ইরানের সঙ্গে টানা কয়েক মাসের প্রত্যক্ষ সামরিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী কৌশলগত অস্ত্র ও অত্যাধুনিক গোলাবারুদের ঘাটতির মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন সরকারের একটি নজরদারি সংস্থার প্রতিবেদনে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর, পররাষ্ট্র দপ্তর এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার পরিদর্শক জেনারেলদের যৌথ মূল্যায়নের ভিত্তিতে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক ও বিস্তারিত হিসাব।
প্রতিবেদনে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, উন্নত মানের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরোধমূলক ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে প্রতিরক্ষা খাতের সরবরাহকারীদের অন্তত তিন বছর সময় লাগবে। এই দীর্ঘ সময়সীমা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে ধরছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
প্রতিবেদনে মার্কিন সামরিক স্থাপনার ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির শত শত অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডান।
এসব হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক যুদ্ধবিমান ও ড্রোনও ক্ষতিগ্রস্ত বা বিধ্বস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, এই অঞ্চলে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিভিন্ন সময়ে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি মোতায়েন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ইসরায়েলে পাঠানো একটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও রয়েছে।
এই প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার একটি কাঠামোগত দুর্বলতা প্রকাশ করছে— দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়ালে উন্নত অস্ত্রের উৎপাদন ও সরবরাহ ক্ষমতা কতটা সীমিত হয়ে পড়তে পারে, তা এই মূল্যায়নে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যের একযোগে আট দেশে ঘাঁটির ক্ষতি এবং অস্ত্র পুনর্মজুতে বছরের পর বছর সময়ের প্রয়োজনীয়তা— এই দুটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করলে ভবিষ্যতে অনুরূপ কোনো সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

