মেক্সিকোর মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলজুড়ে টানা কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণ ও ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৪৪ জনে। দেশটির সরকারি হিসাব বলছে, মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লাখো মানুষ, ধ্বংস হয়েছে ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা।
সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুটি উষ্ণমণ্ডলীয় ঝড়ের কারণে সৃষ্ট অতিবৃষ্টিতে পাঁচটি রাজ্যে—ভেরাক্রুজ, পুয়েবলা, হিদালগো, কুয়েরেতারো ও সান লুইস পোতসিতে—ভয়াবহ ভূমিধস ও বন্যা দেখা দিয়েছে।
ভেরাক্রুজে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে—এখানে অন্তত ১৮ জন মারা গেছেন। হিদালগো রাজ্যে ১৬ জন, পুয়েবলায় ৯ জন এবং কুয়েরেতারোতে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
তবে স্থানীয় পত্রিকা এল ইউনিভার্সাল জানিয়েছে, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে—তাদের হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, এবং বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ।
প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন, আর ১৬ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আরও ভূমিধস ও নদীর পানি উপচে নতুন বিপর্যয় ঘটতে পারে।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লিখেছেন, “আমরা কাউকে একা ফেলে রাখব না—প্রত্যেকে সহায়তা পাবে।”

সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, সৈন্যরা রাবারের নৌকা নিয়ে মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে, বন্যার কাদায় ডুবে থাকা বাড়িঘর থেকে উদ্ধারকর্মীরা কোমরসমান পানিতে হেঁটে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন।
এই বছর মেক্সিকোতে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত দেখা গেছে। রাজধানী মেক্সিকো সিটি শুধু জুন মাসেই গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির রেকর্ড করেছে।
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, হারিকেন প্রিসিলা ও ট্রপিক্যাল রেইনস্টর্ম রেমন্ডের অবশিষ্ট অংশই এই ভয়াবহ বৃষ্টিপাতের কারণ। বর্তমানে রেমন্ড ঝড়ের বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ৪৫ কিলোমিটার, যা রবিবারের মধ্যে দক্ষিণ বাজা ক্যালিফোর্না অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে।
দেশজুড়ে এখন আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে, কেউবা ধ্বংসস্তূপের ভেতর হারানো প্রিয়জনের খোঁজে দিন কাটাচ্ছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম বৃষ্টি থেমে গেছে, কিন্তু পানি এবার ঘর ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।”
প্রাকৃতিক এই বিপর্যয় আবারও মনে করিয়ে দিল—জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে দুর্যোগ আর শুধু প্রাকৃতিক নয়, তা হয়ে উঠছে মানবজীবনের নিত্যসঙ্গী।

