পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের কয়েকটি এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর পৃথক অভিযানে অন্তত ৯ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জিয়ারাত, হারনাই ও সুরাব জেলায় এসব অভিযান চালানো হয়।
নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জিও নিউজ জানিয়েছে, অভিযানের অংশ হিসেবে জিয়ারাত ও হারনাইয়ের মধ্যবর্তী পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীদের একটি আস্তানার সন্ধান পায় নিরাপত্তা বাহিনী। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে আটজনকে হত্যা করা হয়। অভিযানের সময় আস্তানাটিও ধ্বংস করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সুরাব জেলার হাজিকা গ্রামে চালানো পৃথক অভিযানে আরও একজন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। দাশত কাতাই ও হাজিকা এলাকায় সন্ত্রাসীদের গতিবিধি শনাক্ত হওয়ার পর সেখানে অভিযান চালানো হয়।
নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযানের পর ঘটনাস্থল থেকে গোলাবারুদ, ম্যাগাজিন, হাতবোমা, যোগাযোগের যন্ত্র, একটি মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি নির্মূল এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এর আগের দিনও বেলুচিস্তানের কিল্লি জাইক এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে দুই সন্ত্রাসী নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছিল। তার আগের দিন খারান জেলায় পৃথক অভিযানে ভারত-সমর্থিত বলে দাবি করা সাত সন্ত্রাসী নিহত হয়।
২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর পাকিস্তানে সন্ত্রাসী তৎপরতা বেড়েছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে পরিস্থিতি বেশি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে পাকিস্তানের সহিংসতার প্রধান কেন্দ্র ছিল এই দুই প্রদেশ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খাইবার পাখতুনখাওয়া।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময়ে পাকিস্তানে সহিংসতায় নিহতদের প্রায় ৯৬ শতাংশই খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানের বাসিন্দা। এর মধ্যে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ৪৭৫ জন এবং বেলুচিস্তানে ২৬৫ জন নিহত হয়েছে।
একই সময়ে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ১৫১টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যা দেশের মোট ঘটনার ৫৭ শতাংশ। বেলুচিস্তানে ঘটে ৯৪টি ঘটনা, অর্থাৎ মোট ঘটনার ৩৫ শতাংশ।
এসব পরিসংখ্যান বলছে, পাকিস্তানের এই দুই প্রদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো বেশ নাজুক। ফলে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

