সুদানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর এল-ফাশার-এ ২ হাজারেরও বেশি বেসামরিক মানুষ হত্যা করার অভিযোগে পরিচিত ‘আবু লুলু’ নামের আধাসামরিক কমান্ডার এখন বিশ্বব্যাপী আলোচনায়। বিদ্রোহী গোষ্ঠী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর এই নেতা স্থানীয়দের কাছে ‘এল-ফাশারের কসাই’ নামে পরিচিত।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে আরএসএফ ও সুদানের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। চলমান ওই সংঘাতে আরএসএফ গত সপ্তাহে উত্তর দারফুরের রাজধানী এল-ফাশার দখল করে। শহর দখলের পরপরই বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়।
আবু লুলুর প্রকৃত নাম আল-ফাতেহ আবদুল্লাহ ইদরিস। তিনি হেমেদতির পরিবারের ঘনিষ্ঠজন ও মাহারিয়া রিজেইগাত গোত্রের সদস্য। পারিবারিক প্রভাব ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে দ্রুতই আরএসএফের বিশেষ বাহিনীতে পদোন্নতি পান। ২০১৩ সালে যোগদানের পর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে ইয়েমেন-এ একাধিকবার পাঠানো হয় তাকে।
সাম্প্রতিক সময়ে আবু লুলু এল-ফাশারে নিজ হাতে হাজারো মানুষ হত্যা করেছেন এবং এসব দৃশ্য টিকটক-এ সরাসরি প্রচার করেছেন। এক লাইভে তিনি অকপটে জানিয়েছেন, ‘আমি ২,০০০ মানুষ হত্যার লক্ষ্য নিয়েছিলাম, হয়তো তার চেয়েও বেশি হয়েছে।’ তার এই বক্তব্যে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। টিকটক পরে তার অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করে।
গত ৩০ অক্টোবর আবু লুলুকে গ্রেপ্তার করা হয়। আরএসএফ-এর প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, হাতকড়া পরানো অবস্থায় তিনি রয়েছেন।
আরএসএফের অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে বলা হয়েছে, ‘নেতৃত্বের নির্দেশে আবু লুলু ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত আরো কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে’। তবে বিদ্রোহী গোষ্ঠী দাবি করেছে, আবু লুলুর সঙ্গে তাদের আর কোনো সম্পর্ক নেই।

