ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের কুর্নুল জেলায় ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই ঝরে গেল অন্তত ২০টি প্রাণ। স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোর সাড়ে তিনটার দিকে হায়দরাবাদ থেকে বেঙ্গালুরুগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা খেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে রূপ নেয় দুর্ঘটনাটি।
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় পুরো বাস। ভেতরে আটকা পড়ে প্রাণ হারান বহু যাত্রী। আরও অন্তত ২১ জন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন—নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয় প্রশাসনের।
পুলিশ জানায়, বেসরকারি মালিকানাধীন বাসটি ৪৪ নম্বর জাতীয় মহাসড়ক ধরে দ্রুতগতিতে যাচ্ছিল। চিন্নাটেকুর এলাকায় একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে সেটি বাসের সামনের অংশে আটকে যায়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আগুন ধরে পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন—ঘুমের মধ্যেই অনেকেই দগ্ধ হয়ে মারা যান।
যারা জেগে ওঠেন, তারা প্রাণপণ চেষ্টা করে জানালা ভেঙে বেরিয়ে আসেন। স্থানীয় লোকজন চিৎকার শুনে দৌড়ে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু তখন ততক্ষণে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনের পরিচয় নিশ্চিত হলেও বাকি নয়জনের দেহ এতটাই পুড়ে গেছে যে শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। আহতদের কুর্নুল সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেছেন। তার সন্ধানে অভিযান চলছে। কীভাবে এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটল, সেটি খতিয়ে দেখছে তদন্ত দল।
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নায়ডু বর্তমানে সরকারি সফরে দুবাইয়ে আছেন। সেখান থেকেই তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক জানিয়ে লিখেছেন—
“কুর্নুলে বাস দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই, আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”
তিনি মুখ্যসচিবসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন এবং আহতদের চিকিৎসা ও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
যাত্রার শুরুটা ছিল স্বাভাবিক—কেউ যাচ্ছিলেন কাজের উদ্দেশ্যে, কেউ পরিবার দেখতে, কেউ বা ফিরছিলেন বাড়ি। কিন্তু সেই যাত্রা শেষ হলো আগুনের লেলিহান শিখায়। পোড়া ধাতু, দগ্ধ দেহ আর শোকাহত পরিবারের আর্তনাদই এখন কুর্নুলের আকাশে ভারী হয়ে আছে।

