পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাটে একটি ঐতিহাসিক পুলিশ সদর দপ্তরে বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩৭ জন। শুক্রবারের এ হামলার পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে।
পাকিস্তানের উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর কর্মকর্তা বিলাল আহমেদ ফাইজি জানান, কোহাটের পুরোনো পুলিশ লাইন এলাকায় হামলার পর উদ্ধার অভিযান চলছে। ঘটনাস্থলে ৪৫ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
খাইবার পাখতুনখাওয়া পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। তাঁর দাবি, হামলায় জড়িত চারজনকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন বন্দুকধারী এবং একজন আত্মঘাতী হামলাকারী ছিলেন। তবে ঘটনাস্থল পুরোপুরি নিরাপদ করতে তল্লাশি অভিযান তখনও চলছিল।
কোহাটে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষের বসবাস। হামলার পর আহতদের উদ্ধার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ফাইজি।
এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ইসলামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সহিংসতা চলছে।
হামলার ঘটনায় শোক জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।
এক বিবৃতিতে জারদারি বলেন, পাকিস্তানের নিরাপত্তার জন্য টিটিপিসহ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তিনি টিটিপিকে বোঝাতে ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ’ শব্দটি ব্যবহার করেন।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, খাইবার পাখতুনখাওয়া এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক সশস্ত্র হামলার পেছনে আফগানিস্তান থেকে পরিচালিত জঙ্গি তৎপরতা রয়েছে। তবে কাবুলের তালেবান সরকার পাকিস্তানের ভূখণ্ডে হামলায় আফগান সরকারের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের জেরে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সীমান্তে সশস্ত্র সংঘাতের পাশাপাশি পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে বিমান হামলাও চালিয়েছে। ইসলামাবাদের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার ও জাতিসংঘ জানিয়েছে, জুনে পূর্ব আফগানিস্তানে পাকিস্তানের সর্বশেষ বিমান হামলায় কয়েক ডজন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
কোহাটের সর্বশেষ হামলার দায় এখনো কোনো গোষ্ঠী স্বীকার না করলেও, পাকিস্তানে সশস্ত্র হামলার ধারাবাহিকতা এবং আফগানিস্তানকে ঘিরে দুই দেশের উত্তেজনার মধ্যে ঘটনাটি নতুন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

