হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা থেকে ইরানের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন বিমান বাহিনীর এই হামলা শুরু হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় দুপুর ১২টা, অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা থেকে মার্কিন বাহিনী ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু করেছে।
ট্রাম্পের দাবি, সম্প্রতি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার জবাব হিসেবেই নতুন করে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার গভীর রাতে হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী সুপারট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। জাহাজ দুটিতে মোট ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল।
এর এক দিন আগে, রোববার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জর্ডানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। তবে জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকায় ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি।
জর্ডানে ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে শনিবার রাতে হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংস করে মার্কিন বিমান বাহিনী।
শনিবারের ওই হামলার মধ্য দিয়ে এক মাসেরও বেশি সময়ের বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবার সামরিক সংঘাত শুরু হয়।
তবে সোমবার হোয়াইট হাউসের ওভাল কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে এবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ সীমিত মাত্রায় রাখা হবে।
ট্রাম্প বলেন, ইরান ইতোমধ্যে তাদের নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর বড় অংশ হারিয়েছে। দেশটির নজরদারি ব্যবস্থারও প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এর অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে আর আঘাত করবে না বলেও সতর্ক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তার ভাষায়, এবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ হবে ‘খুবই সীমিত’।
নতুন করে মার্কিন বিমান হামলার মধ্য দিয়ে হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা আরও বাড়ল। এর আগে ইরানের হামলায় বাণিজ্যিক জাহাজ ও জ্বালানি পরিবহনে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

