বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ এবং কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে ডক্টর লুবনা ফেরদৌসি তার নিজস্ব ফেসবুক পোস্টে একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। সেখানে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যদি সম্মেলনে অংশ না নেন, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাংলাদেশ কী বার্তা দিতে চায় এবং এর বিনিময়ে কী অর্জন করতে পারে? তার বক্তব্যটি তুলে ধরা হলো:
কূটনীতিতে একটি খালি চেয়ার দীর্ঘ বক্তৃতার চেয়েও বেশি কথা বলতে পারে।
আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লির BRICS সম্মেলনে সেই খালি চেয়ারটি যদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হয়, তাহলে বাংলাদেশ সেই অনুপস্থিতি দিয়ে ভারতকে ঠিক কী বলতে চাইছে, এবং সেই বার্তার বিনিময়ে কী অর্জন করতে চাইছে?
কারণ প্রতিবাদ আর কূটনীতি এক জিনিস না। প্রতিবাদ দৃশ্যমানতায় সফল হতে পারে, কূটনীতি সফল হয় measurable outcome-এ।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের না যাওয়ার সম্ভাবনা নিঃসন্দেহে একটা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তা। কিন্তু symbolism in diplomacy is never trivial।
একজন প্রধানমন্ত্রী কোনো আমন্ত্রণ গ্রহণ করবেন কি করবেন না, সেটা শুধু প্রোটোকল বা ক্যালেন্ডারের ব্যাপার না। সেটা signal, audience, timing এবং leverage-এর ব্যাপার।
এখানে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভারত তাঁকে কোনো bilateral state visit-এ ডাকেনি। বাংলাদেশ BIMSTEC-এর চেয়ারম্যান বলেই BRICS outreach-এ আমন্ত্রণ পেয়েছে। এই নিমন্ত্রণের institutional context bilateral-এর চেয়ে বড়।
দিল্লিও এই আমন্ত্রণকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছে। ফলে না যাওয়াটাও scheduling decision হিসেবে পড়া হবে না, political message হিসেবেই পড়া হবে।
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক এখন এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে রাগ দেখানো সহজ, সম্পর্ক ছিন্ন করা অসম্ভব, আর আগের ফর্মুলায় সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়া ক্রমেই কঠিন।
বাংলাদেশ কার্যত ভারতের সঙ্গে political proximity-র পুরোনো শর্তগুলো নতুন করে নেগোশিয়েট করতে চাইছে। কিন্তু একইসঙ্গে এমন একটি প্রতিবেশীর সঙ্গে strategic necessity বজায় রাখতে হবে, যাকে কোনো সরকার, কোনো ideology, কোনো diplomatic mood ভূগোল থেকে সরাতে পারবে না।
এই বাস্তবতা বুঝতে হলে broader geopolitical context দেখতে হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন এমন সময়ে ঘটেছে, যখন Bay of Bengal, Indo-Pacific, China’s rise, India’s security doctrine, U.S. strategic pressure এবং Global South realignment—সব একসঙ্গে কাজ করছে।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ইন্ডিয়ার সঙ্গে নিজের strategic identity নতুন করে define করছে।
আর বাংলাদেশ যে signal দিতে চাইছে, সেটা হলো—দিল্লি যদি শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে এমন public platform দেয়, যেটা ঢাকার চোখে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ বা hostile signaling হিসেবে ধরা পড়ে, তাহলে bilateral relations business as usual থাকবে না।
এখানে সার্বভৌমত্বের argument দুদিকেই যায়।
শেখ হাসিনা ভারতের ভূখণ্ডে আছেন, তাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া ভারতের sovereign decision। ঠিক। কিন্তু sovereignty works both ways।
দিল্লি যদি সেটা নিজের অধিকার বলে, তাহলে ঢাকা summit invitation প্রত্যাখ্যানকেও sovereign diplomatic choice হিসেবেই দেখবে।
তবে এই দুইটা mutually exclusive না। অধিকার থাকা আর সেই অধিকার প্রয়োগ করা কৌশলগতভাবে বুদ্ধিমান হওয়া কিন্তু এক কথা না।
BRICS ভারত না
BRICS ভারত না। দিল্লি host, কিন্তু institutionটা ভারতের bilateral property না। বাংলাদেশও সদস্য না; BIMSTEC chair হিসেবে outreach-এ invited।
ওই টেবিলে উপস্থিতি শুধু Modi-Tarique equation-এর ব্যাপার হতো না। সেখানে চীন, ব্রাজিল, সাউথ আফ্রিকা, রাশিয়া এবং wider Global South engagement-এর জায়গাও ছিল।
তাই ভারতকে শাস্তি দিতে গিয়ে বহুপাক্ষিক টেবিল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার মধ্যে একটা অদ্ভুত diplomatic paradox আছে।
দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী না গেলে ভারতের বাস্তব ক্ষতি কতটা? খুব সামান্য।
কিন্তু বাংলাদেশের opportunity cost? সেটা অনেক বড় হতে পারে।
BRICS এখন anti-West symbolism-এর প্ল্যাটফর্ম থেকে বিস্তৃত হয়েছে। Enlargement, development finance, trade diversification, payment architecture, technology cooperation, Global South representation—এসবের সঙ্গে এর গুরুত্ব বাড়ছে।
বাংলাদেশ যদি ভবিষ্যতে BRICS membership, New Development Bank access, alternative financing বা broader South-South cooperation নিয়ে সিরিয়াস হয়, তাহলে এই সম্মেলন ভারতে—তাই এটা ভারতীয় অনুষ্ঠান—এই reading strategically poor।
Great-power politics-এ ছোট রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ
Great-power politics-এ ছোট ও মাঝারি রাষ্ট্রের সবচেয়ে মূল্যবান asset military strength না। তাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ optionality।
যত বেশি টেবিলে আপনি বসবেন, তত বেশি অপশন থাকবে। যত বেশি অপশন থাকবে, তত কম কোনো একটি state আপনার ওপর condition impose করতে পারবে।
International relations-এর hedging literature ঠিক এই কথাই বলে। ছোট বা মাঝারি রাষ্ট্র overlapping relationships তৈরি করে dependency dilute করে।
ভিয়েতনাম অসাধারণভাবে এটা করে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে strategic partnership আছে, আবার চীন তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ economic partners-এর একটি। South China Sea-তে বেইজিংয়ের সঙ্গে serious conflict আছে, কিন্তু Hanoi তাই বলে China-hosted multilateral space abandon করে নিজের diplomatic room ছোট করে না।
সিঙ্গাপুর আরও পরিষ্কার উদাহরণ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে deep security relationship রেখেও চীনের সাথে massive economic engagement বজায় রাখে। তার basic doctrine হলো—কোন ইস্যুতে কার সঙ্গে কাজ করলে national interest maximize হবে?
বাংলাদেশেরও এই maturity দরকার।
ভারতের সঙ্গে বিরোধ আছে বলে BRICS থেকে দূরে থাকা, আমেরিকার মার্কেট দরকার বলে Washington-এর প্রতিটি strategic preference মেনে নেওয়া, চীন infrastructure দেয় বলে Beijing-এর প্রতিটি sensitivity accommodate করা—এই তিনটির কোনোটাই strategic autonomy না।
Strategic autonomy মানে সবাইকে দরকার হবে, কিন্তু কাউকেই veto দেওয়া হবে না।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: বন্ধুত্ব বা শত্রুতার বাইরের বাস্তবতা
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আরেকটি অপ্রিয় সত্য আছে। এই সম্পর্ককে বন্ধুত্ব বা শত্রুতা দিয়ে বোঝা যায় না। এটা geography-driven asymmetric interdependence।
ভারত বাংলাদেশের তিন দিকে। ৫৪টি অভিন্ন নদী, প্রায় ৪,১০০ কিলোমিটার সীমান্ত, বিদ্যুৎ, বাণিজ্য, ট্রানজিট, উত্তর-পূর্ব ভারতের connectivity, Bay of Bengal security—দুই রাষ্ট্র এমনভাবে interlocked যে রাজনৈতিক ক্ষোভ প্রকাশ করে ভৌগোলিক অবস্থান বাতিল করা যায় না।
কিন্তু এই interdependence symmetric না।
India larger economy, military power, regional actor। তাই বাংলাদেশের strategy প্রতিটি conflict-এ equal-power performance করা হতে পারে না।
Small-state power অন্য জায়গায়: coalition building, international institutions, issue linkage, economic diversification, reputational capital এবং calibrated diplomacy-তে।
একারণে আমার কাছে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি না যাওয়ার সিদ্ধান্ত তখনই strategically defensible হবে, যদি এর সঙ্গে স্পষ্ট diplomatic demand, measurable objective এবং exit strategy থাকে।
ঢাকা কী চাইছে?
শেখ হাসিনার political activity নিয়ে formal restraint?
দ্বিপক্ষীয় non-interference understanding?
নির্দিষ্ট confidence-building measures?
Visa normalisation?
Border management commitments?
High-level political dialogue?
নাকি শুধু একটা symbolic snub?
যদি কোনো objective না থাকে, তাহলে কূটনীতি খুব দ্রুত theatre হয়ে যায়।
থিয়েটারে audience করতালি দেয়, কিন্তু state gains nothing।
থিয়েটারের খালি চেয়ার dramatic, কিন্তু negotiation-এর টেবিলে এই খালি চেয়ার মানে অন্যরা আপনাকে ছাড়াই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
কূটনীতিতে সফল প্রতিবাদ সেইটা, যেটা adversary-এর cost বাড়ায় এবং নিজের bargaining space কমায় না।
আরেকটা বিষয়, কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক যদি একটি সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের সমার্থক হয়ে যায়, regime change হলে পুরো diplomatic architecture ভেঙে পড়ে।
Government changes. Geography does not.
এটাই সবচেয়ে কঠিন সত্য।
বাংলাদেশকে ভাবা বন্ধ করতে হবে যে geography can be defeated by political anger। ভারতের সঙ্গে disagreement manage করতে হবে এমনভাবে যাতে নিজের strategic options কমে না যায়।
আর একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রকে “না” বলা তখনই leverage, যখন আপনার কাছে পরের চালটা প্রস্তুত থাকে।
শুধু “না” নিজে কোনো foreign policy না।
শেষ প্রশ্ন
এই না যাওয়ার সিদ্ধান্তে আমার প্রশ্ন—
What does Bangladesh gain by staying away, and what exactly does India lose?
যদি ভারতের measurable diplomatic cost তৈরি হয়, bilateral conduct বদলায়, তাহলে খালি চেয়ারটি meaningful strategic signal।
কিন্তু যদি দিল্লিতে চেয়ারটা শুধু খালি থাকে, ভারত সম্মেলন চালিয়ে যায়, অন্য রাষ্ট্রগুলো নিজেদের agenda এগিয়ে নেয়, আর বাংলাদেশ domestic audience-এর প্রশংসা এবং হাততালি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে, তাহলে সেটা opportunity cost।
শেষ পর্যন্ত কূটনীতিতে খালি চেয়ার তখনই leverage, যখন সেই খালি চেয়ার প্রতিপক্ষকে কিছু করতে বাধ্য করে।
অন্যথায়, সেটি শুধু একটি খালি চেয়ার—আর হয়তো নিজেরই জায়গা ছেড়ে দেওয়া।
লেখক: ডক্টর লুবনা ফেরদৌসি
বৈজ্ঞানিক গবেষক, university of Hull, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ও ফ্রিল্যান্স কন্ট্রিবিউটর ডয়েচে ভেলে।

