রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘ স্থবিরতায় কিয়েভ এখন কঠিন চাপে পড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন শর্তও সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইউক্রেন হয় মস্কোর সঙ্গে সমঝোতায় ফিরবে নয়তো যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাইলে ওয়াশিংটনের সহায়তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
সংবাদমাধ্যম আরটির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইউক্রেনকে দেওয়া মার্কিন সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়ে ট্রাম্প এখন কঠোর অবস্থানে।
এই অবস্থানের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রোববার প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “ইউক্রেনের কিছু গুরুতর সমস্যা রয়েছে এবং সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো দুর্নীতি। কিয়েভ বারবার আশ্বাস দিলেও দুর্নীতি থামাতে পারছে না। বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ইউক্রেনই দায়ী, কারণ দুর্নীতি এখন তাদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা।”
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ইউক্রেনকে বিপুল আর্থিক সহায়তা এবং অস্ত্র দিয়েছে; যার পরিমাণ গত তিন বছরে হাজার হাজার কোটি ডলার। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সহায়তার বড় একটি অংশ লুটপাট হয়েছে এবং তাতে জড়িত ছিলেন দেশটির উচ্চপদস্থ সরকারি ও সেনা কর্মকর্তারা।
গত নভেম্বরেও জ্বালানি খাতে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বরখাস্ত করেন আইনমন্ত্রী হারম্যান হালুশোঙ্কো এবং জ্বালানিমন্ত্রী ভিতলানা গ্রিনচুককে।
অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা অন্তত ১০ কোটি ডলার ঘুষ বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শুধু তাই নয়, জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার তিমুর মিনদিচকেও ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পুরো ঘুষ চক্রের কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন মিনদিচ।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে জনরোষ স্বীকার করে জেলেনস্কি বলেন, জ্বালানি খাতে প্রতিটি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত জরুরি এবং দুর্নীতিবিরোধী প্রতিটি তদন্তে তাঁর সমর্থন থাকবে। এ ঘটনাকে ইউক্রেনের রাজনীতিতে বড় সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিজের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বরখাস্ত ও জবাবদিহিতে আনাকে অনেকে জেলেনস্কির জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন, যদিও এ বিষয়ে দুর্নীতিবিরোধী কর্মী, বিরোধী রাজনীতিক এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তারা তাঁর প্রতি কঠোর অবস্থান নিতে আহ্বান জানিয়েছিলেন।

