ভারতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আবারও রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। আন্দোলন স্থগিতের পর গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত মুক্তি দেওয়া না হলে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভের মুখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল সিজেপি। তবে সংগঠনটির অভিযোগ, আন্দোলন প্রত্যাহারের পরও দেশজুড়ে শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অনেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে।
সিজেপি, যেটি ভারতে ‘তেলাপোকা’ নামে পরিচিত, এর আগে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সরকারের জবাবদিহি দাবি করে তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানায়। পরে আন্দোলনে হাজারো শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ যুক্ত হলে তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
আন্দোলনের চাপের মুখে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের ঘোষণা দিলে সিজেপি বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করে। তবে সংগঠনটির দাবি, সরকার তখন আশ্বাস দিয়েছিল যে কোনো বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে বর্তমান বা ভবিষ্যতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়েছিল। কিন্তু এরপরও ১০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির আরেক মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, সরকার যদি চুক্তি অনুযায়ী আটক ব্যক্তিদের মুক্তি না দেয় এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে, তাহলে তারা আবার আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটক রাখা হয়েছে বলে তারা তথ্য পেয়েছে।
এদিকে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইএসএ) সদস্যরাও বিহার পুলিশের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারা গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তি না দিলে নতুন করে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বিহার পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার আগে দায়ের হওয়া মামলাগুলো প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলেও জানিয়েছে তারা। আইএসএর দাবি, আসাম সরকারও এরই মধ্যে মামলা প্রত্যাহার করেছে এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দিয়েছে।
তবে পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে কয়েকটি মামলা হয়েছে। অভিযোগ, গত শুক্রবারের এক সমাবেশে আপত্তিকর পোস্টার প্রদর্শন করা হয়েছিল। ওই সমাবেশে হাজারো মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। পুলিশ এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধেও পুলিশ অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগ, সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি বিতর্কিত কার্টুনচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছিল। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা কয়েকটি পোস্টের বিষয়েও নজরদারি শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ।
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত আপত্তিকর ভাষা ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যযুক্ত কনটেন্ট শনাক্ত করার কাজ চলছে।
আন্দোলনের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রচারণা চালায় সিজেপি সমর্থকেরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও, মিম ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকজন সাংবাদিক, রাজনীতিক ও ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন, সরকারবিরোধী সমালোচনামূলক কিছু পোস্ট দ্রুত সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সিজেপি জানিয়েছে, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলার আইনি লড়াইয়ের খরচ বহনের জন্য তারা একটি আইনি সহায়তা তহবিল গঠন করেছে।
গত মে মাসে ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। পরে ২০ জুলাই বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের অভিযোগ ওঠে। এরপর আন্দোলনটি সরকারবিরোধী বড় আকারের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে রূপ নেয়।
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তও শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, দেশটির সংবিধান নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার দিয়েছে।

