যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যপণ্যের বাড়তি মূল্যে সাধারণ জনগণের ক্ষোভ চরমে ওঠার পর কফি, গরুর মাংস, কলা, কমলার রসসহ দুই শতাধিক পণ্যের ওপর আরোপ করা শুল্ক প্রত্যাহার করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বৃহস্পতিবার এই শুল্ক প্রত্যাহারের নির্দেশে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প এবং দেশজুড়ে তা সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়।
শুক্রবার এয়ারফোর্স–১ বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “কিছু খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছিল। দাম নিয়ন্ত্রণে আনতেই আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। অনেকে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা করছেন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে কোনো মূল্যস্ফীতি নেই।”
উল্লেখ্য, শপথ গ্রহণের প্রায় আড়াই মাসের মাথায় গত ২ এপ্রিল বিশ্বের শতাধিক দেশের ওপর বর্ধিত রপ্তানি শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি এই নীতিকে তখন ‘যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে শুল্ক বাড়ানোর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহু দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মার্কিন বাজারে এসব দেশের খাদ্য ও কৃষিজ পণ্যের উপস্থিতি কমে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশটির খাদ্যপণ্যের বাজারে—বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করে।
এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও কৃষিপণ্যের অন্যতম সরবরাহকারী। এসব অঞ্চলের প্রায় সব দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়—যা ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির চাপ বাড়িয়ে দেয়।
কনজ্যুমার প্রাইস ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের কিমার দাম বেড়েছে ১৩ শতাংশ এবং স্টেকের দাম বেড়েছে ১৭ শতাংশ। এছাড়া কলার দাম ৭ শতাংশ, টমেটোর দাম ১ শতাংশ এবং সার্বিক খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে ২.৭ শতাংশ।
ফুড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন শুল্ক প্রত্যাহারকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এই সিদ্ধান্তে ভোক্তা, আমদানিকারক, উদ্যোক্তা এবং খাদ্য সরবরাহ চেইনের সঙ্গে যুক্ত সবাই উপকৃত হবে।
এদিন এয়ারফোর্স–১–এ সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করেন ভবিষ্যতে তার শুল্কনীতিতে আরও পরিবর্তন আসবে কি না। জবাবে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় না এখন আর পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে। আমরা শুধু একটু পিছিয়ে এসেছি। কফির দাম বেশ বেড়েছিল, খুব দ্রুতই তা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে।”

