ইউরোপের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়তে প্রস্তুত রাশিয়া। ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি মস্কোর কোনো আগ্রাসী মনোভাব নেই দাবি করে সহযোগিতার বার্তাও দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে একই সঙ্গে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতির অভিযোগ তুলে ইউরোপীয় নেতাদের সতর্কও করেছেন তিনি। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সামরিক-শিল্প কমিশনের এক বৈঠকে পুতিন বলেন, ইউরোপের কিছু নেতা রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইউক্রেনের সংঘাত ও রাশিয়ার কথিত হুমকিকে নিজেদের নীতির পক্ষে যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করছেন তারা।
বাল্টিক সাগরে ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক মহড়ারও সমালোচনা করেন পুতিন। তার দাবি, এসব মহড়ায় বেসামরিক জাহাজ দখলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন হলে রাশিয়াও এর জবাব দিতে বাধ্য হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
ইউক্রেনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন রুশ প্রেসিডেন্ট। ইউক্রেনকে ইউরোপীয় মূল্যবোধ, সভ্যতা ও গণতন্ত্রের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরার সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশটিতে নির্বাচন হচ্ছে না।
এছাড়াও ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সামরিক আইন ও যুদ্ধকে ব্যবহার করছে দেশটির সরকার, এমন অভিযোগও করেন তিনি। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলেন পুতিন।
এদিকে রাশিয়ার নতুন রাষ্ট্রীয় অস্ত্র কর্মসূচির অগ্রাধিকারও তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, দেশের পারমাণবিক শক্তি আরও শক্তিশালী করাই প্রধান লক্ষ্য। পুতিনের দাবি, রাশিয়ার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর ৯২ শতাংশ আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত।
বিমান প্রতিরক্ষা জোরদার, ড্রোন ও রোবোটিক ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্রের উন্নয়ন এবং স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ করাকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এই স্যাটেলাইট ব্যবস্থা নজরদারি, নেভিগেশন, যোগাযোগ ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সেনা ও অস্ত্রের তাৎক্ষণিক নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে বলে জানান পুতিন।

