মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি দাবি করেছেন, দেশটির কাছে পর্যাপ্তেরও বেশি অস্ত্র মজুত রয়েছে এবং প্রতিরক্ষা শিল্প আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ ধরনের অত্যাধুনিক অস্ত্রের বিপুল মজুত রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন সামরিক সরঞ্জাম দ্রুত উৎপাদন ও দেশে সরবরাহের কাজও অব্যাহত আছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ব্যাপক পরিসরে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াচ্ছে এবং দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক নতুন কারখানা স্থাপনের কাজ চলছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এমন দাবি উঠে যে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আগের তুলনায় কমে এসেছে। তবে ট্রাম্প এসব তথ্য পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি মনে করেন, এ ধরনের প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে ভুল বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়েও অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।
শুধু প্রতিবেদনগুলোর বিরোধিতা করেই থেমে থাকেননি ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, গোপন সামরিক তথ্য সংবাদমাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার পেছনে যেসব ব্যক্তি কাজ করেছেন, তাদের কর্মকাণ্ড দেশের নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের তথ্য ফাঁসকে তিনি গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজ চলছে বলেও জানান।
ট্রাম্প আরও বলেন, জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট গোপন তথ্য প্রকাশের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। তার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের প্রতিরক্ষা স্বার্থের পরিপন্থী এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের আবেদন করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা এবং অস্ত্র উৎপাদন নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা বাজেটের দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিতভাবেই অস্ত্র উৎপাদন, আধুনিকায়ন এবং মজুত বৃদ্ধি করে থাকে। তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, বিভিন্ন সংঘাত এবং মিত্র দেশগুলোকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার কারণে অস্ত্রের মজুত নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য কেবল সামরিক সক্ষমতার বার্তা নয়; বরং এটি দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অস্ত্র উৎপাদন এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে আস্থা তৈরিরও একটি প্রচেষ্টা। একই সঙ্গে গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগে কঠোর অবস্থানের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনের ভেতরে তথ্য নিরাপত্তার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে যে ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, তা তিনি ভিত্তিহীন বলে মনে করেন। বরং তার দাবি, দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী রয়েছে, অস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত আছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট গোপন তথ্য ফাঁসের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

