কেনিয়ার প্রত্যন্ত পওয়ানি গ্রামের কেরিকো মিক্সড ডে সেকেন্ডারি স্কুলে পড়াতেন পিটার তাবিচি। এর আগে তিনি ভালো সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। কিন্তু একসময় সিদ্ধান্ত নেন, যেখানে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন বেশি, সেখানেই কাজ করবেন।
নতুন স্কুলে গিয়ে দেখেন, একটি মাত্র কম্পিউটার, দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগ, সীমিত বিজ্ঞান গবেষণার সরঞ্জাম আর অসচ্ছল পরিবারের শত শত শিক্ষার্থী। অনেকের বই, পোশাক কিংবা প্রয়োজনীয় খরচ চালানোর সামর্থ্যও ছিল না।
তখন নিজের বেতনের প্রায় ৮০ শতাংশ দরিদ্র শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অসচ্ছল মানুষের সহায়তায় ব্যয় করতে শুরু করেন তাবিচি। শুধু অর্থ সাহায্য নয়, দুর্বল শিক্ষার্থীদের আলাদা করে পড়াতেন, বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলতেন এবং বিজ্ঞান প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করতেন।
তার প্রচেষ্টায় ছোট্ট গ্রামের স্কুলটির শিক্ষার্থীরা জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেতে শুরু করে। এমনকি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার যোগ্যতাও অর্জন করে।
এই কাজের স্বীকৃতিতে ২০১৯ সালে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষককে পেছনে ফেলে পিটার তাবিচি জিতে নেন ১০ লাখ ডলারের ‘গ্লোবাল টিচার প্রাইজ’। তিনিই ছিলেন এই পুরস্কারজয়ী প্রথম আফ্রিকান শিক্ষক। পুরস্কার পেয়ে নিজের বদলে শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বই সামনে এনেছিলেন তিনি। একজন শিক্ষকের বিশ্বাস আর ত্যাগ কতগুলো জীবনের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে- তাবিচি সেটাই আমাদের দেখিয়ে দিলেন।

