ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি প্রথমে গোপন থাকলেও পরে রোববার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প নিজেই তা স্বীকার করেন। তবে তাঁদের কথোপকথনের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প শুধু বলেন, “আমি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না। উত্তরটা হলো—হ্যাঁ, হয়েছে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে অবস্থানরত অবস্থায় সাংবাদিকেরা তাঁকে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের মাঝে এই ফোনালাপ নিয়ে জানতে চান। সেই মুহূর্তেই ট্রাম্প স্বীকার করেন যে আলাপ হয়েছে, কিন্তু আলোচনার বিষয়বস্তু প্রকাশে অনীহা জানান।
এর আগেই মার্কিন দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প এবং মাদুরোর মধ্যে ফোনালাপ হয় এবং দুই দেশের সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়ে আলোচনা চলে। ট্রাম্পের স্বীকারোক্তি আসলো সেই সংবাদ প্রকাশের পরই।
এদিকে ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কঠোর হয়ে উঠেছে। একদিকে ওয়াশিংটন কারাকাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে, অন্যদিকে আবার কূটনৈতিক সম্ভাবনার দরজাও পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে ইঙ্গিত মিলছে। মাত্র একদিন আগেই ট্রাম্প বলেছিলেন, “ভেনেজুয়েলার ওপর এবং আশপাশে আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ বলে বিবেচনা করতে হবে।”
তবে ‘আকাশসীমা বন্ধ’ ঘোষণা আদৌ কোনো সামরিক অভিযান বা হামলার পূর্বাভাস কি না—সেই প্রশ্নে ট্রাম্প বিস্তারিত জানাননি। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে কি না, তা নিয়ে কারাকাসে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে ট্রাম্প বলেন, “এ নিয়ে বাড়িয়ে কিছু ভাবার দরকার নেই।”
সাম্প্রতিক মাসগুলোয় ক্যারিবীয় অঞ্চলে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌকায় যুক্তরাষ্ট্র একাধিক হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, মাদক পাচার তদারকিতে ভেনেজুয়েলার ভূমিকা রয়েছে এবং সে কারণে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। এমনকি ভেনেজুয়েলার ভেতরে সিআইএ গোপন অভিযান পরিচালনার অনুমোদনও দিয়েছেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন নিকোলা মাদুরো। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, ট্রাম্প তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে চান এবং সেই পরিকল্পনা রুখতে ভেনেজুয়েলার জনগণ সঙ্গে থাকবে দেশটির সামরিক বাহিনীও। তাঁর ভাষায়, “ভেনেজুয়েলাকে অস্থিতিশীল করার সব প্রয়াসের বিরুদ্ধে জনগণ ও সেনাবাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।”

