ফিলিস্তিন স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের একমাত্র সমাধান বলে জানিয়েছেন, রোমান ক্যাথলিক চার্চের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ লিও চতুর্দশ। রোববার তুরস্ক থেকে লেবানন যাওয়ার পথে বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
পোপ লিও বলেছেন, “আমরা সবাই জানি, বর্তমানে ইসরায়েল এখনও এই সমাধান গ্রহণ করেনি। তবে আমরা এটিকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখি।” তিনি পুনরায় ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি ভ্যাটিকানের সমর্থন প্রকাশ করেছেন।
তিনি আরো বলেছেন, “আমরা ইসরায়েলেরও বন্ধু এবং দুই পক্ষের মধ্যে ন্যায়সঙ্গত সমাধানের জন্য মধ্যস্থতা করার চেষ্টা চালাচ্ছি।” ইতালীয় ভাষায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি ন্যায়সঙ্গত সমাধানের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন পক্ষ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে থাকলেও তিনি এর বিরোধিতা করছেন।
পোপের এই মন্তব্য তার প্রথম বিদেশ সফরের সময়ে এসেছে। গত মে মাসে তিনি ১৪০ কোটি সদস্যের ক্যাথলিক চার্চের প্রধান নির্বাচিত হন। তুরস্ক সফরের সময় তিনি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে তুরস্কের মধ্যস্থতামূলক ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করেছেন।
পোপ সতর্ক করে বলেছেন, “বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে একযোগে রক্তক্ষয়ী সংঘাত মানবজাতির ভবিষ্যতকে বিপন্ন করছে। ধর্মের নামে সহিংসতা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” চলতি বছরের শুরুর দিকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে তিনি সমালোচনা করেছিলেন।
পোপ লিও তুরস্কে ধর্মীয় সহাবস্থানের উদাহরণ তুলে ধরেছেন এবং বলেছেন, বিভিন্ন ধর্মের মানুষ শান্তিতে সহাবস্থান করতে পারে। এটাই সেই উদাহরণ, যা বিশ্বজুড়ে অনুসরণীয়।
মঙ্গলবার পর্যন্ত লেবাননে অবস্থান শেষে তিনি রোমে ফিরে যাবেন।

