ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গতকাল শুক্রবার তাঁর প্রভাবশালী চিফ অব স্টাফ ও শীর্ষ মধ্যস্থতাকারী আন্দ্রি ইয়ারমাককে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। পদক্ষেপটি নেওয়া হয় যখন গোয়েন্দারা ইয়ারমাকের বাসায় অভিযান চালান এবং দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু করে।
ইয়ারমাককে অপসারণ করা হলো এমন সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে একটি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। তবে ইউক্রেনের আশঙ্কা, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কিয়েভকে রাশিয়াকে বড় ছাড় দিতে হতে পারে। রাশিয়া পূর্ব ইউক্রেনে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইয়ারমাক জ্বালানি খাতে ১০ কোটি ডলারের ঘুষ কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত। চলতি মাসের শুরুর দিকে তদন্তকারীরা এই তথ্য উন্মোচন করেন। জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা (এনএবিইউ) এবং বিশেষায়িত দুর্নীতিবিরোধী প্রসিকিউটর অফিস (এসপিও) এর অংশ হিসেবে ইয়ারমাকের বাসায় অভিযান চালিয়েছে। ইয়ারমাক বলেছেন, তিনি সংস্থাগুলোর তদন্তে পুরোপুরি সহযোগিতা করছেন।
ইয়ারমাক অপসারণের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনায় ইউক্রেনের পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব বাতিল হয়েছে। এর পরিবর্তে নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি রুস্তেম উমেরভ আলোচনায় নেতৃত্ব দেবেন।
জেলেনস্কি একটি ভিডিও বার্তায় বলেছেন, “ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে। কার্যালয়ের প্রধান ইয়ারমাক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।” পরে তিনি ইয়ারমাককে বরখাস্তের অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করেন।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, নতুন চিফ অব স্টাফ নিয়োগের বিষয়ে আজ শনিবার আলোচনা করবেন এবং এই কেলেঙ্কারির মুখে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

