আয়ারল্যান্ড দ্রুত বেড়ে চলা জনসংখ্যা ও আশ্রয়প্রার্থীর চাপ মোকাবেলায় কঠোর অভিবাসন নীতি গ্রহণ করেছে। দেশটির বিচারমন্ত্রী জিম ও’কালাহান বুধবার নতুন এই সংস্কারের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার উদ্বেগজনক এবং সরকারি আবাসন ও অন্যান্য পরিষেবা খাতে চাপ সৃষ্টি করছে।
আয়ারল্যান্ডের জনসংখ্যা চলতি বছরের এপ্রিলে প্রায় ৫৪ লাখ ৬০ হাজারে পৌঁছেছে। গত বছর দেশটির জনসংখ্যা ১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় বৃদ্ধির তুলনায় সাত গুণ বেশি। এর সঙ্গে নিট অভিবাসনও দ্বিগুণ হয়েছে; বছরে গড়ে ৭২ হাজার অভিবাসী দেশটিতে আসছেন। এতে মূল ভূমিকা রেখেছেন কর্মসংস্থান ভিসা, পরিবার পুনর্মিলন ভিসা এবং ইউক্রেন থেকে আসা শরণার্থীরা।
আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে প্রায় ১৮ হাজার ৬৫১ জন আশ্রয় চেয়েছেন, যা আগের বছরের ১৩ হাজার ২৭৬ জনের তুলনায় অনেক বেশি। এই বৃদ্ধির কারণে আয়ারল্যান্ডে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা দেখা গেছে।
নতুন অভিবাসন নীতির আওতায় চাকরিতে নিয়োজিত আশ্রয়প্রার্থীদের রাষ্ট্রীয় আবাসন ব্যয়ে তাদের সাপ্তাহিক আয় থেকে ১০ থেকে ৪০ শতাংশ দিতে হবে। পরিবার পুনর্মিলনের জন্য ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকার বাইরে থেকে কেউ আত্মীয় আনতে চাইলে বছরে কমপক্ষে ৪৪ হাজার ইউরো আয় এবং যথাযথ আবাসনের প্রমাণ দেখাতে হবে।
শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রাপ্তির নিয়মও কঠোর করা হয়েছে। আগে নাগরিকত্বের জন্য তিন বছর আয়ারল্যান্ডে বসবাসের শর্ত থাকলেও এখন তা পাঁচ বছরে বৃদ্ধি পাবে। দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক কল্যাণ ভাতা নেওয়া ব্যক্তিরা নাগরিকত্বের যোগ্য হবেন না।
এছাড়া, কোনো ব্যক্তি যদি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বা গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন, তবে সরকারের অধিকার থাকবে তাঁর আশ্রয়ের মর্যাদা বাতিল করার। কিছু শিক্ষা কর্মসূচি দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের জন্য অপব্যবহৃত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করে সরকার শিক্ষার্থী ভিসায় কঠোরতা আনার কথা বিবেচনা করছে।

