পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে বিয়ের আনন্দযাত্রা পরিণত হয়েছে ভয়াবহ দুর্ঘটনায়। বরযাত্রী বহনকারী একটি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খালে পড়ে যাওয়ায় ছয় শিশুসহ অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর নিখোঁজদের সন্ধানে টানা উদ্ধার অভিযান চালানো হলেও আরও কয়েকজনের সন্ধান না পাওয়ায় মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে পাঞ্জাবের কোট আদ্দু জেলার মুজাফফরগড় খালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পাকিস্তান টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পর দুই দিন ধরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার রাতে তিনটি অটোরিকশায় করে বরযাত্রীরা লোমার ওয়ালা এলাকা থেকে বাসিত আরিনের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। প্রতিটি অটোরিকশাতেই ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি যাত্রী ছিল। এর মধ্যে একটি অটোরিকশা অতিরিক্ত গতিতে চলার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। মুহূর্তের মধ্যে সেটি রাস্তা থেকে ছিটকে মুজাফফরগড় খালে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার সময় অটোরিকশাটিতে মোট ২৪ জন যাত্রী ছিলেন। খালে পড়ে যাওয়ার পর তাঁদের মধ্যে মাত্র তিনজন কোনোভাবে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। তাঁরাই দুর্ঘটনার খবর স্থানীয়দের জানান। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় বাসিন্দারা রাতভর উদ্ধার তৎপরতা চালান।
প্রাথমিক পর্যায়ে উদ্ধারকারীরা ছয়জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেন। একই সঙ্গে তিনজনের মরদেহও পাওয়া যায়। এরপর মঙ্গলবার উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়। উদ্ধারকারী দলের ইনচার্জ ওসামা জিসান জানান, মঙ্গলবার আরও নয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর ফলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ জনে।
তবে দুর্ঘটনার পর এখনো কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকারীরা।
দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়েছে মরদেহ উদ্ধারের স্থানগুলো থেকে। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরেও একজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ৫, ৭ ও ১৫ কিলোমিটার দূরের বিভিন্ন স্থান থেকেও বরযাত্রীদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খালের প্রবল স্রোতে মরদেহগুলো দূরে ভেসে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, দুর্ঘটনাস্থলের খালটি প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফুট গভীর এবং এর প্রস্থ প্রায় ১০০ থেকে ১২০ ফুট। ওই এলাকার কৃষকেরা সেচকাজে খালের পানি ব্যবহার করেন। গভীর ও প্রশস্ত এই খালে অটোরিকশাটি পড়ে যাওয়ার পর যাত্রীদের উদ্ধারে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় উদ্ধারকারীদের।
ঘটনাটি শুধু একটি সড়ক দুর্ঘটনা নয়, বরং অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও বেপরোয়া গতির ঝুঁকিও সামনে এনেছে। বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়া মানুষগুলো মুহূর্তের মধ্যে এমন মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হওয়ায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারীরা নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। খালের বিস্তীর্ণ এলাকা ও পানির গভীরতার কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়লেও নিখোঁজদের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত তৎপরতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

