Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বুধ, সেপ্টে. 2, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • বিশেষ বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » গান্ধী পরিবার নিয়ে এসব প্রশ্নের উত্তর কি মিলবে সোনিয়া গান্ধীর বইয়ে?
    আন্তর্জাতিক

    গান্ধী পরিবার নিয়ে এসব প্রশ্নের উত্তর কি মিলবে সোনিয়া গান্ধীর বইয়ে?

    নিউজ ডেস্কসেপ্টেম্বর 2, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    সোনিয়া গান্ধি
    সোনিয়া গান্ধি
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    সোনিয়া গান্ধী যখন ১৯৯৮ সালে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব নেন, তখন তাকে ঘিরে কিংবা তার রাজনৈতিক লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে খুব বেশি তথ্য জানা ছিল না। সে সময় অনেকেই তাকে ‘অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাজনীতিতে এসে পড়া একজন’ হিসেবেই দেখতেন।

    সোনিয়া গান্ধীর জন্ম ইতালিতে। তিনি ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর স্ত্রী।

    রাজনীতির আলোচনা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা তিনি বহু বছর করেছিলেন। কিন্তু পরে তিনিই এমন একটি দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন, যে দল স্বাধীন ভারতের ইতিহাসের বড় একটি সময়জুড়ে দেশটির রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করেছে।

    সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম কয়েক মাসে ইন্ডিয়া টুডে পত্রিকা সোনিয়া গান্ধীকে ‘তার দলের নেতাদের কাছেও এক রহস্যময় ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল।

    ‘অনিচ্ছুক’ রাজনীতিক থেকে কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেত্রী সোনিয়া গান্ধী

    পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, কড়া নিরাপত্তাবলয়ে ঘেরা সোনিয়া গান্ধী যেন বাইরের বিশ্ব থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিলেন। তিনি বিদেশি উচ্চারণে সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতেন এবং জনসমক্ষে খুব কম কথা বলতেন।

    তবে ইন্ডিয়া টুডে-র মতে, এই নীরবতার আড়ালেই তিনি ধীরে ধীরে ক্ষমতার ব্যবহার রপ্ত করছিলেন। বিভিন্ন পক্ষের মতামত মনোযোগ দিয়ে শুনতেন, তথ্য সংগ্রহ করতেন এবং সব দিক বিবেচনা করে তারপর নিজের সিদ্ধান্ত নিতেন।

    পত্রিকাটি লিখেছিল, “সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে কাউকে বাইরে রাখা হয় না এবং কারও কণ্ঠও দমিয়ে দেওয়া হয় না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হয়।”

    প্রায় তিন দশক পরে কংগ্রেসের রাজনীতিতে এক ‘অনিচ্ছুক বহিরাগত’ থেকে দেশের সবচেয়ে পুরোনো রাজনৈতিক দলের অন্যতম প্রভাবশালী নেত্রী হয়ে ওঠার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে সোনিয়া গান্ধী এখন তার গল্প নিজেই বলছেন।

    আত্মকথায় সুখের পাশাপাশি গভীর হতাশার গল্প

    সোনিয়া গান্ধীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন ছিল স্বজনবিয়োগের দুঃখ এবং উত্থান-পতনে ভরা। তার শাশুড়ি ইন্দিরা গান্ধীকে যখন তারই নিরাপত্তারক্ষীরা গুলি করেছিলেন, তখন সোনিয়া গান্ধীই তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন।

    এই ঘটনার সাত বছর পর এক আত্মঘাতী হামলাকারীর হাতে নিহত হন তার স্বামী রাজীব গান্ধী। এরপর সেই সোনিয়া গান্ধীই তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন।

    তার আত্মকথা ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’ নভেম্বরে প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রে বইটি প্রকাশ করবে আলফ্রেড এ. নফ এবং যুক্তরাজ্যে উইলিয়াম কলিন্স।

    ভারতে প্রকাশিত হওয়ার আগেই বইটি নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা শুরু হয়েছে।

    আলফ্রেড এ. নফ-এর মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সোনিয়া গান্ধী বলেছেন, তিনি চান এই স্মৃতিকথা “আমার হৃদয়ের সেই যাত্রার সাক্ষ্য হয়ে থাকুক, যার মধ্যে আমার জীবনের সুখ এবং গভীর হতাশা দুটোই রয়েছে।”

    উইলিয়াম কলিন্স জানিয়েছে, বইটির শুরু ১৯৬৫ সালের কেমব্রিজ থেকে। সে সময় ১৯ বছরের ইতালীয় ছাত্রী সোনিয়া মাইনো রাজীব গান্ধীর প্রেমে পড়েন।

    প্রকাশকদের মতে, বইটির এই অংশে সোনিয়া গান্ধী অত্যন্ত আন্তরিকতা ও খোলামেলা ভঙ্গিতে তার জীবনের দিকে ফিরে তাকিয়েছেন।

    ইতালির একটি ছোট শহরে শুরু হওয়া তার জীবন কীভাবে অপ্রত্যাশিতভাবে ভারতের রাজনীতির কেন্দ্রস্থলে পৌঁছে গেল, সেই গল্পও উঠে আসবে বইটিতে।

    সোনিয়া গান্ধীর আত্মজীবনীর প্রচ্ছদ
    সোনিয়া গান্ধীর আত্মজীবনী নভেম্বর মাসে প্রকাশিত হওয়ার কথা। ছবি: সংগৃহীত

    কোন প্রশ্নের উত্তর খুঁজবেন পাঠকেরা?

    স্মৃতিকথাটি নিয়ে ভারতে এরই মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    একাধিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রকাশনা সংস্থা ‘পেঙ্গুইন র‍্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া’ পাণ্ডুলিপির কিছু অংশে পরিবর্তন আনার কথা বলেছিল। এরপর কংগ্রেস নেতারা অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের সমালোচনা রয়েছে এমন অংশ বদলানোর জন্য প্রকাশকের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।

    পেঙ্গুইন এই দাবি অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, তারা “বইটি প্রকাশ করার জন্য সবসময় প্রস্তুত ছিল” এবং এ নিয়ে আলোচনা চলছিল।

    তবে পাঠকেরা শুধু এই গল্প জানতে আগ্রহী হবেন না যে, কীভাবে এক তরুণ বিদেশি নারী ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক পরিবারের অংশ হয়ে উঠেছিলেন। আধুনিক ভারতীয় রাজনীতির কিছু বড় অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তরও তারা এই বইয়ে খুঁজবেন।

    কী এমন ঘটেছিল, যা সোনিয়া গান্ধীকে রাজনীতিতে টেনে এনেছিল? আর ২০০৪ সালে, কংগ্রেস আট বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার পর আবার ক্ষমতায় ফিরলে পর্দার আড়ালে কী ঘটেছিল?

    সবচেয়ে বড় রহস্য সম্ভবত এটাই—সোনিয়া গান্ধী কেন তার দল ও জোটসঙ্গীদের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী পদ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং এর পরিবর্তে ভারতের অর্থনৈতিক উদারীকরণের উদ্যোক্তা মনমোহন সিংকে বেছে নিয়েছিলেন।

    তার কি আশঙ্কা ছিল, বিদেশি শিকড় নিয়ে সমালোচনা তার সরকারকে স্থায়ীভাবে দুর্বল করে দিতে পারে?

    সাংবাদিক ও লেখক নীরজা চৌধুরী বলেন, “আমার মনে হয় এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তিনি খুব সহজেই প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন। তার দল এবং জোটসঙ্গীদের পূর্ণ সমর্থন ছিল তার প্রতি, আর রাষ্ট্রপতি ভবন সরকার গঠনের আমন্ত্রণপত্রও প্রস্তুত রেখেছিল।”

    কংগ্রেসের সাবেক নেতা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী নটবর সিং তার স্মৃতিকথায় লিখেছেন, সোনিয়া গান্ধীর ছেলে রাহুল গান্ধী তার মা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কঠোর বিরোধী ছিলেন। কারণ তার আশঙ্কা ছিল, তার ঠাকুমা ও বাবার মতোই পরিণতি হতে পারে মায়ের।

    নটবর সিং লিখেছেন, পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছিল যখন রাহুল বলেছিলেন, তাকে থামাতে তিনি ‘যথাসম্ভব পদক্ষেপ’ নিতে প্রস্তুত।

    প্রশ্ন হলো, সোনিয়া গান্ধীর স্মৃতিকথা কি তার সেই সিদ্ধান্তের ওপর নতুন আলোকপাত করবে, নাকি পর্দার আড়ালে যা ঘটেছিল তার সম্পূর্ণ ভিন্ন বিবরণ তুলে ধরবে?

    ‘ইতালিয়ান ওয়ান্ডার’ থেকে ক্ষমতার চালক

    কারণ যা-ই হোক না কেন, তার ওই সিদ্ধান্ত ভারতীয় রাজনীতির গতিপথ বদলে দিয়েছিল। কিন্তু সেটি ছিল রহস্যের হিমশৈলের কেবল চূড়া। যে প্রশ্ন অনেকেই করেন, তা হলো—অনিচ্ছা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত সোনিয়া গান্ধী কেন রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন?

    শুরুর দিকে তিনি রাজনীতি থেকে দূরেই ছিলেন। ১৯৯১ সালে রাজীব গান্ধী নিহত হওয়ার পর জনজীবন থেকেও নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন তিনি।

    কিন্তু ১৯৯০-এর দশকে নির্বাচনে কংগ্রেসের ধারাবাহিক দুর্বল ফলাফলের পর ১৯৯৭ সালে তিনি দলে যোগ দেন এবং এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দলের সভাপতি হয়ে ওঠেন।

    সে সময়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা তাকে এককথায় খারিজ করে দিয়েছিলেন। ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছিল, শুরুতে বিরোধী শিবিরের শীর্ষ রাজনীতিকরা তাকে ‘গৃহিণী’ বা ‘ইতালিয়ান ওয়ান্ডার’-এর বেশি কিছু বলে মনে করতেন না।

    তবুও মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি তার দলকে বদলে দিতে শুরু করেছিলেন।

    কংগ্রেসের এক জ্যেষ্ঠ নেতা স্বীকার করেছিলেন, “আমি কখনও ভাবিনি যে এই নারী এত বড় পালাবদল ঘটাতে পারেন।”

    পত্রিকাটি তাকে বাইরে থেকে কোমল মনে হওয়া কিন্তু ভেতরে কঠোর এক নারী হিসেবে বর্ণনা করেছিল। একই সঙ্গে বলেছিল, কীভাবে ‘পাহাড়সম অহংকারকে ধুলায় মিশিয়ে দিতে হয়’, তা তিনি জানেন।

    এ ছাড়া সেই মর্মান্তিক ঘটনাগুলোও রয়েছে, যেগুলোর কারণে রাজনীতিতে তার যাত্রার পটভূমি তৈরি হয়েছিল।

    ১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধীর হত্যার পর নিজের পরিবারে আসা পরিবর্তনগুলো দেখেছিলেন সোনিয়া গান্ধী।

    সাত বছর পর আত্মঘাতী এক হামলায় স্বামী রাজীব গান্ধীকে হারান তিনি। এই মৃত্যুগুলো ভারতীয় রাজনীতি এবং তার নিজের জীবনের গতিপথও বদলে দিয়েছিল।

    সেই বছরগুলো সম্পর্কে তিনি কী বলবেন?

    রাজীব গান্ধীর রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে, যার তিনি জোরালো বিরোধিতা করেছিলেন? অথবা সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তার দীর্ঘদিনের উদ্বেগ সম্পর্কে?

    আর সেই মুহূর্ত সম্পর্কে, যখন তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে গান্ধী পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এভাবে ছেড়ে দেওয়া যায় না?

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর শেষকৃত্য - ফাইল ছবি
    ১৯৮৪ সালের নভেম্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর শেষকৃত্যে রাজীব গান্ধী (বাঁ দিক থেকে দ্বিতীয়, টুপি পরা) তার মেয়ে প্রিয়াঙ্কা ও স্ত্রী সোনিয়ার সঙ্গে। ছবি: সংগৃহীত

    বোফর্স থেকে বিদেশি পরিচয়ের বিতর্ক

    এসব প্রশ্নের পাশাপাশি রয়েছে কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্নও।

    তিনি কি বোফর্স কেলেঙ্কারি নিয়ে আলোচনা করবেন, যা রাজীব গান্ধীর সরকারকে মারাত্মক ক্ষতির মুখে ফেলেছিল এবং ইতালীয় ব্যবসায়ী ওত্তাভিও কোয়াত্রোচ্চির সঙ্গে পরিবারের সম্পর্ক নিয়ে কয়েক দশক ধরে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল?

    তিনি কি অভিযোগগুলো নতুন করে পর্যালোচনা করবেন এবং জানাবেন, এ বিষয়ে তিনি কী জানতেন?

    আর তার ইতালীয় পরিচয় ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তারই বা কী হবে?

    বহু বছর ধরে সোনিয়া গান্ধীর সমালোচনা করা হয়েছিল এই ভিত্তিতে যে তিনি বিদেশে জন্মেছেন এবং ভারতের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য নন।

    ভারতীয় জনতা পার্টির নেত্রী সুষমা স্বরাজ ২০০৪ সালে ঘোষণা করেছিলেন, বিদেশি বংশোদ্ভূত কোনও ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী হওয়া ‘রাষ্ট্রের জন্য অপমানজনক’ হবে। সোনিয়া গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি পদত্যাগ করবেন, মাথা মুড়িয়ে ফেলবেন, সাদা পোশাক পরবেন এবং তপস্বীর জীবনযাপন করবেন বলেও শপথ করেছিলেন।

    মনমোহন সরকারের ‘রিমোট কন্ট্রোল’?

    সাংবাদিক ও লেখক রশিদ কিদওয়াই বলেন, “১৯৯৯ সালে কংগ্রেসেরই কিছু নেতা তার বিদেশি বংশোদ্ভূত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, তিনি হয়তো কখনও দেশ ছেড়ে ফিরে যাওয়ার কথা ভেবেছিলেন।”

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যেও কৌতূহল রয়েছে, বইটি ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের নানা স্ববিরোধী সিদ্ধান্তের ওপর নতুন আলোকপাত করতে পারে কি না।

    সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস টানা দুটি জাতীয় নির্বাচনে জয় পেয়েছিল এবং তথ্য জানার অধিকার আইন ও গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা কর্মসূচিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপকে সমর্থন করেছিল।

    তবুও সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে দুর্নীতির অভিযোগ, নীতিগত অচলাবস্থা এবং দলটি নিজের নেতৃত্বের হাতেই গোলাম হয়ে পড়েছে কি না—সেই প্রশ্ন বারবার উঠেছিল।

    সোনিয়ার সমালোচকেরা তাকে সরকারের ‘রিমোট কন্ট্রোল’ বলে উল্লেখ করতেন। মনমোহন সিংয়ের ওপর তার প্রভাব নিয়েও তারা সন্দেহ প্রকাশ করতেন।

    অন্যদিকে, তার সমর্থকেরা তাকে অত্যন্ত জটিল একটি জোটকে একসঙ্গে ধরে রাখার রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখতেন।

    শেষ পর্যন্ত ২০১৭ সালে সোনিয়া কংগ্রেসের নেতৃত্ব তার ছেলে রাহুল গান্ধীর হাতে তুলে দেন। অনেকের মতে, দলকে পুনরুজ্জীবিত করতে তার ব্যর্থতাই গান্ধী পরিবারের রাজনৈতিক পতনের কাহিনির ক্ষেত্রে আগ্রহের কেন্দ্র।

    কেন রাহুল, প্রিয়াঙ্কা নয়?

    সোনিয়া গান্ধী তার ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত বই ‘রাজীব’-এ লিখেছিলেন, স্বামীকে রাজনীতিতে আসা থেকে বিরত রাখতে তিনি ‘অনেক লড়াই’ করেছিলেন। তবুও শেষ পর্যন্ত তিনি এই রাজনৈতিক উত্তরাধিকার পুত্র রাহুল গান্ধীর হাতে তুলে দেন।

    রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক পথচলা সহজ ছিল না। একসময় তাকে অনাগ্রহী রাজনীতিক বলে নস্যাৎ করা হয়েছিল। প্রতিদ্বন্দ্বীরা প্রায়ই তাকে এমন এক নেতা বলে বিদ্রূপ করতেন, যিনি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অনুপস্থিত থাকেন।

    রশিদ কিদওয়াই বলেন, “সোনিয়া তার ছেলের সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক ধরন এবং বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিকে কীভাবে দেখেন? এবং তার রাজনীতিকে তিনি কতটা সমর্থন করেন? আমার আশা, এই বই সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবে।”

    আরও একটি প্রশ্ন হলো, পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এগিয়ে নেওয়ার জন্য সোনিয়া গান্ধী কেন রাহুল গান্ধীকে বেছে নিয়েছিলেন, তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরাকে নয়? প্রিয়াঙ্কাকে স্বাভাবিকভাবেই তুলনামূলক বেশি ক্যারিশম্যাটিক বলে মনে করা হয়।

    রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে বছরের পর বছর জল্পনা-কল্পনা চলার পরও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরা কেন আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৯ সালেই নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন?

    কিদওয়াই বলেন, “সোনিয়ার সবসময় একই উত্তর ছিল, রাজনীতিতে যোগ দেবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত আমার সন্তানদেরই নিতে হবে।”

    ১৯৯১ সালে তার স্বামী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর শেষকৃত্যে সোনিয়া গান্ধী (মাঝখানে), তার মেয়ে প্রিয়াঙ্কা ও ছেলে রাহুলের সঙ্গে
    ১৯৯১ সালে তার স্বামী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর শেষকৃত্যে সোনিয়া গান্ধী (মাঝখানে), তার মেয়ে প্রিয়াঙ্কা ও ছেলে রাহুলের সঙ্গে। ছবি: সংগৃহীত

    যে ভারতকে গড়তে চেয়েছিলেন, সেই ভারত নিয়ে কী ভাবেন সোনিয়া?

    আরও একটি বড় প্রশ্ন হলো, যে ভারতকে গড়ে তুলতে সোনিয়া গান্ধী একসময় ভূমিকা পালন করেছেন, সেই ভারত সম্পর্কে তিনি এখন কী ভাবেন?

    তিনি এমন এক সময়ে কংগ্রেসের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যখন ভারতীয় রাজনীতি জোট সরকারের যুগ এবং অর্থনৈতিক উদারীকরণ থেকে সরে গিয়ে নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি ও হিন্দু জাতীয়তাবাদের প্রভাবশালী রাজনীতির দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।

    তবে সম্ভবত সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ প্রশ্ন হলো, সোনিয়ার স্মৃতিকথা কী বলার সিদ্ধান্ত নেবে এবং কী অনুক্ত রেখে যাবে।

    নীরজা চৌধুরীর ধারণা, এর উত্তর হয়তো বইটির শিরোনাম ‘বিলংগিং’-এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে।

    চৌধুরী বলেন, “নেহরু-গান্ধী পরিবারের উত্তরাধিকারের ধারক হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে তিনি সর্বদা সচেতন ছিলেন। সেই উত্তরাধিকারকে জীবিত রাখতে হবে।”

    তার প্রত্যাশা, স্মৃতিকথাটি পরিবার এবং তার ইতিহাসে ফিরে যাবে। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে থাকবে নেহরু-গান্ধী পরিবারের সঙ্গে সোনিয়া গান্ধীর নিজের সম্পৃক্ততার অনুভূতি এবং কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে সেই রাজনৈতিক উত্তরাধিকার গ্রহণের অভিজ্ঞতা।

    অবশ্য সেই উত্তরাধিকার এখন ধারাবাহিক আক্রমণের মুখে।

    ক্ষমতাসীন বিজেপি ‘কংগ্রেস-মুক্ত ভারত’-এর পক্ষে প্রচার চালিয়েছে। অন্যদিকে দলের সমালোচকেরা ক্রমশ এই রাজনৈতিক লড়াইকে বংশানুক্রমিক রাজনীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম হিসেবে তুলে ধরছেন।

    সূত্র: বিবিসি

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    মোস্ট ফিচার

    ব্যাগের টানে থেমে যাচ্ছে জীবন, ৬ মাসে প্রাণ গেল তিন নারীর

    সেপ্টেম্বর 2, 2026
    আন্তর্জাতিক

    স্বাধীনতার স্বপ্নে জীবন উৎসর্গ করা হো চি মিন

    সেপ্টেম্বর 2, 2026
    বাংলাদেশ

    বঙ্গবাজার: একটি নামের ছাই হয়ে যাওয়ার গল্প

    সেপ্টেম্বর 2, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.