ইউক্রেনের মানবাধিকারকর্মী ওলেক্সান্দ্রা মাতভিইচুক বলেছেন, প্রায় তিন শতাব্দী ধরে রাশিয়ার প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণের ছায়ায় থাকার পর ইউক্রেন এখন আবার ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। তবে ইউরোপের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের মূল্যবোধে ফিরে আসার জন্য ইউক্রেনকে যুদ্ধ, প্রাণহানি ও ধ্বংসের মধ্য দিয়ে সর্বোচ্চ মূল্য দিতে হচ্ছে। সূত্র: ইউরোনিউজ
সম্প্রতি ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ইউরোপীয় অর্ডার অব মেরিট গ্রহণের সময় আবেগাপ্লুত কণ্ঠে এসব কথা বলেন মাতভিইচুক। ইউক্রেনের সেন্টার ফর সিভিল লিবার্টিজের প্রধান মাতভিইচুকের নেতৃত্বাধীন সংগঠনটি ২০২২ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হয়। ইউরোপীয় একীকরণ এবং ইউরোপীয় মূল্যবোধের প্রচার ও সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ইউরোপীয় অর্ডার অব মেরিটের প্রথম দিকের কয়েকজন পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তির একজন।
মাতভিইচুকের ভাষ্য, ইউক্রেন স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ইউরোপীয় মূল্যবোধে ফিরে আসছে। কিন্তু এই প্রত্যাবর্তনের মূল্য হিসেবে দেশটিকে ভয়াবহ যুদ্ধ, বিপুল প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেন আক্রমণের লক্ষ্য কেবল দেশটির ভূখণ্ড দখল করা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মাতভিইচুকের মতে, ইউক্রেনকে ইউরোপের দিকে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে দেখছে রাশিয়া। ফলে ইউক্রেন যদি রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে না তুলত, তাহলে রুশ বাহিনী আরও পশ্চিমে, ইউরোপের দিকে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ পেত।
এ কারণেই ইউক্রেনের লড়াইকে শুধু নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষার যুদ্ধ হিসেবে দেখছেন না মাতভিইচুক। তার মতে, ইউক্রেন একই সঙ্গে ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তা এবং ইউরোপীয় মূল্যবোধ রক্ষার জন্যও লড়াই করছে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা একটি বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি অঙ্গীকার আরও দৃঢ় করা প্রয়োজন।
মাতভিইচুকের বক্তব্যের মূলকথা হলো, ইউরোপ কেবল একটি ভৌগোলিক অঞ্চল নয়; স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের মতো মূল্যবোধই ইউরোপের প্রকৃত পরিচয়। এসব মূল্যবোধ রক্ষায় প্রয়োজন হলে ইউরোপকে আরও দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।
তার মতে, কোনো সমাজের ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত নির্ভর করে সেই সমাজ তার মৌলিক মূল্যবোধ রক্ষার জন্য কতটা ত্যাগ স্বীকার ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রস্তুত, তার ওপর।

