গাজার যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিগুলো ইসরায়েলকে কার্যকরভাবে পালন করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে চাপ সৃষ্টি করতে হবে বলে জানিয়েছেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তিনি এ উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করার মাধ্যমে চাপ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। এরদোগান আরো জানান, গাজার জন্য যা কিছু প্রয়োজন তা দিতে তুরস্ক প্রস্তুত।
তিন দিনের উপসাগরীয় সফর শেষে শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) রাষ্ট্রীয় বিমানে দেশে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এরদোগান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “ইসরায়েলকে তার প্রতিশ্রুতি মানতে বাধ্য করতে হবে—নিষেধাজ্ঞা আর অস্ত্র বিক্রি বন্ধের মাধ্যমে। আমরা ইতোমধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি এবং তা অব্যাহত রাখব।”
গাজার পুনর্গঠন ও তুর্কি সেনার ভূমিকা-
এরদোগান জানান, ‘গাজা টাস্ক ফোর্স’ নিয়ে বহুমাত্রিক আলোচনা চলছে এবং তুরস্ক গাজার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি গাজায় তুর্কি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায় এরদোগান বলেন, “সেনার কাঠামো বা ধরন এখনও নির্ধারিত হয়নি। আমরা প্রাথমিক অবকাঠামোগত কাজ চালাচ্ছি।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “গাজা ইসলামি বিশ্বের জন্য এক বড় পরীক্ষা। গাজার পুনর্জাগরণ শুধুমাত্র ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সম্ভব। একা তুরস্ক, মিশর বা অন্য কোনো উপসাগরীয় দেশ এটি করতে পারবে না।” সফরকালে তিনি বিভিন্ন দেশে বিস্তারিত বৈঠক করেছেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী, গোয়েন্দা প্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য পাঠিয়েছেন। এরদোগান উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—“এখন কথার নয়, কাজের সময়।”
মানবিক সহায়তা-
এরদোগান আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, “গাজা আবার দাঁড়াবে—এতে কেউ সন্দেহ করবেন না।” তিনি গাজার জন্য অবিরাম মানবিক সহায়তার গুরুত্বেও জোর দেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি আগ্রাসনের পর তুরস্ক ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। মানবিক সাহায্য, কূটনৈতিক মধ্যস্থতা এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জবাবদিহি নিশ্চিত করাই দেশের মূল কার্যক্রম।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এটি দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মানবিক অভিযান। তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গাজায় এখন পর্যন্ত ১ লাখ ১ হাজার টনের বেশি সহায়তা পাঠানো হয়েছে। ১৬টি কার্গো জাহাজ এবং ১৪টি বিমান খাদ্য, পানি, তাঁবু, কম্বল, স্বাস্থ্যসামগ্রী ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছে দিয়েছে। এর মধ্যে ২৫ হাজার টন খাদ্য, ৩ হাজার টন পানীয় জল এবং ২৪৭ টন চিকিৎসা সরঞ্জাম রয়েছে।
এরদোগান বলেন, তুরস্ক কখনো মিশরে সাহায্য পাঠানো বন্ধ করেনি এবং সরকারি পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার পাঠানো সহায়তাও গাজায় পৌঁছাচ্ছে। সম্প্রতি “১৭তম কাইন্ডনেস শিপ” এল-আরিশ বন্দরে পৌঁছেছে।

