যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকলেও দক্ষিণ লেবাননে আবারও হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে অন্তত ৬ জন নিহত এবং আরও ১৭ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৫ এপ্রিল) লেবানন-এর রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলের কানতারা, কুসাইর, ওয়াদি হাসান, ইয়াহমোর আল-শাকিফ এবং হউলা এলাকায় ভারী গোলাবর্ষণ চালানো হয়। ইয়াহমোর আল-শাকিফ শহরে ড্রোন হামলায় একটি মোটরসাইকেল ও ট্রাক লক্ষ্য করে আঘাত হানা হলে সেখানে ৪ জন নিহত হন। এছাড়া বিনত জবেইল জেলার সাফাদ আল-বাত্তিখ শহরে বিমান হামলায় আরও ২ জন প্রাণ হারান এবং ১৭ জন আহত হন।
এদিকে দখলকৃত খিয়াম শহরে ইসরাইলি বাহিনী বিস্ফোরক ব্যবহার করে ঘরবাড়ি ধ্বংসের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, শনিবার সকাল থেকেই রাজধানী বৈরুত-এর আকাশে নিচ দিয়ে ইসরাইলি ড্রোন উড়তে দেখা গেছে, যা নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
এর আগে ২৩ এপ্রিল ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানোর ঘোষণা দেন। তারও আগে ১৬ এপ্রিল ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। তবে শুরু থেকেই এই যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে ইসরাইলের বিরুদ্ধে।
লেবানন কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। বিশেষ করে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলার পর পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না। বরং মাটিতে সংঘাত অব্যাহত থাকায় একটি স্থায়ী সমাধান কতটা সম্ভব—তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

