ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যাওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ায় দেশটির শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও উদ্বেগ বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার বাজারের লেনদেন শুরুর পর ডাও জোন্স সূচক ০ দশমিক ৪ শতাংশ, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০ দশমিক ৬ শতাংশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ন্যাসডাক সূচক ০ দশমিক ৯ শতাংশ কমে যায়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে আগস্টের উৎপাদক মূল্যসূচক গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস ছিল ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধির এই তথ্য আগামী সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে। এর প্রভাবে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১০৫ ডলারের ওপরে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দামও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা মে মাসের পর প্রথমবার।
বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, তেলের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের সুদহারও বেড়েছে। ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বেড়ে ৫ দশমিক ৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ।
এখন বাজারের নজর শুক্রবার প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচকের তথ্যের দিকে। মূল্যস্ফীতির এই পরিসংখ্যান আগামী সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

