উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং। দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা এড়াতে একটি ‘বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ গড়ে তোলারও প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। সূত্র: বিবিসি
শনিবার (১৫ আগস্ট) দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে লি জে মিয়ং বলেন, দুই দেশেরই একে অপরকে হুমকি দেওয়ার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসান নিয়ে আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের বাস্তবসম্মত উপায় নিয়েও আলোচনার আহ্বান জানান দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট।
প্রেসিডেন্ট লি বলেন, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক উন্নয়নের লক্ষ্যে দুই দেশের প্রতিনিধিদের দ্রুত আলোচনায় বসা জরুরি। এ আলোচনায় উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতার বিস্তার বন্ধের কার্যকর উপায় নিয়েও আলোচনা করা যেতে পারে।
প্রেসিডেন্ট লির পূর্বসূরি ইউন সুক ইওলের শাসনামলে দুই কোরিয়ার সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে উঠেছিল। তবে গত বছর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর লি জে মিয়ং উত্তর কোরিয়া এবং দেশটির ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উষ্ণ করার উদ্যোগ নেন।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার এই সংলাপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া। সিউলের পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন বহর তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার পরিকল্পনারও তীব্র সমালোচনা করেছে পিয়ংইয়ং। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ারও বিরোধিতা করেছে তারা।
আলোচনার প্রস্তাবের মধ্যেই সামরিক শক্তির প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে উত্তর কোরিয়া। গত মঙ্গলবারও সমুদ্রে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার নির্ধারিত যৌথ সামরিক মহড়ার কয়েকদিন আগে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়। চলতি বছরে এটি উত্তর কোরিয়ার সন্দেহভাজন ১১তম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা।
উত্তর কোরিয়া ২০২২ সালে নিজেদের পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে। সে সময় দেশটির নেতা কিম জং উন পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ না করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
বিভিন্ন মূল্যায়ন অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার কাছে বর্তমানে কয়েক ডজন পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে লি জে মিয়ং দাবি করেন, উত্তর কোরিয়া বছরে আরও ১৫ থেকে ২০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরি করছে।
গত বছর বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লি জে মিয়ং বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উনের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন স্থগিতের বিষয়ে কোনো চুক্তি হলে তিনি সেটিকে সমর্থন করবেন।
১৯৫৩ সালে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে দুই কোরিয়ার মধ্যকার যুদ্ধ দীর্ঘদিনের জন্য বন্ধ রয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো শান্তিচুক্তি হয়নি। ফলে কোরীয় যুদ্ধ প্রকৃত অর্থে এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। এরপর কয়েক দশক ধরে দুই কোরিয়ার মধ্যকার বেসামরিক অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে উত্তেজনা ও বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

