগের চেয়ে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
মুখপাত্রের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র যত দিন পর্যন্ত সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানের ওপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে, তত দিন পর্যন্ত প্রতিরোধও চলতে থাকবে।
এদিকে ইরান তাদের সামরিক প্রযুক্তি নিয়েও নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে। আকরামিনিয়া জানান, প্রায় ৪০ দিনের যুদ্ধে দেশটির বাহিনী ‘আরাশ-২’ ড্রোন ব্যবহার করেছে। তবে বর্তমানে আরও উন্নত প্রযুক্তির নতুন প্রজন্মের ড্রোন মোতায়েন করা হচ্ছে, যেগুলো আগের তুলনায় বেশি দূরপাল্লার, আরও নির্ভুল এবং অধিক ধ্বংসক্ষম।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই বক্তব্য কেবল সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক বার্তাও। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ভারসাম্য, আঞ্চলিক প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে চলমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই এ ধরনের বক্তব্য সামনে এসেছে।
তবে সামরিক সংঘাতের সময় উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী দেখাতে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে থাকে। তাই ইরানের উপস্থাপিত তথ্যগুলোর স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসার পরই প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

