বিশ্বের দুই বৃহৎ শক্তি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতা এখন আর শুধু সামরিক শক্তি, বাণিজ্য কিংবা সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ নেই। আগামী দিনের অর্থনীতি, রাষ্ট্রব্যবস্থা, যোগাযোগ, নিরাপত্তা এবং নাগরিক জীবনের ভিত্তি কোন দেশের প্রযুক্তির ওপর দাঁড়াবে—প্রতিযোগিতার মূল প্রশ্ন ধীরে ধীরে সেটিই হয়ে উঠছে।
চীন গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন দেশে সড়ক, বন্দর, রেলপথ, যোগাযোগব্যবস্থা ও তথ্যপ্রযুক্তির অবকাঠামো নির্মাণে অর্থায়ন করেছে। এখন দেশটি সেই অবকাঠামোর ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর একটি বিস্তৃত প্রযুক্তিব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন মার্কিন বিশ্লেষক প্যাট্রিক এম. ক্রোনিন ও পিনশান লাই।
তাঁদের মতে, চীন শুধু উন্নত কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা বিদেশে বিক্রি করতে চায় না। বরং অর্ধপরিবাহী যন্ত্রাংশ, তথ্য সংরক্ষণব্যবস্থা, মেঘভিত্তিক অবকাঠামো, মূল ভাষা ও তথ্যনির্ভর ব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত মান, ব্যবহারিক সেবা, কর্মী প্রশিক্ষণ এবং পরিচালনানীতি—সবকিছু মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তিবলয় ছড়িয়ে দিতে চাইছে। কোনো দেশ এই বলয়ের যত গভীরে প্রবেশ করবে, ভবিষ্যতে তার পক্ষে অন্য প্রযুক্তিব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া তত কঠিন হতে পারে। এ কারণেই লেখকেরা সম্ভাব্য এই নির্ভরতাকে নতুন ধরনের ‘প্রযুক্তিফাঁদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সড়ক ও বন্দরের পর প্রযুক্তিব্যবস্থা
চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৩ সালে। শুরুতে এর প্রধান পরিচয় ছিল অবকাঠামো নির্মাণ ও অর্থায়ন। চীনা ঋণ ও বিনিয়োগে এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন অংশে সড়ক, রেলপথ, বন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও যোগাযোগব্যবস্থা নির্মিত হয়েছে।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে এই উদ্যোগের পরিধি বদলেছে। ভৌত অবকাঠামোর পাশাপাশি চীন তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ, নজরদারি, অনলাইন লেনদেন, নগর ব্যবস্থাপনা এবং তথ্যকেন্দ্র নির্মাণেও ভূমিকা বাড়িয়েছে। এই ধারার পরিচিত নাম হয়েছে ডিজিটাল সিল্ক রোড।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এরপর ধারাবাহিকভাবে আরও কয়েকটি বৈশ্বিক উদ্যোগ সামনে আনেন। ২০২১ সালে বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ, ২০২২ সালে বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্যোগ, ২০২৩ সালে বৈশ্বিক সভ্যতা উদ্যোগ এবং ২০২৫ সালে বৈশ্বিক শাসন উদ্যোগ ঘোষণা করা হয়। প্রতিটি উদ্যোগের ভাষা আলাদা হলেও এগুলোর ভেতরে চীনের আন্তর্জাতিক প্রভাব বাড়ানোর একটি ধারাবাহিক কাঠামো দেখতে পান বিশ্লেষকেরা।
এখন প্রস্তাবিত বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থা এই ধারায় নতুন মাত্রা যোগ করছে। এর সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারিক কেন্দ্র, উন্মুক্ত প্রযুক্তিমডেল, প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো সহায়তা ও অভিন্ন প্রযুক্তিগত মান যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিষয়টি কেবল একটি নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে চীন এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে পারে, যেখানে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সরকারি দপ্তর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, আর্থিক লেনদেন, নগর ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা ধীরে ধীরে চীনা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
একটি সম্পূর্ণ প্রযুক্তিবলয় কেন গুরুত্বপূর্ণ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের জন্য শুধু একটি কথোপকথনকারী ব্যবস্থা বা কোনো নির্দিষ্ট সফটওয়্যার যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী যন্ত্রাংশ, বিপুল গণনাশক্তি, তথ্যকেন্দ্র, দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, তথ্যভান্ডার, প্রশিক্ষিত কর্মী এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা।
যে দেশ বা প্রতিষ্ঠান এই পুরো ব্যবস্থাটি সরবরাহ করবে, তার প্রভাব শুধু প্রযুক্তি বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। কোন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হবে, কোথায় তা সংরক্ষিত থাকবে, কোন মান অনুসরণ করা হবে এবং কার প্রযুক্তির সঙ্গে তা যুক্ত হতে পারবে—এসব সিদ্ধান্তেও সরবরাহকারী দেশের প্রভাব তৈরি হবে।
ধরা যাক, একটি দেশের সরকারি পরিচয়ব্যবস্থা, ডিজিটাল অর্থপ্রদান, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ পর্যবেক্ষণ, হাসপাতালের তথ্য, শিক্ষাব্যবস্থা এবং বন্দর পরিচালনা একই বিদেশি প্রযুক্তিবলয়ের সঙ্গে যুক্ত। সে ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল হতে পারে।
এই নির্ভরতাকে কাজে লাগিয়ে কোনো দেশ রাজনৈতিক শর্ত আরোপ করবে কি না, সেটি আলাদা প্রশ্ন। কিন্তু নির্ভরতা তৈরি হলে চাপ প্রয়োগের সুযোগ যে বাড়ে, তা অস্বীকার করা কঠিন।
চীনের লাভ কোথায়
চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর কূটনীতি একই সঙ্গে কয়েকটি উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারে।
প্রথমত, বিদেশে বড় বাজার তৈরি হলে চীনা প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর আয় বাড়বে। দেশের অভ্যন্তরে তৈরি যন্ত্রাংশ, সফটওয়্যার ও প্রযুক্তিমডেল আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহৃত হলে সেগুলোর উন্নয়নের জন্য আরও বেশি তথ্য ও অর্থ পাওয়া যাবে।
দ্বিতীয়ত, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি তৈরি হবে। একটি বন্দর বা সড়ক নির্মাণের কাজ একসময় শেষ হয়ে যায়। কিন্তু তথ্যকেন্দ্র, নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রযুক্তিমডেল ও প্রশিক্ষণব্যবস্থা নিয়মিত হালনাগাদ করতে হয়। ফলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক বহু বছর ধরে চলতে পারে।
তৃতীয়ত, চীন নিজস্ব প্রযুক্তিগত মান আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে দিতে পারবে। কোনো মান যত বেশি দেশে ব্যবহৃত হবে, ভবিষ্যতের বাজারে তার গ্রহণযোগ্যতা তত বাড়বে।
চতুর্থত, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চীনের প্রভাব শক্তিশালী হতে পারে। কোনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সরকারি সেবা চীনা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হলে বেইজিংয়ের সঙ্গে বিরোধে জড়ানোর আগে সেই দেশকে বাড়তি হিসাব করতে হতে পারে।
লেখকদের মতে, চীনের এই কৌশল দেশটির প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা, দেশীয় প্রতিষ্ঠানের বাজার সম্প্রসারণ এবং উন্নয়নশীল বিশ্বে দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা—তিনটিকেই এগিয়ে নিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রকে ভাবাচ্ছে চীনের দ্রুত অগ্রগতি
কয়েক বছর আগেও উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে চীনের তুলনায় অনেক এগিয়ে মনে করা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েকটি চীনা প্রযুক্তিমডেল সেই ব্যবধান দ্রুত কমাচ্ছে।
ডিপসিকের অগ্রগতির পর আলিবাবার কুয়েন, ঝিপুর প্রযুক্তিমডেল এবং মুনশট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কিমি কে থ্রি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ব্রিটেনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের একটি মূল্যায়ন অনুযায়ী, শীর্ষ পর্যায়ের প্রযুক্তিমডেলে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের পিছিয়ে থাকার ব্যবধান এক বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে প্রায় ৯ মাস থেকে কমে ৪ থেকে ৫ মাসে নেমেছে।
তবে প্রতিযোগিতাটি শুধু কে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রযুক্তিমডেল তৈরি করছে, তা নিয়ে নয়। কোনো দেশের প্রযুক্তি বিশ্বের বেশি রাষ্ট্র গ্রহণ করছে, কোন মান অনুসরণ করা হচ্ছে এবং পরবর্তী প্রজন্মের প্রকৌশলীরা কোন ব্যবস্থার ওপর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন—দীর্ঘমেয়াদে এসবই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
একটি প্রযুক্তিমডেল কয়েক মাসের মধ্যেই পুরোনো হয়ে যেতে পারে। কিন্তু সরকারি তথ্যভান্ডার, যোগাযোগব্যবস্থা বা বন্দর পরিচালনার প্রযুক্তি একবার স্থাপন করা হলে তা দশকের পর দশক ব্যবহৃত হতে পারে। তাই চীনের প্রকৃত সাফল্য কোনো একটি প্রযুক্তিমডেলের ক্ষমতায় নয়; বরং বিদেশে স্থায়ী প্রযুক্তিবলয় তৈরির সক্ষমতায় নির্ভর করবে।
উন্নয়নশীল দেশগুলো চীনের প্রস্তাবে আগ্রহী কেন
চীনের উদ্যোগকে শুধু রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হিসেবে দেখলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাস্তবতা উপেক্ষিত থেকে যাবে।
অনেক দেশের নিজস্ব তথ্যকেন্দ্র, অর্ধপরিবাহী যন্ত্রাংশ, উন্নত প্রযুক্তিমডেল বা প্রশিক্ষিত জনবল নেই। এসব সক্ষমতা শূন্য থেকে গড়ে তুলতে বিপুল বিনিয়োগ এবং দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। চীন যদি অর্থায়ন, নির্মাণ, প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ একসঙ্গে দেয়, তাহলে প্রস্তাবটি স্বাভাবিকভাবেই আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রযুক্তি অনেক ক্ষেত্রে উন্নত হলেও তা সব দেশের জন্য সাশ্রয়ী বা সহজলভ্য নয়। কঠোর অনুমোদন, নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধ, উচ্চ মূল্য এবং অর্থায়নের অভাব উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোকে বিকল্প খুঁজতে বাধ্য করে।
চীন সাধারণত দ্রুত কাজ শেষ করা, একই ব্যবস্থার মধ্যে অর্থায়ন ও প্রযুক্তি দেওয়া এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন না তোলার সুবিধা দেয়। ফলে বহু সরকার চীনের সহযোগিতাকে তাৎক্ষণিক উন্নয়নের বাস্তব সুযোগ হিসেবে দেখে।
এখানেই যুক্তরাষ্ট্রের বড় সমস্যা। শুধু চীনের প্রযুক্তি গ্রহণের ঝুঁকি তুলে ধরলে হবে না; দেশগুলোকে কার্যকর, সাশ্রয়ী ও দীর্ঘমেয়াদি বিকল্পও দিতে হবে।
ইন্দোনেশিয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ
ইন্দোনেশিয়া সাধারণত চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত না হয়ে ভারসাম্য রক্ষা করতে চায়। তারপরও দেশটি বেইজিংয়ের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্যোগকে দ্রুত সমর্থন জানিয়েছে।
এর পেছনে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। আলিবাবা ও জেডি ডটকমের মতো চীনা প্রতিষ্ঠান ইন্দোনেশিয়ার বড় অনলাইন বাণিজ্যপ্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে। অন্যদিকে হুয়াওয়ে দেশটির পঞ্চম প্রজন্মের যোগাযোগ অবকাঠামোতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
যোগাযোগব্যবস্থার ভিত্তি আগে থেকেই চীনা প্রযুক্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকলে তার ওপর নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেবা যুক্ত করা সহজ হয়। ফলে একটি বিনিয়োগ পরবর্তী বিনিয়োগের পথ তৈরি করে এবং প্রযুক্তিগত নির্ভরতা ধাপে ধাপে গভীর হয়।
তবে ইন্দোনেশিয়ার সিদ্ধান্তকে কেবল চীনের চাপের ফল বলা ঠিক হবে না। দেশটি নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থ, অবকাঠামোগত প্রয়োজন এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ঘাটতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র বিকল্প দিতে ব্যর্থ হলে শুধু সতর্কবার্তা দিয়ে জাকার্তার অবস্থান পরিবর্তন করা কঠিন হবে।
পেরুর চ্যানকাই বন্দর কী বার্তা দেয়
পেরুর চ্যানকাই গভীর সমুদ্রবন্দর চীনের ভৌত অবকাঠামো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ব্যবস্থার সমন্বয়ের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কসকো প্রতিষ্ঠান বন্দরটি নির্মাণ করেছে। সেখানে চীনা প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা স্বয়ংক্রিয় যানবাহন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর মেঘভিত্তিক পরিচালনাব্যবস্থা ব্যবহৃত হচ্ছে।
এ ধরনের বন্দর শুধু পণ্য ওঠানো-নামানোর স্থান নয়। এখানে জাহাজের চলাচল, পণ্যের ধরন, গন্তব্য, পরিবহনের সময়, ব্যবসায়িক লেনদেন এবং আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থা সম্পর্কে বিপুল তথ্য তৈরি হয়।
বন্দরটির নিয়ন্ত্রণকারী মালিকানা এবং তথ্য সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। লেখকদের মতে, চ্যানকাই দেখাচ্ছে কীভাবে একটি ভৌত অবকাঠামোর সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি যুক্ত হয়ে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে।
তবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত প্রতিটি বন্দর নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও ঠিক নয়। মূল প্রশ্ন হলো তথ্য কোথায় যাচ্ছে, কারা তা দেখতে পারছে, স্থানীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ কতটা এবং প্রয়োজন হলে অন্য প্রযুক্তিতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান উদ্যোগ কেন যথেষ্ট নয়
যুক্তরাষ্ট্র অর্ধপরিবাহী যন্ত্রাংশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, উন্নত গবেষণা এবং সহযোগী দেশগুলোর শিল্প উৎপাদন শক্তিশালী করতে কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছে। প্যাক্স সিলিকা, ফোর্জ এবং জেনেসিস মিশনের মতো পরিকল্পনাগুলো সেই প্রচেষ্টার অংশ।
এ ছাড়া এনভিডিয়া, ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, গুগল ও ওরাকলের মতো প্রতিষ্ঠানের কারণে উদ্ভাবনে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সুবিধা রয়েছে।
কিন্তু এসব উদ্যোগের বেশির ভাগই প্রযুক্তি উৎপাদন এবং সরবরাহের দিকটি শক্তিশালী করছে। বিদেশি অংশীদারদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়নব্যবস্থা এখনো তৈরি হয়নি।
একটি উন্নয়নশীল দেশের শুধু উন্নত যন্ত্রাংশ প্রয়োজন হয় না। তাদের অর্থায়ন, বিদ্যুৎ, তথ্যকেন্দ্র, যোগাযোগব্যবস্থা, স্থানীয় ভাষায় প্রযুক্তিমডেল, প্রশিক্ষণ, আইন, নিরাপত্তা এবং পরিচালনাসহায়তাও প্রয়োজন।
চীন যদি পুরো ব্যবস্থাটি একসঙ্গে দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্র শুধু উন্নত যন্ত্রাংশ বিক্রি করতে চায়, তাহলে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্ফুলিঙ্গ উদ্যোগের প্রস্তাব
বিশ্লেষকেরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের উদীয়মান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্ফুলিঙ্গ উদ্যোগকে একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক কৌশলে রূপ দেওয়া উচিত।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সহযোগী দেশগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি প্রযুক্তি না দিয়ে পুরো প্রযুক্তিব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে উন্নত অর্ধপরিবাহী যন্ত্রাংশ, গণনাশক্তি, মেঘভিত্তিক অবকাঠামো, নিরাপদ তথ্যকেন্দ্র, নির্ভরযোগ্য যোগাযোগব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সফটওয়্যার, সাইবার নিরাপত্তা, কর্মী প্রশিক্ষণ, পরিচালনানীতি, প্রযুক্তিগত মান, অর্থায়ন এবং আইনগত সহায়তা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু প্রযুক্তির বিক্রেতা নয়, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হতে হবে।
এই প্রস্তাবের মূল আকর্ষণ হলো প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব। কোনো দেশ যেন চীন বা যুক্তরাষ্ট্র—কোনো একক শক্তির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল না হয়ে নিজস্ব অবকাঠামো পরিচালনা করতে পারে, সেটিই লক্ষ্য হওয়া উচিত।
আসিয়ান কেন প্রতিযোগিতার কেন্দ্র
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক জোট আসিয়ানকে এই কৌশলের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
অঞ্চলটিতে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী, অনলাইন বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন—দুই দেশের সঙ্গেই সদস্যরাষ্ট্রগুলোর গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।
২০২৬ সালে আসিয়ানের সভাপতিত্ব ফিলিপাইনের হাতে এবং বছরের শেষে দায়িত্ব সিঙ্গাপুরের কাছে যাওয়ার কথা। লেখকদের মতে, এই সময় আঞ্চলিক প্রযুক্তি সহযোগিতার জন্য রাজনৈতিক সমর্থন তৈরির উপযুক্ত সুযোগ দিতে পারে।
তবে আসিয়ানের দেশগুলোকে একটি পক্ষ বেছে নিতে বাধ্য করার চেষ্টা সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। অধিকাংশ দেশ চীনের বাজার ও বিনিয়োগ রাখতে চায়, আবার যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপের প্রযুক্তির সঙ্গেও সম্পর্ক বাড়াতে চায়।
যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল কার্যকর করতে হলে এই বহুমুখী সম্পর্ককে সম্মান করতে হবে। ‘আমাদের সঙ্গে থাকুন, না হলে প্রতিপক্ষের সঙ্গে আছেন’—এ ধরনের অবস্থান দেশগুলোকে বরং দূরে ঠেলে দিতে পারে।
আধুনিক যুগের মার্শাল পরিকল্পনা
লেখকেরা যুক্তরাষ্ট্রকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে আধুনিক যুগের একটি মার্শাল পরিকল্পনা তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্শাল পরিকল্পনার মাধ্যমে ইউরোপের পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা দিয়েছিল। বর্তমান প্রস্তাবের লক্ষ্য অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ নয়; বরং বিভিন্ন দেশকে নিরাপদ ও স্বাধীন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করা।
এ জন্য একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিল গঠনের কথাও বলা হয়েছে। এই তহবিল সহযোগী দেশগুলোকে নিরাপদ, পরস্পরের সঙ্গে সংযোগযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিচালনাযোগ্য প্রযুক্তিব্যবস্থা নির্মাণে অর্থায়ন করতে পারে।
এ ধরনের উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শুধু সহায়তা নয়, কৌশলগত বিনিয়োগও হবে। এতে মার্কিন ও সহযোগী দেশের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের বাজার বাড়বে, জোট শক্তিশালী হবে এবং চীনের একক আধিপত্যের সম্ভাবনা কমবে।
তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করতে বিপুল অর্থ, দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং সরকার পরিবর্তনের পরও নীতির ধারাবাহিকতা প্রয়োজন হবে। শুধু আকর্ষণীয় ঘোষণা দিয়ে চীনের কয়েক দশকের অবকাঠামোগত উপস্থিতির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব নয়।
‘প্রযুক্তিফাঁদ’ শব্দটি কতটা যৌক্তিক
চীনের প্রযুক্তিগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের বাস্তব ভিত্তি থাকলেও প্রতিটি চীনা বিনিয়োগকে ফাঁদ হিসেবে বর্ণনা করা বিশ্লেষণকে অতিরিক্ত সরল করে দিতে পারে।
উন্নয়নশীল দেশগুলো নিষ্ক্রিয় পক্ষ নয়। তারা নিজেদের অর্থনৈতিক প্রয়োজন, ব্যয়, সময়, প্রযুক্তির মান এবং রাজনৈতিক সুবিধা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। কোনো দেশের কাছে চীনা প্রস্তাবই যদি একমাত্র দ্রুত ও সাশ্রয়ী বিকল্প হয়, তাহলে সেটি গ্রহণ করা সব সময় রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রকাশ নয়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিব্যবস্থাতেও নির্ভরতা তৈরি হতে পারে। মার্কিন প্রতিষ্ঠানের মেঘভিত্তিক সেবা, তথ্যকেন্দ্র, সফটওয়্যার বা যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করলেও তথ্যের নিয়ন্ত্রণ, মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।
তাই মূল প্রশ্ন চীনা না মার্কিন প্রযুক্তি—শুধু সেটি নয়। বরং কোনো দেশ কতটা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারছে, তথ্য কোথায় সংরক্ষিত হচ্ছে, চুক্তি কতটা স্বচ্ছ এবং সরবরাহকারী পরিবর্তনের সুযোগ আছে কি না—এসবই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
উন্নয়নশীল বিশ্বের কী করা উচিত
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একই সঙ্গে সুযোগ ও ঝুঁকি তৈরি করছে।
দুই পক্ষই বাজার ও প্রভাব বাড়াতে আগ্রহী হওয়ায় এসব দেশ তুলনামূলক ভালো অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি পেতে পারে। তবে দুর্বল চুক্তি, গোপন শর্ত অথবা একক প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তৈরি করতে পারে।
প্রযুক্তি গ্রহণের আগে কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। তথ্যের মালিকানা স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকবে কি না, প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ যাচাই করা যাবে কি না, স্থানীয় প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে কি না এবং ভবিষ্যতে অন্য প্রতিষ্ঠানের সেবা নেওয়া সম্ভব হবে কি না—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর থাকতে হবে।
এ ছাড়া সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখা, স্বাধীন নিরাপত্তা পরীক্ষা করা এবং তথ্য সুরক্ষার আইন কার্যকর করা জরুরি। শুধু কম দাম দেখে সিদ্ধান্ত নিলে ভবিষ্যতে রক্ষণাবেক্ষণ, হালনাগাদ এবং সরবরাহকারী পরিবর্তনে অনেক বেশি খরচ হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্থানীয় সক্ষমতা গড়ে তোলা। বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও পরিচালনা, নিরাপত্তা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং আইনগত তদারকির জন্য নিজস্ব দক্ষ জনবল প্রয়োজন।
প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ মানেই ভবিষ্যতের প্রভাব
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ ও অন্তর্জালের মতো মৌলিক অবকাঠামোয় পরিণত হচ্ছে। ভবিষ্যতে সরকারি ক্রয়, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, শিক্ষা, সামরিক ব্যবস্থা, নগর পরিচালনা এবং ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে এর ব্যবহার আরও বাড়বে।
আজ যে দেশগুলো কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তিব্যবস্থা গ্রহণ করছে, তারা আগামী দিনের প্রযুক্তিগত মান, নিরাপত্তানীতি এবং পরিচালনাকাঠামোকেও প্রভাবিত করছে।
লেখকেরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু উন্নত প্রযুক্তি নয়। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, তাইওয়ানসহ সহযোগী দেশগুলোর অর্ধপরিবাহী যন্ত্রাংশ, উন্নত উৎপাদন, তথ্যকেন্দ্র এবং পরিচালনানীতির সক্ষমতাও বড় সুবিধা দিতে পারে।
এই দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করলে এমন একটি উন্মুক্ত প্রযুক্তিবলয় তৈরি করতে পারে, যা কোনো একক রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। তবে বাস্তবে সেই ব্যবস্থা কতটা উন্মুক্ত, সাশ্রয়ী এবং উন্নয়নশীল দেশের স্বার্থবান্ধব হবে, সেটিই হবে আসল পরীক্ষা।
শেষ পর্যন্ত লড়াইটি কিসের
চীন বুঝতে পেরেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু উদ্ভাবনের ক্ষেত্র নয়; এটি আন্তর্জাতিক প্রভাব তৈরির শক্তিশালী মাধ্যম। যুক্তরাষ্ট্রও এখন একই উপলব্ধির দিকে এগোচ্ছে।
শুধু বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করলেই এই প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়া যাবে না। অন্য দেশগুলোকে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি নির্মাণ, ব্যবহার ও পরিচালনায় কে বেশি কার্যকর সহায়তা করতে পারবে, সেটিই ফল নির্ধারণ করবে।
চীনের প্রস্তাব দ্রুত, সমন্বিত ও অর্থায়ননির্ভর। যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি উন্নত উদ্ভাবন, বেসরকারি খাত এবং সহযোগী রাষ্ট্রগুলোর বিস্তৃত জোট। কিন্তু এই শক্তিকে একটি সহজলভ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচিতে রূপ দিতে না পারলে যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, চীনের প্রযুক্তিবলয় গ্রহণকারী দেশগুলোও শুধু স্বল্পমেয়াদি সুবিধা দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। প্রযুক্তিগত স্বাধীনতা, তথ্যের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতে সরবরাহকারী পরিবর্তনের সুযোগ নিশ্চিত না করলে বর্তমানের সহায়তা দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতায় পরিণত হতে পারে।
লেখকদের শেষ বক্তব্য হলো, লক্ষ্য কোনো দেশকে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে একটি পক্ষ বেছে নিতে বাধ্য করা নয়। বরং দেশগুলোর সামনে যেন বাস্তব ও অর্থবহ বিকল্প থাকে, সেটি নিশ্চিত করা। যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু উন্নত প্রযুক্তির নির্মাতা হলে চলবে না; অন্যদের নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তোলার বিশ্বস্ত অংশীদারও হতে হবে।
এই কারণেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বর্তমান প্রতিযোগিতা কোনো একটি যন্ত্র বা সফটওয়্যারের লড়াই নয়। এটি ভবিষ্যৎ বিশ্বের প্রযুক্তিব্যবস্থা, নিয়ম, তথ্য এবং রাজনৈতিক প্রভাব কার হাতে থাকবে—সেই বড় প্রশ্নের লড়াই।

