বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে- এয়ারবাস পরিচালিত উড়োজাহাজগুলোতে সফটওয়্যারজনিত ত্রুটি চিহ্নিত হওয়ায়। সৌর বিকিরণের প্রভাবে বিমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার তথ্য বিকৃত বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন ঝুঁকি বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটি জরুরিভিত্তিতে তাদের মোট ৬ হাজার উড়োজাহাজের সফটওয়্যার আপডেটের নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষভাবে এ৩২০ মডেলের বিমানের প্রতি নজর দিতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময় শনিবার ২৯ নভেম্বর থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস এ সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে ফ্লাইট বাতিল বা সময় পরিবর্তনের ঘোষণা দিতে শুরু করেছে যা বৈশ্বিক বিমান পরিবহন ব্যবস্থায় সাময়িক অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলস্বরূপ যাত্রীরা ভ্রমণসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ছেন যদিও এখনো বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচল পুরোপুরি ব্যাহত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন সতর্ক অবস্থায় সব পক্ষকেই কাজ করতে হবে।
গত অক্টোবরেই প্রথম বড় ধরনের ত্রুটি ধরা পড়ে। মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী জেটব্লু এয়ারক্রাফটের একটি ফ্লাইট মাঝআকাশে হঠাৎ নিচের দিকে নেমে এলে পাইলট বাধ্য হয়ে জরুরি অবতরণ করান। তদন্তে পরবর্তীতে জানা যায় সৌর বিকিরণের কারণে বিমানের কম্পিউটার সিস্টেমের উচ্চতা নিয়ন্ত্রণকারী গুরুত্বপূর্ণ একটি ডাটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল আর সেটিই আকস্মিক উচ্চতা হ্রাসের মূল কারণ হিসেবে উঠে আসে। ওই বিমানের নির্মাতা ছিল এয়ারবাস এরপরই ব্যাপক নিরাপত্তা পর্যালোচনা ও সমাধান প্রক্রিয়া শুরু করে কোম্পানিটি।
পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি জরুরি নোটিশ দিয়ে ছয় হাজার বিমান সফটওয়্যার পুনঃনিরীক্ষণ ও আপডেটের নির্দেশ দেয়। এয়ারবাস জানায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরোনো ও স্থিতিশীল সংস্করণে ফিরে গেলে ত্রুটি দূর করা সম্ভব হচ্ছে। একটি বিমান সম্পূর্ণ সফটওয়্যার আপডেট করতে গড়ে দুই ঘণ্টা সময় লাগছে। তবে কিছু উড়োজাহাজে হার্ডওয়্যারও পরিবর্তন করতে হতে পারে যদিও সংখ্যাটি তুলনামূলকভাবে কম বলে জানানো হয়েছে ফলে সংশ্লিষ্ট মডেলের অংশগুলো প্রতিস্থাপনে সময় আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে এই সিদ্ধান্ত একদিকে বিমান নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিলেও অন্যদিকে স্বল্পমেয়াদে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সিডিউলে ব্যাপক সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে। ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দর ফ্লাইট ব্যবস্থাপনায় সতর্কবার্তা জারি করেছে এবং প্রতিটি ফ্লাইট টেকঅফের আগে সফটওয়্যার স্ট্যাটাস যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে।
সব মিলিয়ে বৈশ্বিক বিমান চলাচলে ঝুঁকি এড়াতে আগাম নিরাপত্তা উদ্যোগই এখন মূল লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে কোনো বিমান সফটওয়্যার ত্রুটির ঝুঁকি থাকলে তা সাময়িক স্থগিত করাই উত্তম যাতে ভবিষ্যৎ দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

