লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েল একটি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে। রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলীয় দাহিয়েহ এলাকায় পরিচালিত এই হামলায় হিজবুল্লাহর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার হায়সম আলি তাবাতাবাই নিহত হয়েছেন। রবিবারের এই ঘটনায় অন্তত ৫ জন মারা গেছেন। সোমবার (২৪ নভেম্বর) এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
খবরে উল্লেখ করা হয়, দাহিয়েহ এলাকার হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্য ছিলেন তাবাতাবাই। ঘটনাস্থলে দু’টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যা ভবনের পার্কিং, গাড়ি এবং আশপাশের স্থাপনাগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করে। পরে হিজবুল্লাহর এক বিবৃতিতে তাবাতাবাইয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। যদিও বিবৃতিতে তার সুনির্দিষ্ট পদ উল্লেখ করা হয়নি, তাকে “মহান কমান্ডার” হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের অভিযানে তাবাতাবাইকে “নিষ্ক্রিয়” করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, হামলার মূল লক্ষ্যই ছিলেন তিনি। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের যুদ্ধের পর তাবাতাবাইকে হত্যার এটি ছিল তৃতীয় প্রচেষ্টা।
হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মাহমুদ ক্বোমাতি বলেন, এই হামলা “রেড লাইন অতিক্রম করেছে” এবং নেতৃত্ব এখন প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তার ভাষায়, দক্ষিণ উপশহরে এই আক্রমণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের উত্তেজনার দরজা খুলে দিয়েছে।
১৯৬৮ সালে বৈরুতে জন্ম নেওয়া তাবাতাবাইয়ের বাবা ইরানি এবং মা লেবানিজ। দক্ষিণ লেবাননে বেড়ে ওঠা তাবাতাবাই মাত্র ১২ বছর বয়সে হিজবুল্লাহতে যোগ দেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় আরও ২৮ জন আহত হয়েছেন।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা এনএএ জানায়, হারেত হ্রেইক এলাকার আল-আরিদ স্ট্রিটে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ভবনের একাংশ ধসে পড়ে এবং আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বৈরুত থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক জেইনা খোদর বলেন, ইসরায়েলের “দমন-পীড়ন আরও বাড়তে পারে” বলে লেবাননে উদ্বেগ বাড়ছে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে হিজবুল্লাহ অত্যন্ত জটিল অবস্থায় রয়েছে। তারা যদি জবাব না দেয়, তবে আরও আক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আবার প্রতিক্রিয়া জানালে আরও ব্যাপক ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কা রয়েছে, যা সংগঠনের সমর্থকদেরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলি রিজক জানান, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—হিজবুল্লাহ তাদের প্রতিক্রিয়া কীভাবে সাজাবে। তার মতে, সংগঠনটি সম্ভবত নেতানিয়াহুকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে যাওয়ার অজুহাত দিতে চাইবে না, কারণ এতে লেবাননের ক্ষতি আরো বেড়ে যেতে পারে এবং রাজনৈতিকভাবে নেতানিয়াহুর লাভ হতে পারে।

