যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা একটি এআই-জেনারেটেড মানচিত্রে উত্তর আমেরিকার পুরো ভূখণ্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও গ্রিনল্যান্ড, একত্রে মার্কিন পতাকায় ঢেকে দেখানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, চাঁদের একটি ছবি দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, ‘চাঁদ আমাদের’। ট্রাম্পবিরোধী সংগঠন ‘রিপাবলিকানস এগেইনস্ট ট্রাম্প’ এই পোস্টকে ‘পুরোপুরি পাগলামি’ আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেছে। অন্যদিকে তার সমর্থকরা এই পোস্টকে উদযাপন করছেন।
ট্রাম্পের এই পোস্ট সাম্প্রতিক সময়ে তার বিতর্কিত ভৌগোলিক দাবিগুলোর ধারাবাহিকতার অংশ। এর আগে তিনি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূখণ্ড বলে দাবি করেছেন এবং নিউ মেক্সিকোর নাম বদলে ‘নিউ আমেরিকা’ করার কথাও বলেছেন। গত সপ্তাহে কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যে লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করা হয়। গত বছর মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার সিদ্ধান্তও নিয়েছেন তিনি।
পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক গবেষক কার্ট টেইলর গবাটজ এই ঘটনাকে ব্যঙ্গ করে বলেছেন, সংবাদমাধ্যমের উচিত ‘গতকাল ট্রাম্প কী কী পাগলামি করেছেন’ নামে একটি আলাদা কলাম রাখা, যাতে এসব বিতর্কিত পোস্ট যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ খবর থেকে জনগণের মনোযোগ সরিয়ে না নেয়। তবে ট্রাম্পের রক্ষণশীল সমর্থকদের কাছে এই পোস্টগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়েছে।
শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই নয়, বাস্তব পররাষ্ট্রনীতিতেও ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রাসী মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, ভেনেজুয়েলার সরকার উৎখাত করে দেশটির তেলশিল্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে এবং ন্যাটোর মিত্র ডেনমার্কের কাছে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দিয়েছে। কিউবার কমিউনিস্ট সরকার উৎখাতের লক্ষ্যেও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো হচ্ছে।
এই পদক্ষেপগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো মিত্রদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কানাডা পাল্টা বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নতুন জোট গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে। ডেনমার্কও গ্রিনল্যান্ড রক্ষায় সামরিক পরিকল্পনা করেছে বলে জানা গেছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ও ফোকালডাটার একটি জরিপ বলছে, ৪৬ শতাংশ আমেরিকান মনে করছেন ট্রাম্পের এসব কর্মকাণ্ড নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয়ের পথ কঠিন করে তুলছে, এমনকি ৩০ শতাংশ রিপাবলিকান ভোটারও একমত।
ট্রাম্পের এই পোস্টগুলোকে কেবল উসকানিমূলক প্রচার বলেও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ, তার প্রশাসন বাস্তবেও স্থানের নাম পরিবর্তন ও ভূখণ্ড দাবির মতো উদ্যোগ নিয়েছে। তবে ‘চাঁদ আমাদের’ এই দাবি আন্তর্জাতিক মহাকাশ চুক্তির পরিপন্থী, যা অনুযায়ী কোনো দেশ চাঁদ বা অন্য কোনো মহাকাশীয় বস্তুর ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করতে পারে না।

