বিবিসি
পূর্বঘোষণা ছাড়াই রাশিয়ার রাজধানী মস্কো সফর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ। তবে তাঁর এই সফরের উদ্দেশ্য এবং কার সঙ্গে তিনি বৈঠক করতে গেছেন, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
বিবিসির মার্কিন সহযোগী সংবাদমাধ্যম সিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিনের শুরুতে মস্কো পৌঁছান র্যাটক্লিফ। তাঁর সফর নিয়ে ওয়াশিংটন ও মস্কো—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি এমন বৈঠক অত্যন্ত বিরল। ফলে র্যাটক্লিফের আকস্মিক মস্কো সফর নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ফ্লাইট চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় সামরিক পরিবহন বিমান লাটভিয়া হয়ে রাশিয়ায় যায় এবং একই দিন মস্কো থেকে ফিরে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একটি সি-১৭ পরিবহন বিমানকে মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের প্রস্তুতি নিতে দেখা যায়।
ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে রিগা বিমানবন্দর থেকে রওনা হয় এবং আনুমানিক সকাল ৭টা ৪ মিনিটে মস্কোয় অবতরণ করে। পরে গ্রিনিচ মান সময় বিকেল ৪টার কিছু আগে বিমানটি মস্কো ছেড়ে যায়।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে মস্কোর বিভিন্ন সড়কে একটি কূটনৈতিক গাড়িবহর চলাচল করতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
র্যাটক্লিফের মস্কো সফর নিয়ে মন্তব্য জানতে বিবিসি নিউজ সিআইএ, হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
সিআইএর পরিচালক হিসেবে র্যাটক্লিফের এটিই প্রথম রাশিয়া সফর বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মস্কোর গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি আগে থেকেই যোগাযোগ রক্ষা করে আসছেন।
ইউক্রেনকে সহায়তার অভিযোগে এক বছরেরও বেশি সময় রাশিয়ায় কারাবন্দি থাকা রুশ-মার্কিন নাগরিক সেনিয়া কারেলিনার মুক্তির আলোচনায় র্যাটক্লিফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
এ ছাড়া ২০২৪ সালে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বন্দি বিনিময় চুক্তিতেও সিআইএ যুক্ত ছিল। ওই চুক্তির আওতায় ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক ইভান গার্শকোভিচ, সাবেক মার্কিন মেরিন সদস্য পল হুইলান এবং রুশ-মার্কিন সাংবাদিক আলসু কুরমাশেভা মুক্তি পান।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই ওয়াশিংটন ও মস্কোর সম্পর্ক তীব্র উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। এর ফলে রাশিয়া আন্তর্জাতিকভাবে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং দেশটির ওপর বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে রাশিয়া সফর করা মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে র্যাটক্লিফই সম্ভবত সবচেয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।
গত বছর আলাস্কায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প। তবে ওই বৈঠক থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি আসেনি। পরবর্তী সময়ে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলা শান্তি প্রক্রিয়াও স্থবির হয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় র্যাটক্লিফের আকস্মিক মস্কো সফরকে ওয়াশিংটন-মস্কোর মধ্যে নতুন কোনো গোপন বা উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের অংশ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি।

