যুক্তরাষ্ট্র তিন দেশের চারটি সংগঠনকে সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এটি বামপন্থি সহিংসতার আন্তর্জাতিক ঢেউ মোকাবিলার অংশ হিসেবে করছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জার্মানির ‘ইন্তেফা ওস্ট’, ইতালিভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল রেভল্যুশনারি ফ্রন্ট’ এবং গ্রিসের দুটি সংগঠন ‘আর্মড প্রোলেটারিয়ান জাস্টিস’ ও ‘রেভল্যুশনারি ক্লাস সেলফ ডিফেন্স’ মার্কিন নজরদারিতে রয়েছে। এই গোষ্ঠীগুলো পশ্চিমা সভ্যতার ভিত্তি দুর্বল করার জন্য নৃশংস হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘোষণার ফলে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরো কঠোর নজরদারি, আর্থিক পর্যবেক্ষণ এবং অন্যান্য বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে যারা এসব গোষ্ঠীর সমর্থক বা সহানুভূতিশীল হিসেবে বিবেচিত হবেন, তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের নজরদারি করা সম্ভব হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এসব গোষ্ঠী বিপ্লবী অরাজকতাবাদী বা মার্কসবাদী মতাদর্শ অনুসরণ করে। এদের মধ্যে অ্যান্টি-আমেরিকানিজম, অ্যান্টি-ক্যাপিটালিজম এবং অ্যান্টি-খ্রিস্টানিটি রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ঘোষণার পর মার্কিন নাগরিকদের জন্য এসব সংগঠন বা তাদের সদস্যদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন বেআইনি হবে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জার্মানির ইন্তেফা কোনো পূর্ণাঙ্গ সংগঠন নয়—এর কোনো কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, সদস্যপদ বা কাঠামো নেই। গ্রিসের পিরেয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক ইমেরিটাস অধ্যাপক মেরি বোসিস বলেন, অ্যান্টিফাসিস্ট কর্মীদের সঙ্গে সহিংস উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর মিল করা ‘সম্পূর্ণ ভুল’।
তিনি দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, গ্রিসে ইন্তেফা আন্দোলন কখনোই সন্ত্রাসী কৌশল ব্যবহার করেনি। তারা নির্বাচনে অংশ নেয় এবং তাদের কর্মকাণ্ডে সহিংসতার কোনো প্রমাণ নেই। ইউরোপের ইন্তেফা কর্মীদের অনলাইন বার্তাগুলোতেও সহিংস ভাষা দেখা যায় না, যা ডানপন্থি গোষ্ঠীতে প্রায়শই লক্ষ্য করা যায়।
বোসিস মন্তব্য করেন, মার্কিন রাজনীতিতে এই অতিরিক্ত রক্ষণশীলতা দুঃখজনক। মনে হচ্ছে এটি বিশ্বের মানুষকে ‘ভালো ডানপন্থি’ ও ‘খারাপ বামপন্থি’ হিসেবে ভাগ করার একটি কৌশল, যদিও মধ্যম-বাম বা প্রগতিশীলরা কখনো সহিংসতার পক্ষে নয়।

