পেরুর বিশ্বখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নাজকা লাইনস পরিদর্শনে গিয়ে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) নাজকা শহরের উপকণ্ঠে একটি পর্যটকবাহী ছোট বিমান বিধ্বস্ত হলে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও বিমানে থাকা কারও প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি পর্যটকদের নিয়ে নাজকা লাইনসের ওপর দিয়ে দর্শনীয় উড়াল পরিচালনা করছিল। মাঝপথে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি খোলা মাঠে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে বিষয়টি তদন্ত করছে পেরুর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নাজকার পৌর প্রশাসন জানিয়েছে, এই বিশেষ উড়ালগুলো মূলত পর্যটকদের জন্য আয়োজন করা হয়, যাতে তারা আকাশ থেকে কয়েক শতাব্দী আগে তৈরি বিশালাকার মরুভূমির নকশাগুলো স্পষ্টভাবে দেখতে পারেন। নাজকা লাইনস পৃথিবীর অন্যতম রহস্যময় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। মরুভূমির বুকে আঁকা বিশাল প্রাণী, পাখি ও বিভিন্ন জ্যামিতিক আকৃতির চিত্রগুলো মাটি থেকে পুরোপুরি বোঝা যায় না; আকাশ থেকেই এগুলোর প্রকৃত রূপ স্পষ্ট দেখা সম্ভব।
পেরুর বাণিজ্য ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটিতে দুইজন ক্রু সদস্য এবং ১১ জন বিদেশি পর্যটক ছিলেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার তথ্য বলছে, নিহতদের মধ্যে দুজন জার্মানির, দুজন স্পেনের এবং সাতজন ইতালির নাগরিক।
বিমানটি পরিচালনা করছিল পেরুর বেসরকারি বিমান সংস্থা অ্যারোডিয়ানা। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে সেসনা গ্র্যান্ড ক্যারাভান উড়োজাহাজ ব্যবহার করে নাজকা লাইনসের ওপর পর্যটনভিত্তিক উড়াল পরিচালনা করে আসছে। তবে দুর্ঘটনার পর সংস্থাটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, নাজকা লাইনস পেরুর পর্যটন শিল্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হওয়ায় প্রতিদিন বহু দেশি-বিদেশি পর্যটক এই আকাশ ভ্রমণে অংশ নেন। তাই এ ধরনের দুর্ঘটনা শুধু প্রাণহানির ঘটনাই নয়, বরং পর্যটন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলতে পারে।
তদন্তকারীরা এখন বিমানের কারিগরি অবস্থা, আবহাওয়ার পরিস্থিতি, পাইলটের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগ এবং উড্ডয়নের অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করছেন। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

