নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানিকে ‘সামান্য’ বা ‘অল্পস্বল্প’ সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৫ নভেম্বর) ফ্লোরিডার মিয়ামিতে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট এই মন্তব্য করেন।
তবে একই বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, মামদানির বিজয়ের ফলে “নিউইয়র্কবাসী তাদের সার্বভৌমত্ব হারিয়েছে”। পাশাপাশি তিনি মামদানিকে পরোক্ষভাবে ‘কমিউনিস্ট’ আখ্যায়িত করে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
ট্রাম্প বলেন, “নিউইয়র্কের জনগণ তাদের সার্বভৌমত্ব হারিয়েছে। আমরা বিষয়টি দেখব। দেখা যাক, মামদানি নিউইয়র্ক কেমন চালান। সম্ভবত তাকে আমরা অল্পস্বল্প সহযোগিতা করব।”
তিনি আরো যোগ করেন, “আমার আশঙ্কা, আমাদের সবচেয়ে বড় শহরটি হয়তো খুব শিগগিরই কমিউনিস্ট হয়ে যাবে। তখন লোকজন দলে দলে ফ্লোরিডায় আসতে শুরু করবে। এখন আমাদের সামনে দুটি পথ— কমিউনিজম অথবা কাণ্ডজ্ঞান।”
ওইদিনই ছিল ট্রাম্পের জন্য বিশেষ একটি দিন— ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজের বিজয়ের এক বছর পূর্তি। সেই নির্বাচনে তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিসকে পরাজিত করেছিলেন।
মিয়ামির ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে আমাদের অর্থনীতি উদ্ধার করেছি, স্বাধীনতা ফিরিয়ে এনেছি এবং সবার প্রচেষ্টায় দেশকে রক্ষা করেছি। আজ আমাদের এই সাফল্যের এক বছর পূর্ণ হলো।”
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্কে এবারের মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনজন— ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোহরান মামদানি, রিপাবলিকান কার্টিস স্লিওয়া এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক মেয়র অ্যান্ড্রু কুওমো।
চূড়ান্ত ফলাফলে মামদানি ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। কুওমো পান ৪২ শতাংশ ভোট এবং স্লিওয়া পান ৮ শতাংশ ভোট। ট্রাম্প প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছিলেন কুওমোকে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফোর্বস জানিয়েছে, মামদানির বিরুদ্ধে প্রচারণায় রিপাবলিকান পার্টি প্রায় আড়াই কোটি ডলার ব্যয় করেছে, যার পেছনে সরাসরি ভূমিকা ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। নির্বাচনের আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, মামদানি জয়ী হলে নিউইয়র্কে কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক বরাদ্দ বন্ধ করে দেবেন।

