উত্তর আটলান্টিকের ছোট্ট সার্ক দ্বীপে বাস করছেন মাত্র ৫০০ জনের কম মানুষ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর হলেও এখানকার বাসিন্দাদের জন্য সুখের খবর নেই—বিদ্যুতের দাম এখন বিশ্বের সর্বোচ্চ। বর্তমানে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৮৬ টাকা, যা বাংলাদেশের গড় দামের তুলনায় প্রায় ১৮ গুণ বেশি।
দ্বীপের সার্ক ইলেকট্রিসিটি লিমিটেড (এসইএল) বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। কোম্পানির মালিক ও পরিচালক অ্যালান উইটনি-প্রাইস জানিয়েছেন, দ্বীপে বিদ্যুতের দাম বাড়ার মূল কারণ হলো সরকারি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা এবং আইনি প্রক্রিয়ার অতিরিক্ত ব্যয়।
সার্কের স্থানীয় সরকার চিফ প্লিয়াজ, ১৮ জন নির্বাচিত সদস্য, ১ জন প্রেসিডেন্ট ও ১ জন উত্তরাধিকারী লর্ড নিয়ে গঠিত। বিদ্যুৎ সরবরাহ সংক্রান্ত যে কোনো পদক্ষেপ সরকার চাইলে আদালতের মাধ্যমে জোরপূর্বক প্রয়োগ করতে পারে। এই অনিশ্চয়তার কারণে বিদ্যুতের দাম স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি।
দ্বীপে কম জনসংখ্যার কারণে এসইএলের তেমন কোনো মুনাফা নেই। গত দুই দশকে বিদ্যুৎ গ্রিডে বিনিয়োগ প্রায় হয়নি, ফলে ডিজেল জেনারেটরের উপর নির্ভরতা বেড়েছে। ডিজেল আগে পার্শ্ববর্তী গার্নসির দ্বীপে নেওয়া হয়, তারপর সার্কে আনা হয়। এর পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা ও পুরোনো অবকাঠামোও দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
বিদ্যুতের দাম নিয়ে দ্বীপবাসী ও এসইএলের মধ্যে সংঘাত নতুন নয়। ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো দাম বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে আসে। ২০১৮ সালে নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রতি ইউনিট ৬৬ পেন্স নির্ধারণ করলেও, কোম্পানি তখন থেকে ক্রয়প্রক্রিয়ায় ধীরগতি ও বাড়তি আইনি খরচ যুক্ত করে দামে বর্ধিত করেছে।
দ্বীপের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও এতে ক্ষতিগ্রস্ত। যেমন একটি রেস্তোরাঁ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ বিল তিনগুণ বেড়ে যাওয়ায় তারা এখন প্রতি সপ্তাহে খোলার সময় পরিবর্তন করছেন। সাধারণ মানুষও এই অবস্থায় অতিষ্ঠ, বিশেষ করে যারা ছোট পরিবার নিয়ে থাকেন।
চিফ প্লিয়াজ সরকার নবায়নযোগ্য শক্তির ওপর ভিত্তি করে নতুন বিদ্যুৎ ব্যবস্থার নকশা তৈরি করছে, যা বাস্তবায়ন হলে দ্বীপে সাশ্রয়ী ও টেকসই বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে। তবে তা বাস্তবায়ন পর্যন্ত আরও কিছু সময় লাগবে।
সার্ক দ্বীপের এই বিদ্যুৎ সংকট প্রমাণ করে, ছোট দ্বীপও আধুনিক সুবিধা পেতে কতটা অবকাঠামো, প্রশাসনিক স্থিরতা এবং পরিকল্পনার উপর নির্ভরশীল।

