নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লক্ষ্যে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে এক ব্যতিক্রমী ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, তার দল নির্বাচনে জয়ী হলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকার সমান।
এই ঘোষণার সঙ্গে রসিকতাও করেছেন ট্রাম্প। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে তাকে প্রার্থী হিসেবেও বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য নয়। স্বাভাবিক নিয়মে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত চলবে।
ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচন সংক্রান্ত সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “রিপাবলিকানরা জয়ী হলে আপনারাও আমাদের সঙ্গে জয়ী হবেন এবং ৫ হাজার ডলার করে পাবেন। এর নাম হবে ট্রাম্প ডিভিডেন্ড।”
তবে এই বিপুল অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তাত্ত্বিকভাবে এই অর্থ প্রদানের মোট পরিমাণ ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে। এ বিষয়ে ট্রাম্প শুধু বলেন, “আমাদের দেশ প্রচুর অর্থ উপার্জন করছে।”
বর্তমান জনমত জরিপগুলোতে ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। তবে আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে জরিপের পূর্বাভাস ভুল প্রমাণিত হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন তিনি।
রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে এবং তিনি এতে ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, “আমি আপনাদের অনুরোধ করছি, কল্পনা করুন যে আমিও ব্যালটে আছি।”
সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “আমি ব্যালটে আছি, আমি ব্যালটে আছি—আর মাত্র একবারের জন্য।”
বেশিরভাগ জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার প্রায় ৩০ শতাংশের কাছাকাছি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে তার শুরু করা যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউ-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বরে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা ২৩০-২০৫ ব্যবধানে এবং সিনেটে ৫১-৪৯ ব্যবধানে জয় পেতে পারে।

