ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যৌথ সামরিক মহড়া ‘যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬’-এ অত্যাধুনিক এম৭৭৭ আল্ট্রা লাইট হাওউৎজার দিয়ে লাইভ ফায়ারিং অনুশীলন করেছে দুই দেশের সেনাবাহিনী। রাজস্থানের মহাজন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে আয়োজিত এই অনুশীলনে আর্টিলারি সক্ষমতার পাশাপাশি দুই বাহিনীর যৌথ সমন্বয় ও যুদ্ধক্ষেত্রের কৌশল প্রদর্শন করা হয়।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় গান ক্রুরা এম৭৭৭ দিয়ে নির্ভুল গোলাবর্ষণ, দ্রুত কামান মোতায়েন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে প্রস্তুতির সক্ষমতা প্রদর্শন করেন। পরে মার্কিন সেনারা হাওউৎজার ইউনিটের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে পরিচালন পদ্ধতি, যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা ও কার্যকর কৌশল বিনিময় করেন।
এই লাইভ ফায়ারিংয়ের আগে বুধবার একই রেঞ্জে এম৭৭৭ হাওউৎজারের ব্যবহার নিয়ে একটি ‘লেকচার-কাম-ডেমনস্ট্রেশন’ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কামান মোতায়েন, স্থানীয় প্রতিরক্ষা সমন্বয়, প্রতিপক্ষের পাল্টা গোলাবর্ষণের সময় বিকল্প অবস্থানে সরে যাওয়া এবং গোলাবর্ষণের পর দ্রুত স্থান পরিবর্তনের ‘শুট অ্যান্ড স্কুট’ কৌশল অনুশীলন করা হয়।
কী বিশেষত্ব এম৭৭৭-এর
এম৭৭৭ একটি ১৫৫ মিলিমিটার হালকা টোড হাওউৎজার। প্রচলিত ভারী কামানের তুলনায় এর ওজন অনেক কম হওয়ায় ট্রাকের পাশাপাশি সামরিক পরিবহন বিমান ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমেও দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এর ওজন ১০ হাজার পাউন্ডের কম এবং দুটি এম৭৭৭ একটি সি-১৩০ পরিবহন বিমানে বহন করা সম্ভব।
এখানে ১৫৫ মিলিমিটার বলতে কামানের গোলার ব্যাস বা ক্যালিবার বোঝায়, পাল্লা নয়। সাধারণ গোলা ব্যবহার করলে এম৭৭৭ প্রায় ২৪ কিলোমিটার এবং রকেট-সহায়িত গোলায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে। জিপিএস-নির্দেশিত এক্সক্যালিবার গোলা ব্যবহার করলে এর পাল্লা প্রায় ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ডিজিটাল ফায়ার কন্ট্রোল ব্যবস্থার কারণে এম৭৭৭ দ্রুত নিজের অবস্থান নির্ধারণ, কামান তাক করা এবং নির্ভুল গোলাবর্ষণ করতে পারে। একই সঙ্গে কয়েক মিনিটের মধ্যে এটি মোতায়েন ও গুটিয়ে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া যায়- যা পাল্টা আর্টিলারি হামলা এড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
২২তম ‘যুদ্ধ অভ্যাস’
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া ‘যুদ্ধ অভ্যাস’-এর ২২তম সংস্করণ শুরু হয়েছে গত ১৫ সেপ্টেম্বর। উত্তরাখণ্ডের অউলি ফরেন ট্রেনিং নোড এবং রাজস্থানের মহাজন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে একযোগে দুই সপ্তাহব্যাপী এ মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুই দেশ থেকেই প্রায় ৬০০ করে সেনাসদস্য এতে অংশ নিয়েছেন।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবারের মহড়ার লক্ষ্য পাহাড়ি ও আধা-পাহাড়ি এলাকায় দুই সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা এবং পারস্পরিক কার্যকারিতা বাড়ানো। পদাতিক বাহিনীর অভিযানের পাশাপাশি ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, নজরদারি ও গোয়েন্দা প্রযুক্তি এবং আধুনিক অস্ত্রব্যবহারের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অউলিতে পাহাড়ি ও শীতকালীন যুদ্ধ, ড্রোন মোকাবিলা এবং যৌথ কমান্ড পর্যায়ের প্রশিক্ষণ চলছে। অন্যদিকে মহাজন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জকে মূলত বিভিন্ন অস্ত্রের লাইভ ফায়ারিং ও আধুনিক যুদ্ধব্যবস্থা প্রদর্শনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মহড়ায় এম৭৭৭-এর পাশাপাশি হিমার্স, স্টিঙ্গার এবং ড্রোন প্রতিরোধী বিভিন্ন ব্যবস্থার প্রশিক্ষণও রয়েছে।
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘যুদ্ধ অভ্যাস’ শুধু অস্ত্রের সক্ষমতা প্রদর্শনের মহড়া নয়; বরং দুই বাহিনীর কৌশল, যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা ও পরিচালন পদ্ধতি বিনিময়ের একটি প্ল্যাটফর্ম। রাজস্থানে এম৭৭৭ হাওউৎজারের সর্বশেষ অনুশীলন সেই যৌথ সামরিক সমন্বয়েরই একটি অংশ।

