বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া সরকারপ্রধানের তালিকায় শীর্ষস্থান আরও পাকাপোক্ত করলেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার দেশের সংসদে রাজনৈতিক নেতাদের বেতন কাঠামো সংশোধনের ঘোষণা দেন তিনি, যাতে প্রধানমন্ত্রীর বার্ষিক বেতন বাড়বে প্রায় দশ লাখ মার্কিন ডলার। দীর্ঘদিন ধরেই দেশটি রাজনীতিবিদদের তুলনামূলক উচ্চ বেতন দেওয়ার নীতিতে অটল থেকেছে, এবং সরকারের যুক্তি হলো—এর মাধ্যমেই মেধাবী ও দক্ষ ব্যক্তিদের রাজনীতিতে আকৃষ্ট করে সুশাসন বজায় রাখা সম্ভব হয়।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর বার্ষিক বেতন সিঙ্গাপুর ডলারে বাইশ লাখ থেকে বেড়ে ছত্রিশ লাখে উন্নীত হবে, যা মার্কিন মুদ্রায় দাঁড়াবে প্রায় সতেরো লাখ ডলার। এর পাশাপাশি উপ-প্রধানমন্ত্রীর বেতনও প্রায় আঠারো লাখ সিঙ্গাপুর ডলার থেকে বেড়ে ত্রিশ লাখের বেশি হবে। মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা পদমর্যাদা ও দায়িত্বের ভার বিবেচনায় বছরে আঠারো লাখ থেকে সাড়ে আটাশ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার পর্যন্ত বেতন পাবেন।
তবে প্রধানমন্ত্রী নিজে জানিয়েছেন, তার মেয়াদে এই বর্ধিত বেতন থেকে যে অতিরিক্ত অর্থ আসবে, তার পুরোটাই তিনি জনকল্যাণমূলক কাজে দান করার পরিকল্পনা করেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বেতন বৃদ্ধির আগেও সিঙ্গাপুরের সরকারপ্রধানের বেতন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য শিল্পোন্নত দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের তুলনায় ছিল যথেষ্ট বেশি।
রাজনৈতিক নেতাদের বেতন প্রশ্নটি সিঙ্গাপুরে বরাবরই স্পর্শকাতর বিবেচিত হয়, কারণ মন্ত্রিসভার সদস্যদের আয় সাধারণ নাগরিকদের গড় আয়ের তুলনায় বহুগুণ বেশি। এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন, বিষয়টিকে ঘিরে জনগণের মধ্যে সংবেদনশীলতা থাকা স্বাভাবিক, কারণ এখানে জড়িত অর্থের পরিমাণ সাধারণ মানুষের আয়ের চেয়ে অনেক বেশি। তবে তার মতে, মূল প্রশ্নটি হলো আগামী কয়েক দশকে দেশ পরিচালনার জন্য উপযুক্ত রাজনৈতিক নেতৃত্ব ধরে রাখা সম্ভব হবে কি না, এবং তার ভাষায় সুশাসন মূলত দক্ষ নেতৃত্বের ওপরই নির্ভরশীল।
জানা গেছে, দেশটিতে সর্বশেষ মন্ত্রীদের বেতন সমন্বয় হয়েছিল প্রায় পনেরো বছর আগে। বিশ্বের সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় নিয়মিতভাবে জায়গা করে নেওয়া সিঙ্গাপুরে এই নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারিত হয়েছে একটি স্বাধীন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে। তবে সব বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে একসঙ্গে নতুন কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে না। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ব্যক্তিগত কর্মক্ষমতা ও পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা সর্বোচ্চ নয় শতাংশ পর্যন্ত এককালীন বাড়তি বেতন পাবেন, এবং ভবিষ্যতেও বেতন সমন্বয়ে ব্যক্তিগত সক্ষমতা ও দায়িত্বের পরিধিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ বেতন কাঠামো নিয়ে সিঙ্গাপুরের দীর্ঘদিনের নীতি একদিকে যেমন দক্ষ প্রশাসন ও কম দুর্নীতির পেছনে একটি কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়, তেমনি আয়ের এই বিশাল ব্যবধান নিয়ে নাগরিক পর্যায়ে চাপা প্রশ্নও থেকে যায়। এ ধরনের বড় অঙ্কের বেতন বৃদ্ধি প্রতিবারই দেশটিতে জনমতের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।

