হরমুজ প্রণালির ব্যস্ত জলপথ থেকে লাখ লাখ লিটার চোরাই জ্বালানিসহ একটি জাহাজ আটক করেছে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। জাহাজটিতে ছিলেন ১৩ জন নাবিক, যাদের মধ্যে ১২ জনই ভারতীয় নাগরিক।
রোববার (৩০ নভেম্বর) বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গণমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, এসওয়াতিনি পতাকাবাহী জাহাজটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে আইআরজিসি সেটি থামিয়ে দেয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, জাহাজটিতে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার লিটার চোরাচালানি জ্বালানি বহন করা হচ্ছিল। আটক করার পর জাহাজটিকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বুশেহর বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়।
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চোরাচালানি জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ সমুদ্রপথ দিয়েই বৈশ্বিক তেল ও তরল গ্যাস পরিবহন হয়, আর সেই পথটিকেই ব্যবহার করে বিভিন্ন পক্ষ অবৈধ জ্বালানি পাচারের চেষ্টা চালায়।
ঘটনাটি এ মাসে আইআরজিসির দ্বিতীয় এমন অভিযান। কয়েক সপ্তাহ আগেই তারা মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী ‘তালারা’ নামের একটি তেল ট্যাঙ্কার আটক করেছিল। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ট্যাঙ্কার ও ২১ জন নাবিককে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ইরানি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছিল, তালারা ট্যাঙ্কারের কার্গোতে ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য ছিল, যা নিয়মবহির্ভূতভাবে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবে ইরান স্পষ্ট জানায়—এই ধরনের অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং সম্পূর্ণভাবে আইনগত ব্যবস্থার অংশ।
হরমুজ প্রণালিতে বাড়তে থাকা চোরাচালান ইরানের জন্য বেশ বড় মাথাব্যথা হয়ে উঠেছে, আর সেই কারণেই অভিযানগুলো আরও জোরদার করা হচ্ছে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

