ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘গ্রাভলিন্স’-এ অস্বাভাবিক এক ঘটনার কারণে ব্যাহত হয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, লাখ লাখ জেলিফিশ কেন্দ্রটির শীতলীকরণ পাম্পে ঢুকে পড়ায় কয়েকটি চুল্লি বন্ধ করে দিতে হয়েছে।
কেন্দ্রটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইডিএফ জানিয়েছে, মোট ৬টি চুল্লির মধ্যে বর্তমানে মাত্র একটি পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। তিনটি চুল্লি পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। আরেকটির উৎপাদন অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। অন্য একটি চুল্লি আগে থেকেই রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ ছিল।
জেলিফিশের কারণে গ্রাভলিন্স কেন্দ্রে এমন পরিস্থিতি অবশ্য এবারই প্রথম নয়। ঠিক এক বছর আগেও একই ধরনের ঘটনায় দুই দিন বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল।
তবে এ ঘটনায় আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলে জানিয়েছে ইডিএফ। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, জেলিফিশের এই প্রবেশের কারণে কেন্দ্রের কর্মী, স্থাপনা কিংবা আশপাশের পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কর্মীরা কাজ করছেন।
জেলিফিশ সরানো এবং পাম্পগুলো সচল রাখতে কয়েকটি মাছ ধরার নৌকা দিনরাত কাজ করছে। নৌকাগুলো পাম্পের আশপাশ থেকে জেলিফিশ সংগ্রহ করে গভীর সমুদ্রে ছেড়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি জেলিফিশে আটকে যাওয়া পাম্পগুলোও পরিষ্কার করা হচ্ছে।
এ বছর ফ্রান্সের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে আবহাওয়াজনিত কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। প্রচণ্ড গরম ও খরার কারণে এর আগে কয়েকটি চুল্লি বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
তবে সমুদ্রের প্রাণীর কারণে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম থেমে যাওয়ার ঘটনা শুধু ফ্রান্সেই ঘটছে না। ২০১৩ সালে সুইডেনে এবং ১৯৯৯ সালে জাপানেও জেলিফিশের কারণে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত মাছ ধরা, সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বাড়ছে। এর সঙ্গে জেলিফিশের সংখ্যা বৃদ্ধিরও সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে সমুদ্রের এই প্রাণী ভবিষ্যতে উপকূলীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

