ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জানিয়ে বলেছেন, তাদের হুমকি শুধু ইরান বা দেশটির মিত্রদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্যই তারা হুমকি।
রোববার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে বিভিন্ন ধরনের পার্থক্যকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে ‘শত্রুরা’। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মোজতবা খামেনির ভাষ্য, জাতিগত, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক পার্থক্যকে সামনে এনে মুসলমানদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, মুসলিম বিশ্বের দুর্বলতা ও বিভক্তির সুযোগ নিয়ে আধিপত্য বিস্তারের পথ তৈরি করতে চায় প্রতিপক্ষরা।
তিনি মুসলিমদের এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান, যা তাদের মধ্যে বিভেদ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিবৃতিতে ফিলিস্তিনের পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি প্রশ্ন করেন, মুসলিমরা যদি আরও ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী থাকত, তাহলে ফিলিস্তিনিরা কি এতটা অসহায় অবস্থায় পড়ত এবং দখলদারদের নিপীড়নের শিকার হতো?
পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব দেশ ও সরকার যদি ইসলামের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ থাকত, তাহলে বাইরের শক্তিগুলো তাদের ভূখণ্ড ও সম্পদের দিকে লোলুপ দৃষ্টি দেওয়ার সাহস পেত কি না, সেটিও ভেবে দেখা দরকার।
মোজতবা খামেনি মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের নিজেদের ‘প্রকৃত শত্রু’ চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা বোঝা এবং তা মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও ইসরায়েলি নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সম্পর্কের সবচেয়ে বড় বিরোধী শক্তি হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দেখছেন।
তিনি আরও বলেন, এই দুই দেশ শুধু ইরান, ইরানের জনগণ ও দেশটির মিত্রদের বিরোধী নয়; পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকাসহ বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের প্রতিও তাদের বৈরী অবস্থান রয়েছে।
মোজতবা খামেনির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ছয় মাসে গড়িয়েছে। সংঘাতের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইসরায়েলও ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হামলায় অংশ নেয়।
তৎকালীন সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে ‘সীমিত সামরিক অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অভিযান শেষ হবে। তবে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত রয়েছে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় জনসম্মুখে না আসা মোজতবা খামেনি নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেকটাই আড়ালে থেকেই দেশ পরিচালনা করছেন। তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইরানের পাশাপাশি বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীতিকে ঘিরে তাঁর অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে।

