জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলের একটি উচ্চ নিরাপত্তার সামরিক ঘাঁটির ওপর বৃহস্পতিবার রাতে দুটি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে। এর মাত্র দুই দিন আগে দেশটির পূর্বাঞ্চলের লাইপজিগহালে বিমানবন্দরের একটি রানওয়ের কাছে বিস্ফোরকবোঝাই একটি ড্রোন পাওয়া যায়। পরপর এসব ঘটনায় জার্মানির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জার্মান সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্র শনিবার জানান, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১০টার দিকে নর্থ রাইন-ওয়েস্টফেলিয়া রাজ্যের মেখারনিশ শহরের একটি সামরিক ঘাঁটির ওপর দুটি ড্রোন দেখা যায়। ঘাঁটিটি বেলজিয়াম সীমান্ত থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ড্রোনের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে সামরিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে তদন্তের দায়িত্ব নিকটবর্তী অয়স্কিরশেন শহরের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন সামরিক বাহিনীর ওই মুখপাত্র।
জার্মান গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেখারনিশের ওই সামরিক ঘাঁটিতে সামরিক সরঞ্জাম ও খুচরা যন্ত্রাংশ সংরক্ষণের জন্য উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত ভূগর্ভস্থ গুদাম রয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মীরাও ঘাঁটিটিতে অবস্থান করেন।
এর আগে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরকবোঝাই একটি ড্রোন পাওয়া যায়। বিমানবন্দরের এক কর্মী ইউক্রেনের কয়েকটি আন্তোনভ এএন-১২৪ কার্গো বিমানের কাছে সেটি দেখতে পান। ঘটনাটি জার্মানির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
পরপর দুটি ঘটনায় নেটোর আকাশসীমায় ড্রোন অনুপ্রবেশের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে জার্মানির মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নেটো সদস্য দেশের সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নতুন ধরনের এই হুমকি মোকাবিলায় কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
তবে জার্মান সরকার এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো দেশকে এসব ঘটনার জন্য দায়ী করেনি। যদিও দেশটির কয়েকজন আইনপ্রণেতা ড্রোনের ঘটনাগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছেন। রাশিয়া ২০২২ সাল থেকে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত।
এদিকে, শুক্রবার বার্লিনে রাশিয়ার দূতাবাস লাইপজিগ বিমানবন্দরের ঘটনাটিকে ‘সাজানো উস্কানি’ হিসেবে অভিহিত করেছে। দূতাবাসের দাবি, কোনো প্রমাণ ছাড়াই রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার এটি আরেকটি উদাহরণ।

