ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনউয়ে কিস্তিতে কেনা মুঠোফোনের বকেয়া আদায়ে এক তরুণকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, তাঁকে জোর করে রক্ত দিতে বাধ্য করা হয়েছে এবং সেই রক্ত বিক্রি করে কিস্তির টাকা তোলা হয়েছে। ঘটনায় একটি বেসরকারি অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আরেক অভিযুক্ত পলাতক।
পুলিশের বরাতে জানা গেছে, লখনউয়ের শেষ প্রান্তের রাজারামখেরা গ্রামের বাসিন্দা নেহাল স্থানীয় একটি দোকান থেকে ২১ হাজার ৫০০ রুপিতে একটি মুঠোফোন কেনেন। কিস্তিতে কেনা ওই ফোনের জন্য এক বছর ধরে প্রতি মাসে ২ হাজার ৭৯৯ রুপি দেওয়ার কথা ছিল।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, নেহালের কোনো চাকরি বা নিয়মিত আয় ছিল না। তারপরও দোকানদার ও অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠান তাঁকে কিস্তিতে ফোন কেনার সুযোগ দেয়। ফলে প্রথম মাসের কিস্তিই তিনি দিতে পারেননি। এরপর আদায়কারী কর্মীরা তাঁর ওপর চাপ দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর শুভম ও অনিকেত নামে দুই আদায়কারী নেহালের বাড়িতে যান। সেখান থেকে তাঁকে জোর করে তুলে নেওয়া হয়। এরপর একটি রক্ত সংগ্রহকেন্দ্রে নিয়ে জোরপূর্বক রক্ত নেওয়া হয়। অভিযোগ, সেই রক্ত বিক্রি করে কিস্তির টাকা আদায় করা হয়।
এরপর নেহালকে শুভমের বাড়িতে নিয়ে চার দিন আটকে রাখা হয় এবং গৃহকর্মীর কাজ করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁকে ছাড়ার আগে তাঁর দাদা রাজকুমারের কাছ থেকেও এক মাসের কিস্তির টাকা নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
লখনউ সাউথের সহকারী পুলিশ সুপার মহম্মদ মুস্তাক জানান, অভিযুক্ত দুজন নেহাল ও তাঁর মাকে নিয়মিত হয়রানি করছিলেন। পরে নেহালের মা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, রিকভারি কর্মীরা তাঁর ছেলেকে জোর করে তুলে নিয়ে গেছেন।
১৪ সেপ্টেম্বর পুলিশ অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু করে। ফোনকলের তথ্য ধরে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। গত বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, শুভম ও অনিকেতকে গ্রেপ্তার করা হয়। তৃতীয় অভিযুক্তের সন্ধান দিলে ২৫ হাজার রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট রক্ত সংগ্রহকেন্দ্রের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পর আরও কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা জানা যাবে।
ঘটনাটি কিস্তিভিত্তিক ঋণ ব্যবস্থার দুটি দুর্বলতা সামনে আনে। প্রথমত, আয়ের উৎস নেই এমন ব্যক্তিকে ঋণ দেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ ঋণ দেওয়ার আগে পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই হয়নি। দ্বিতীয়ত, বকেয়া আদায়ে বেসরকারি কর্মীদের হাতে অবাধ ক্ষমতা থাকলে তা কীভাবে নির্যাতনে গড়াতে পারে, এটি তার উদাহরণ। বিশেষ করে রক্ত সংগ্রহকেন্দ্র কীভাবে জোরপূর্বক রক্ত নিল এবং তা বিক্রির প্রক্রিয়া কী ছিল, তা তদন্তে স্পষ্ট হওয়া জরুরি। তবে এসব এখনো অভিযোগ। আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে অভিযুক্তদের দোষী বলা যাবে না। এই বিশ্লেষণ প্রতিবেদনের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা, পুলিশ এসব নিয়ে আলাদা মন্তব্য করেনি।

