অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করে ইসরায়েল যুদ্ধাপরাধ করেছে—এমন অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দখলকৃত এলাকায় সামরিক অভিযান চালিয়ে তিনটি শরণার্থী শিবির থেকে প্রায় ৩২ হাজার ফিলিস্তিনিকে জোর করে সরিয়ে দিয়েছে ইসরায়েল, যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধের শামিল। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ তথ্য প্রকাশ করে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে ইসরায়েলের কথিত “অপারেশন আয়রন ওয়াল”-এর বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়। ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে পরিচালিত এই অভিযান শুরু হয় ২১ জানুয়ারি জেনিন শরণার্থী শিবিরে। পরে তা তুলকারেম, নুর শামসসহ পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের আরও কয়েকটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এইচআরডব্লিউ-এর হিসাবে, তিনটি শিবিরের প্রায় ৩২ হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে এলাকা ছাড়ে—১৯৬৭ সালের পর পশ্চিম তীরে এটিই সবচেয়ে বড় উচ্ছেদ।
উচ্ছেদ হওয়া নাদিম এম, ৬০ বছর বয়সী চার সন্তানের জনক, বলেন যে ইসরায়েলি সেনারা প্রথমে তাকে জিপ-টাই দিয়ে বেঁধে তার বাড়ি তল্লাশি করে। এরপর তাকে ও পরিবারকে স্থান ছাড়তে বলা হয়। সেনারা সতর্ক করে জানায়, তারা যদি পাশের দিকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করে, তবে আশপাশের উঁচু স্থানে অবস্থান নেওয়া স্নাইপাররা গুলি করবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি বাহিনী ৮৫০টি ফিলিস্তিনি বাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা ধ্বংস করেছে। কিন্তু সাধারণ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, এমনকি প্রতিবন্ধী মানুষের প্রয়োজনও বিবেচনায় আনা হয়নি।
সংস্থাটি জানায়, দখলকৃত অঞ্চলের আইন লঙ্ঘন করে জোর করে মানুষের বসবাস পরিবর্তন করা হয়েছে—যা যুদ্ধাপরাধ। তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ “জোরপূর্বক জনসংখ্যা স্থানান্তর এবং সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘন”, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধান অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।
এইচআরডব্লিউ ইসরায়েলকে ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করতে, উচ্ছেদ হওয়া মানুষদের ফেরার সুযোগ দিতে, মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে এবং জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের তদন্তে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান ডুজারিক বলেন, তারা এই প্রতিবেদনের বিষয়ে অবগত। তাঁর ভাষ্যে, পশ্চিম তীরে যা ঘটছে, জাতিসংঘ দীর্ঘদিন ধরে সে বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে—ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে ব্যক্তিগত ও প্রকাশ্যে উভয়ভাবেই সতর্ক করা হয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় গণহত্যা শুরুর পর পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের আগ্রাসন আরও বেড়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনা ও সশস্ত্র বসতকারীদের হামলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭৬ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ১০ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি। এছাড়া ২০ হাজার ৫০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনিকে অপহরণ করা হয়েছে।
চলতি বছরের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) মতামত দেয় যে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব অবৈধ। আদালত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের সব বসতি খালি করার নির্দেশও দেয়।

