যুদ্ধের শুরুতে ছিল ইরানের আত্মসমর্পণ, শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ও পরমাণু কর্মসূচি বন্ধের মতো কঠোর লক্ষ্য। এখন জ্বালানি সরবরাহ ও পরমাণু অস্ত্র ঠেকানোকে সামনে রেখে সমঝোতার পথ খুঁজছে ওয়াশিংটন—এমন বিশ্লেষণই জোরালো হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি এখন তার নিজের ঘোষিত লক্ষ্যগুলো। যুদ্ধের শুরুতে ইরানকে নিয়ে যে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছিল, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই অবস্থানের বেশ কিছু অংশ ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যাচ্ছে।
যুদ্ধ এখন ষষ্ঠ মাসে পড়েছে। কিন্তু শুরুতে ঘোষিত বড় বড় লক্ষ্যগুলোর সবকটি অর্জনের বদলে ট্রাম্প প্রশাসন কোন জায়গায় গিয়ে থামতে চাইছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে। তার কথায়, যুদ্ধ শেষ করার ক্ষেত্রে এখন দুটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ অব্যাহত রাখা এবং ইরানকে কখনো পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়া।
এই তালিকাটি কয়েক মাস আগের ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে পার্থক্যটি বেশ স্পষ্ট।
শুরুতে লক্ষ্য ছিল অনেক বেশি কঠোর
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার বেশ কিছু উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছিল।
এর মধ্যে ছিল ইরানের সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ, দেশটির শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে স্থায়ীভাবে বিরত রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সহযোগিতা বন্ধ করা।
এ ছাড়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ধ্বংস করা এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতার বিভিন্ন অংশ দুর্বল করার কথাও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছিল।
তবে সমস্যা ছিল, সব কর্মকর্তা একই তালিকা সামনে আনছিলেন না।
কখনো চারটি লক্ষ্য বলা হয়েছে, কখনো তার মধ্যে একটি বা দুটি বাদ পড়েছে। কোনো বক্তব্যে ইরানের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন বন্ধ করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে, আবার কোনো বক্তব্যে তা অনুপস্থিত ছিল। কোথাও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংসের কথা এসেছে, আবার কোথাও সেটি উল্লেখ করা হয়নি।
ফলে যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে শুরু থেকেই এক ধরনের পরিবর্তনশীল অবস্থান দেখা যাচ্ছিল।
ভ্যান্সের বক্তব্যে নতুন ইঙ্গিত
বৃহস্পতিবার মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্সকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কীভাবে শেষ হতে পারে।
জবাবে তিনি দুটি লক্ষ্য তুলে ধরেন।
প্রথমটি হলো, উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ অব্যাহত রাখা, যাতে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল থাকে।
দ্বিতীয়টি হলো, ইরান যেন কখনো পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।
এখানেই বিশ্লেষকদের নজর আটকে গেছে।
কারণ যুদ্ধের আগে বা যুদ্ধের শুরুর পর্যায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের যে কঠোর লক্ষ্যগুলোর কথা বলা হয়েছিল, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের জন্য তেল ও গ্যাসের দাম কম রাখা কোনো প্রধান লক্ষ্য হিসেবে সামনে আসেনি।
বরং এখন ভ্যান্সের বক্তব্যে সেটিই প্রথম লক্ষ্য হিসেবে উঠে এসেছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট অবশ্য শুক্রবার এই বক্তব্যের ব্যাখ্যায় বলেছেন, দুটি লক্ষ্যই ট্রাম্পের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু তাতেও প্রশ্ন পুরোপুরি দূর হচ্ছে না। কারণ শুধু দুটি লক্ষ্যকে সমান গুরুত্ব দেওয়া নয়, বরং আগের অনেক কঠোর লক্ষ্য বাদ দিয়ে জ্বালানির মূল্য ও সরবরাহকে সামনে আনার বিষয়টিই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ।
কয়েক মাস আগেও ভিন্ন অবস্থান ছিল ট্রাম্পের
চলতি বছরের মে মাসে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সমাধান খোঁজার সময় আমেরিকানদের আর্থিক পরিস্থিতি তিনি বিবেচনায় নিচ্ছেন কি না।
তখন তার উত্তর ছিল—একেবারেই না।
অর্থাৎ, যুদ্ধের মূল লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের জ্বালানি ব্যয় বা আর্থিক চাপকে তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন না—এমন বার্তাই দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
তার যুক্তির কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা।
শুক্রবারও ট্রাম্প বলেন, ইরান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আমেরিকানদের সামান্য বেশি জ্বালানি মূল্য দিতে হলে সে জন্য তিনি কখনো ক্ষমা চাইবেন না।
এই বক্তব্যের সঙ্গে ভ্যান্সের বর্তমান অবস্থান তুলনা করলে প্রশাসনের ভেতরে লক্ষ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
হরমুজ প্রণালির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ
জ্বালানি সরবরাহকে যুদ্ধের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে সামনে আনার পেছনে হরমুজ প্রণালির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
যুদ্ধ শুরুর আগে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ খোলা ছিল। এর মাধ্যমে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়।
তাই যুদ্ধের পর যদি হরমুজ প্রণালি আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল হয়, তাহলে সেটিকে যুদ্ধের নতুন কোনো অর্জনের চেয়ে যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া হিসেবেই দেখা যেতে পারে।
এখানেই বিশ্লেষণের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটি রয়েছে।
যদি যুদ্ধ শুরুর আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়াই এখন প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে প্রশ্ন উঠবে—এত দীর্ঘ যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র আসলে নতুন কী অর্জন করল?
পরমাণু ইস্যুতেও বদল দেখা যাচ্ছে
শুধু যুদ্ধের সামগ্রিক লক্ষ্য নয়, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও ট্রাম্পের বক্তব্যে গত কয়েক মাসে পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে।
আগে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দাবি ছিল, ইরানকে তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে।
কিন্তু পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প এমন বক্তব্য দিয়েছেন যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি হয়তো এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেখানে থাকা পরমাণু উপকরণ গভীর ভূগর্ভে চাপা পড়ে থাকতে পারে এবং সেগুলো উদ্ধার করা কঠিন।
তিনি এমন সম্ভাবনার কথাও বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশ থেকে নজরদারি চালিয়ে নিশ্চিত করতে পারে, ইরান ওই উপকরণগুলো আবার ব্যবহারের চেষ্টা করছে কি না।
আরও এক ধাপ এগিয়ে ট্রাম্প এমন দাবিও করেছেন যে ইরান ইতোমধ্যেই পরমাণু অস্ত্রমুক্ত হয়ে গেছে।
এই বক্তব্যগুলোকে একসঙ্গে দেখলে মনে হতে পারে, ওয়াশিংটন হয়তো আগের মতো কঠোর শর্তে ইরানকে একটি চুক্তিতে রাজি করানোর সম্ভাবনা নিয়ে আর আগের মতো আত্মবিশ্বাসী নয়।
যুদ্ধের লক্ষ্য ধীরে ধীরে ছোট হচ্ছে?
চলতি বছরের মে মাস থেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল।
কিছু দাবি তখন আর আগের মতো জোর দিয়ে সামনে আনা হচ্ছিল না। জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকও হয়, যেখানে যুদ্ধের শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরা কয়েকটি মার্কিন লক্ষ্য খুব বেশি গুরুত্ব পায়নি।
এর পাশাপাশি গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে ট্রাম্পের বক্তব্যে পরমাণু ইস্যুতেও কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এখন ভ্যান্সের বক্তব্য সেই ধারাবাহিকতারই নতুন উদাহরণ হতে পারে।
অর্থাৎ, যুদ্ধের শুরুতে যে লক্ষ্যগুলো অর্জনের কথা বলা হয়েছিল, সেগুলো একে একে বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ছোট করা হচ্ছে কি না—এই প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।
কেন লক্ষ্য বদলের প্রয়োজন হতে পারে?
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সামরিক লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপও বাড়তে থাকে।
দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চললে জ্বালানির সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়তে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
এ ছাড়া যুদ্ধের সামরিক ব্যয়ও বাড়তে থাকে।
অন্যদিকে, ইরানকে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণে বাধ্য করা বা দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো পরিবর্তন করা অনেক বেশি কঠিন ও দীর্ঘমেয়াদি কাজ।
ফলে বাস্তব পরিস্থিতি যদি দেখায় যে শুরুতে ঘোষিত সর্বোচ্চ লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন, তাহলে যুদ্ধ শেষ করার জন্য তুলনামূলক সীমিত লক্ষ্য নির্ধারণ করা রাজনৈতিকভাবে বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে।
ভ্যান্সের বক্তব্যকে এই দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখা হচ্ছে।
ইরান কি শেষ পর্যন্ত বড় ছাড় দেবে?
এখনও স্পষ্ট নয়, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত কোনো সমঝোতায় রাজি হবে কি না।
কারণ পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর। একই সঙ্গে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক প্রভাবও তাদের নিরাপত্তা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাই যুক্তরাষ্ট্র যদি আগের তুলনায় কম শর্ত নিয়ে আলোচনায় বসতে চায়, তেহরান সেটিকে সুযোগ হিসেবে নেবে নাকি আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে—যুদ্ধের শুরুতে যে সর্বোচ্চ লক্ষ্যগুলো ঘোষণা করা হয়েছিল, সেগুলো থেকে পিছিয়ে আসাকে কীভাবে রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করা হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন দুটি পথ
বর্তমান পরিস্থিতিকে মোটামুটি দুটি সম্ভাব্য পথে দেখা যায়।
একটি হলো, প্রশাসন আবারও আগের কঠোর লক্ষ্যগুলো সামনে এনে সামরিক চাপ অব্যাহত রাখবে এবং ইরানকে বড় ধরনের ছাড় দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করবে।
অন্যটি হলো, সীমিত কিছু লক্ষ্য অর্জনকে যথেষ্ট মনে করে যুদ্ধ শেষ করার দিকে এগোবে।
দ্বিতীয় পথটি বেছে নিলে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই হয়তো সমঝোতার মূল ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।
এ ক্ষেত্রে ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন, মধ্যপ্রাচ্যে তার মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা বা দেশটির পুরো সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের মতো আগের দাবিগুলো হয়তো আর সমান গুরুত্ব পাবে না।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: যুদ্ধের ফল কী?
সবশেষে প্রশ্নটি গিয়ে দাঁড়ায় যুদ্ধের অর্জনের জায়গায়।
যদি যুদ্ধ শেষে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে যায়, তেল ও গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হয় এবং ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তাহলে ট্রাম্প প্রশাসন সেটিকে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে পারে।
কিন্তু যুদ্ধের শুরুতে যদি লক্ষ্য থাকে ইরানের আত্মসমর্পণ, শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন, সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস এবং আঞ্চলিক প্রভাব কমানো—আর শেষ পর্যন্ত যদি ফল দাঁড়ায় যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া ও একটি সীমিত পরমাণু সমঝোতা, তাহলে সেই যুদ্ধের সাফল্যের মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।
এ কারণেই জেডি ভ্যান্সের বক্তব্যকে শুধু একটি সাক্ষাৎকারের মন্তব্য হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়বে না। গত কয়েক মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন বক্তব্যের সঙ্গে এটি মিলিয়ে দেখলে একটি ধারাবাহিক পরিবর্তনের ছবি দেখা যায়।
যুদ্ধের শুরুতে লক্ষ্য ছিল ইরানকে কঠোরভাবে নত করা। এখন লক্ষ্য যদি হয় যুদ্ধের আগের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা, তাহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হবে—ছয় মাসের এই যুদ্ধের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র আসলে কতটা অর্জন করতে পেরেছে।

