নিউইয়র্ক নগরের পরবর্তী মেয়র নির্বাচনে আজ শনিবার থেকে আগাম ভোট শুরু হচ্ছে। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জোহরান মামদানিকে এগিয়ে দেখানো হচ্ছে। তিনি শহরের রাজনীতিতে নতুন রূপান্তর আনার পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
জোহরান ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী হলেও অনেকেই তাকে শহরের ‘বহিরাগত’ হিসেবে দেখেন। জুনে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে তিনি অ্যান্ড্রু কুমোর বিরুদ্ধে অভাবনীয় জয় লাভ করেন। ৩৪ বছর বয়সী মামদানি নিজেকে সমাজতান্ত্রিক হিসেবে পরিচয় দেন এবং রাজনীতির অচেনা জগৎ থেকে উঠে এসেছেন। নির্বাচনী প্রচারে বিশেষ করে নিউইয়র্কের তরুণ ভোটারদের ব্যাপক সমর্থন তাকে এগিয়ে এনেছে।
২০২২ সালে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হন বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামস। তবে ঘুষ ও প্রতারণার অভিযোগে এবার তিনি দলীয় প্রার্থী হতে পারেননি এবং পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের লড়াইয়ে অংশ নেন।
মামদানি নির্বাচনী প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, মেয়র নির্বাচিত হলে নিউইয়র্কের ২০ লাখ বাসিন্দার জন্য বাড়িভাড়া স্থির করবেন।
সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী, আর রিপাবলিকান দলের প্রার্থী হলেন ৭১ বছর বয়সী কার্টিস স্লিওয়া। গত ২৮ সেপ্টেম্বর মেয়র অ্যাডামস নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান। পরে তিনি জোহরান মামদানির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কুমোর প্রতি সমর্থন জানান।
সর্বশেষ জরিপে দেখা যায়, মামদানির পক্ষে সমর্থন ৪৭ শতাংশ, যা কুমোর চেয়ে ১৮ পয়েন্ট বেশি। রিপাবলিকান প্রার্থী স্লিওয়ার পক্ষে সমর্থন ১৬ শতাংশ। তবে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক লিংকন মিচেল মন্তব্য করেছেন, অ্যাডামসের সমর্থন প্রকাশ শেষ মুহূর্তে ভোটে তেমন প্রভাব ফেলবে না।
নিউইয়র্কবাসী আজ শনিবার থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত আগাম ভোট দিতে পারবেন। মূল ভোট হবে ৪ নভেম্বর এবং নতুন মেয়র দায়িত্ব গ্রহণ করবেন আগামী বছরের শুরুতে।

