Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শুক্র, এপ্রিল 3, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » মহাকাশ প্রতিযোগিতা: বৈশ্বিক শক্তিগুলোর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
    আন্তর্জাতিক

    মহাকাশ প্রতিযোগিতা: বৈশ্বিক শক্তিগুলোর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

    কাজি হেলালফেব্রুয়ারি 2, 2025Updated:ফেব্রুয়ারি 3, 2025
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    মহাকাশ অন্বেষণ মানব সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি। ২০শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যকার মহাকাশ প্রতিযোগিতা প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার প্রতিফলন ছিল। স্নায়ুযুদ্ধের সময় এই প্রতিযোগিতা চাঁদে মানুষের পদার্পণ এবং কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। এই প্রতিযোগিতা প্রকৃতপক্ষে শুরু হয় ১৯৫৫ সালের ২ আগস্ট, যখন মহাকাশ অভিযানে প্রথম সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন নিজেদের কার্যক্রম শুরু করে। প্রযুক্তি, অর্থনীতি এবং ভূ-রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এই প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে উন্নত দেশগুলোর গবেষণা, বাণিজ্যিক উদ্যোগ এবং সামরিক সক্ষমতা। বর্তমানে এই প্রতিযোগিতা নতুন এক মাত্রায় পৌঁছেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারতসহ অনেক দেশই মহাকাশ গবেষণায় ব্যাপক বিনিয়োগ করছে।

    বর্তমান সময়ে মহাকাশ গবেষণা শুধু রাষ্ট্রীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নেই বরং ২০২৩ সালে বিশ্বের অন্যতম ধনকুবের ইলন মাস্কের স্পেসএক্স, ব্লু অরিজিন এবং ভার্জিন গ্যালাকটিকের মতো বেসরকারি সংস্থাগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভবিষ্যতে মহাকাশে কলোনি স্থাপন, খনিজ সম্পদ আহরণ এবং আন্তগ্রহ ভ্রমণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দৌড়ে কে এগিয়ে থাকবে, তা নিয়ে একপ্রকার “নতুন মহাকাশ প্রতিযোগিতা” শুরু হয়েছে।এই প্রতিবেদনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মহাকাশ পরিকল্পনা, তাদের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত ইঙ্গিত দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ পরিকল্পনা: নাসা এবং আর্টেমিস কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের জন্য আর্টেমিস কর্মসূচি চালু করেছে। এর অধীনে আর্টেমিস-৩ মিশন ২০২৬ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে প্রথম নারী ও কৃষ্ণাঙ্গ মহাকাশচারীকে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। আর্টেমিস-১ মিশন ইতোমধ্যে সফলভাবে উৎক্ষেপিত হয়েছে, যা চাঁদের কক্ষপথে মহাকাশযান পরিচালনার সক্ষমতা নিশ্চিত করেছে। মঙ্গল মিশন নাসার আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হলো মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযান। ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে এই মিশন বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। নাসার পারসিভিয়ারেন্স রোভার বর্তমানে মঙ্গল গ্রহে গবেষণা চালাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ধনকুবের ইলন মাস্কের স্বত্বাধীন স্পেসএক্স ও প্রাইভেট স্পেস ইন্ডাস্ট্রি। এই বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স ইতোমধ্যে মহাকাশ অভিযানের খরচ কমিয়ে এনেছে এবং পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট সিস্টেমের (Falcon 9, Starship) উন্নয়ন করছে। ইলন মাস্কের লক্ষ্য ২০৫০ সালের মধ্যে মঙ্গল গ্রহে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ মানব উপনিবেশ স্থাপন করা।

    চীনের মহাকাশ পরিকল্পনা: চীন মহাকাশ গবেষণায় দ্রুত অগ্রগতি করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিযোগী হয়ে উঠেছে। ২০০৩ সালে চীন প্রথমবারের মতো মানুষ পাঠানোর মাধ্যমে মহাকাশ অভিযানে প্রবেশ করে এবং এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে নতুন নতুন সাফল্য অর্জন করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে চন্দ্র অভিযান। চীনের চন্দ্র গবেষণা কর্মসূচি- Chang’e মিশন। চীন ইতোমধ্যে “Chang’e-4” মিশনের মাধ্যমে চাঁদের অন্ধকার পাশে সফলভাবে অবতরণ করেছে এবং “তিয়ানগং” স্পেস স্টেশন মহাকাশে তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার সাক্ষ্য বহন করে। যা বিশ্বের প্রথম সফল অভিযান ছিল। ভবিষ্যতে Chang’e-6 ও 7 মিশনের মাধ্যমে চাঁদে স্থায়ী গবেষণা স্টেশন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। চীন ইতিমধ্যেই চাঁদের মাটি থেকে নমুনা সংগ্রহ এবং মঙ্গলে রোভার পাঠানোর মত সাফল্য অর্জন করেছে।এছাড়াও চীন স্বতন্ত্রভাবে মঙ্গল ও মহাকাশ স্টেশন পরিচালনা করছে এবং সামরিক ও বাণিজ্যিক উপগ্রহ উৎক্ষেপণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। চীনের তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশন বর্তমানে পূর্ণ কার্যকরী অবস্থায় রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। চীনের Tianwen-1 মিশন সফলভাবে মঙ্গলে অবতরণ করেছে, যা দেশটির মহাকাশ গবেষণার সক্ষমতাকে আরও বাড়িয়েছে। চীনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা যেমন: চাঁদে মানব মিশন এবং মহাকাশে শক্তি সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন, চীনের বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

    রাশিয়ার মহাকাশ পরিকল্পনা: রাশিয়া যাদের পূর্বসূরী সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ (স্পুটনিক-১) এবং প্রথম মানুষ (ইউরি গ্যাগারিন) মহাকাশে পাঠিয়েছিল। বর্তমানে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে রাশিয়া মহাকাশ গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। তবে রাশিয়া নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এবং ভবিষ্যতে চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে অভিযান পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে লুনা প্রোগ্রাম। রাশিয়া লুনা-২৫ মিশনের মাধ্যমে চাঁদে রোবটিক অনুসন্ধান পরিচালনার পরিকল্পনা করেছে। তবে মহাকাশ বাজেট সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা কিছুটা ধীরগতির হয়ে পড়েছে।

    ইউরোপ ও ভারতের মহাকাশ পরিকল্পনা: ইউরোপীয় ইউনিয়নের মহাকাশ পরিকল্পনা ক্রমাগত এগিয়ে চলছে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA) চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে গবেষণা মিশন পরিচালনা করছে। তাদের লক্ষ্য চাঁদে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা ঘাঁটি তৈরি করা এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে অভিযানের জন্য অবকাঠামো গড়ে তোলা। এর সাথে পাল্লা দিয়ে ভারতের মহাকাশ গবেষণা কার্যক্রম অগ্রসর হচ্ছে। ভারত মহাকাশ গবেষণায় দ্রুত উন্নতি করছে এবং চন্দ্রযান-৩ মিশন সফলভাবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করেছে। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO ভবিষ্যতে মঙ্গল ও শুক্র গ্রহে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করছে।

    সামরিক প্রতিযোগিতার দিক: মহাকাশ প্রতিযোগিতা এখন শুধু গবেষণা বা বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামরিক শক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। মহাকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বড় দেশগুলো তাদের সামরিক ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই “স্পেস ফোর্স” নামে একটি আলাদা সামরিক শাখা গঠন করেছে। যা মহাকাশে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা ও সুরক্ষিত রাখার দায়িত্বে নিয়োজিত। অন্যদিকে চীন তাদের “অ্যান্টি-স্যাটেলাইট” (ASAT) প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে এমন অস্ত্র তৈরি করেছে যা শত্রু দেশের উপগ্রহ ধ্বংস করতে সক্ষম।

    এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে সামরিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। যদি কোনো দেশ মহাকাশে সম্পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে, তবে তা অন্য দেশের ওপর কৌশলগত ও নিরাপত্তাগত ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। যেমন: গুরুত্বপূর্ণ উপগ্রহ ধ্বংস বা সংকেত জ্যামিংয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত করার শঙ্কা রয়েছে। বিশ্বে সামরিক প্রতিযোগিতার এই দিকটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি। যাতে মহাকাশ একটি শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত ক্ষেত্র হয়ে থাকে।

    উন্নয়নশীল দেশগুলোর সম্ভাবনা: উন্নয়নশীল দেশগুলো মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করছে, যা তাদের বৈশ্বিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে। বিশেষ করে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং বাংলাদেশের মতো দেশগুলো মহাকাশ প্রযুক্তি ও গবেষণায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। ভারতীয় মহাকাশ সংস্থা ইসরো (ISRO) সাশ্রয়ী খরচে মিশন পরিচালনার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তাদের চন্দ্রযান-৩ সফলভাবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করে ইতিহাস গড়েছে। এছাড়া মঙ্গল অভিযানে “মঙ্গলযান” মিশন সাফল্যের মাইলফলক, যা অত্যন্ত কম ব্যয়ে সম্পন্ন করা হয়েছিল। ইসরো এখন চাঁদে বাণিজ্যিক অভিযান এবং মহাকাশ পর্যটন নিয়েও কাজ করছে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাত মহাকাশে নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাদের “হোপ প্রোব” ২০২১ সালে মঙ্গলের কক্ষপথে প্রবেশ করে মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম মঙ্গল মিশন হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করে। ইউএই মহাকাশে মানব মিশন, মহাকাশ স্টেশন কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বে বিনিয়োগ করছে।

    বাংলাদেশও মহাকাশ গবেষণায় ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে। ২০১৮ সালে বঙ্গবন্ধু-১ উপগ্রহ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে দেশটি স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ করে। বঙ্গবন্ধু-১ হলো বাংলাদেশের প্রথম ভূস্থির যোগাযোগ ও সম্প্রচার উপগ্রহ। যা দেশের মহাকাশ অভিযানের নতুন যুগের সূচনা করে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের কৃতিত্ব অর্জন করে। এই সাফল্যের ফলে টেলিযোগাযোগ, টেলিভিশন সম্প্রচার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর এই অগ্রগতি শুধু তাদের নিজস্ব প্রযুক্তি উন্নয়নই নয় বরং আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণায় নতুন সুযোগ তৈরি করছে। সাশ্রয়ী প্রযুক্তি, উদ্ভাবনী প্রকল্প এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই দেশগুলো মহাকাশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে।

    ভবিষ্যতের দৃষ্টি: বিশ্ব এখন ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণা নিয়ে বড় পরিকল্পনা করছে। ২০৪০ সালের মধ্যে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন, মঙ্গলে মানব মিশন পরিচালনা এবং দূরবর্তী গ্রহ ও গ্রহাণুতে অনুসন্ধানের মতো প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাসা এবং চীনের মহাকাশ সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও এসব প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনের মাধ্যমে সেখানে খনিজ সম্পদ আহরণ এবং গবেষণা কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে। মঙ্গলে মানব মিশনের লক্ষ্য শুধু নতুন আবাসস্থল খোঁজা নয়, বরং পৃথিবীর বাইরের প্রাণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা। গ্রহাণু থেকে খনিজ আহরণের পরিকল্পনাও ভবিষ্যতে অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

    তবে এসব প্রকল্পের সম্ভাবনার পাশাপাশি চ্যালেঞ্জও রয়েছে। মহাকাশে স্যাটেলাইটের সংখ্যা বাড়ার কারণে মহাকাশে আবর্জনা দ্রুত বাড়ছে, যা নতুন অভিযানের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। এছাড়া প্রযুক্তির উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং মহাকাশ প্রকল্পে অতি ব্যয় মানবজাতির জন্য আর্থিক এবং পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এই অবস্থায় মহাকাশ প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে টেকসই মহাকাশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে গেলে মানবজাতি মহাকাশ থেকে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারবে।

    মহাকাশ খনিজ অনুসন্ধান ও বাণিজ্যিকীকরণ: মহাকাশে খনিজ অনুসন্ধান বর্তমানে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রহাণু ও চাঁদের খনিজ সম্পদ ভবিষ্যতের মহাকাশ অর্থনীতির ভিত্তি হতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গ্রহাণু খনন প্রকল্প। বিভিন্ন সংস্থা গ্রহাণু থেকে মূল্যবান খনিজ সম্পদ আহরণ যেমন: প্লাটিনাম, হীরা ও হিলিয়াম-৩ করার পরিকল্পনা করছে। ধনকুবের ইলন মাস্কের বেসরকারি সংস্থা স্পেসএক্স ও ব্লু অরিজিন এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ইতোমধ্যে এই বিষয়ে গবেষণা শুরু করেছে।

    মহাকাশ পর্যটন: বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো মহাকাশ পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। ভার্জিন গ্যালাকটিক ও ব্লু অরিজিন ইতোমধ্যে সাধারণ পর্যটকদের মহাকাশে ভ্রমণের সুযোগ দিয়েছে। স্পেসএক্সও ভবিষ্যতে চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছে।

    ভবিষ্যতের মহাকাশ প্রতিযোগিতা: কে এগিয়ে থাকবে? যুক্তরাষ্ট্র বনাম চীন প্রতিযোগিতা। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে মহাকাশ প্রতিযোগিতা সবচেয়ে তীব্র। যুক্তরাষ্ট্রের নাসা ও বেসরকারি সংস্থা স্পেসএক্স মঙ্গল অভিযানের দিকে এগিয়ে গেলেও, চীনের সাম্প্রতিক মহাকাশ অগ্রগতি এই প্রতিযোগিতাকে আরও জটিল করে তুলেছে। বর্তমানে বেসরকারি সংস্থার গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী দশকে বেসরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকা আরও বৃদ্ধি পাবে। স্পেসএক্সের স্টারশিপ মহাকাশযান পুনঃব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ ভ্রমণের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে।

    মহাকাশে প্রতিযোগিতা বৈশ্বিক শক্তিগুলোর জন্য সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ উভয়ই সৃষ্টি করছে। এটি শুধুমাত্র একটি প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নয়, বরং মানবজাতির ভবিষ্যতের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলবে। সঠিক নীতিমালা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং টেকসই প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতাকে ইতিবাচক পথে পরিচালিত করা সম্ভব । যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীনের মতো শক্তিধর দেশগুলো মহাকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য উন্নত প্রযুক্তি এবং নতুন মিশন চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোও তাদের অবস্থান দৃঢ় করছে, যা মহাকাশ গবেষণায় বৈশ্বিক সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করছে। মহাকাশ প্রতিযোগিতা বর্তমানে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং ভূ-রাজনৈতিক শক্তির প্রতিফলন। আগামী দশকে চাঁদ, মঙ্গল গ্রহ এবং মহাকাশ খনিজ অনুসন্ধানে কে নেতৃত্ব দেবে, তা ভবিষ্যতের বিশ্ব ব্যবস্থা অনেকটাই নির্ধারণ করবে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    আরও একটি মার্কিন এফ-৩৫ ভূপাতিতের দাবি ইরানের

    এপ্রিল 3, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ফ্রান্সকে দুষলেন ট্রাম্প, পাল্টা জবাব ম্যাক্রঁর

    এপ্রিল 3, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ইরান যুদ্ধের মধ্যেই মার্কিন সেনাপ্রধানকে সরিয়ে দিল পেন্টাগন

    এপ্রিল 3, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.