দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এবং দুটি ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় ‘কুজিরো’ ও ‘ডলফিন’-এর জোড়া প্রভাবে ভয়াবহ দুর্যোগের মুখে পড়েছে ফিলিপাইন। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি থেকে বন্যা এবং পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৮ জন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, দুর্যোগে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। পাহাড় ধসে, গাছ ভেঙে পড়ে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এবং পানিতে ডুবে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
দুর্যোগের প্রভাবে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে অনেক এলাকায় পানি বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফিলিপাইনের ৯টি অঞ্চল ও ৩৩টি প্রদেশের প্রায় ৫ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রিজিওন ১, রিজিওন ৩, ক্যালাবারজোন এবং মিমারোপা থেকে সতর্কতামূলকভাবে ৪ হাজার ৮৬৬ জনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে।
বন্যা ও ভূমিধসের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। ইতোমধ্যে ৩২ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। তাদের অনেকে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। আবার অনেকে নিরাপদ থাকার জন্য আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে দুটি ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব একসঙ্গে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ভারী বৃষ্টিতে নিচু এলাকাগুলোতে বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় মাটি নরম হয়ে ভূমিধসের আশঙ্কাও বাড়ছে। ফলে দুর্যোগকবলিত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি নতুন করে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখতে হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানের পাশাপাশি দুর্গত মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং জরুরি সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
ফিলিপাইনে ঘূর্ণিঝড় ও ভারী বৃষ্টির কারণে প্রায়ই বন্যা ও ভূমিধসের মতো দুর্যোগ দেখা যায়। তবে একই সময়ে মৌসুমি বায়ু ও দুটি ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সতর্কতা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

